Home > অন্যান্য > স্টিফেন হকিং এর সাক্ষাৎকার:

স্টিফেন হকিং এর সাক্ষাৎকার:

টাইমস ম্যাগাজিনের দশটি প্রশ্নের
আলোকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ
পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর
মতামত নিচে তুলে ধরা হলো:১. যদি
ঈশ্বরের অস্তিত্ব নাই থাকে তবে কেন
বিশ্বজুড়ে তার অস্তিত্বের কথা স্বীকার
করা হয়?
– আমি বলছি না যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব
নেই। আমরা পৃথিবীতে আছি বলেই
মানুষেরা ঈশ্বরকে স্মরণ করে। কিন্তু আমি
মনে করি ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে
পদার্থবিদ্যার সূত্রমতে ঈশ্বর
অস্তিত্বহীন।
২. মহাবিশ্বের কি পরিসমাপ্তি ঘটবে?
যদি ঘটে তবে নেপথ্যের কারণ কি?
– পর্যবেক্ষণ নির্দেশ করে যে মহাবিশ্ব
ক্রমাগত সম্প্রসারণশীল। এটা বেড়েই
চলবে শূণ্যতা ও অন্ধকার বাড়ার সাথে
সাথেই। যদিও মহাবিশ্বের পরিসমাপ্তি
নেই, কিন্তু মহাবিস্ফোরণের একটা শুরু
ছিল। কেউ অবশ্য প্রশ্ন করতেই পারেন এর
পূর্বে কি ছিল? উত্তর হচ্ছে এর আগে কিছুই
ছিল না, যেমন দক্ষিন মেরুর দক্ষিনে কিছুই
নেই।
৩. আপনি কি মনে করেন যে দূরবর্তী
মহাকাশে যাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘকাল
আমাদের সভ্যতা টিকে থাকতে পারবে?
– আমি মনে করি সৌরজগতে বসতি
স্থাপনের জন্য টিকে থাকার মত আমাদের
ভাল সুযোগ রয়েছে। যদিও সৌরজগতের অন্য
কোথাও পৃথিবীর মত উপযুক্ত জায়গা নেই।
তাই এটি পরিষ্কার নয় যদি পৃথিবী
বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে তখন আমরা
কিভাবে টিকে থাকব? আমাদের
দীর্ঘকাল টিকে থাকা নিশ্চিত করতে
আমাদের অন্য নক্ষত্রে পৌঁছতে হবে।
এজন্য অনেক সময় প্রয়োজন, সে পর্যন্ত
আশা করতে পারি।
৪ যদি আইনস্টাইনের সাথে কথা বলার
সুযোগ পেতেন তবে তাকে কি বলতেন?
– আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম কেন
তিনি কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বিশ্বাস করতেন
না। তার আপেক্ষিক তত্ত্বের ফিল্ড
সমীকরণ নির্দেশ করে একটি বৃহৎ নক্ষত্র
কিংবা গ্যাসীয় মেঘ নিজে নিজেই
সংকুচিত হয়ে কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি করে।
আইনস্টাইন এ সম্পর্কে জানতেন কিন্তু
কোনভাবে তাকে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল যে
মহাবিশ্বে বিস্ফোরণের মত কিছু সর্বদাই
ঘটতো এবং কৃষ্ণগহ্বরের সৃস্টি হত। কিন্তু
যদি বিস্ফোরণ না ঘটতো তবে কি হত?
৫. আপনার জীবদ্দশায় বিজ্ঞানের কোন
আবিষ্কার বা অগ্রগতি আপনি দেখতে
চান?
– সত্যিকার জ্বালানীর উৎস হিসেবে
পারমানবিক ফিউশন বিক্রিয়া। যা দূষণ
বা বৈশ্বিক উষ্ণতা ছাড়াই শক্তির
অফুরন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
৬. মৃত্যুর পরে বোধ সম্পর্কে আপনার বিশ্বস
কি?
– আমি মনে করি মস্তিস্ক হলো একটি
কম্পিউটার এবং বোধ কম্পিউটার
প্রোগ্রাম। কম্পিউটার বন্ধের সাথে এটিও
থেমে যায়। তাত্ত্বিকভাবে নিউরাল
নেটওয়ার্কে এটি আবার সৃষ্টি হতে পারে,
বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন যেহেতু এটি একক
স্মৃতিশক্তির সাথে জড়িত।
৭. একজন মেধাবী পদার্থবিজ্ঞানী হয়েও
আপনার মধ্যে এমন কোন সাধারণ বিষয়
রয়েছে যা মানুষকে বিস্মিত করতে পারে?
– আমি সব ধরনের সঙ্গীত পছন্দ করি- পপ,
ধ্রুপদী বা অপেরা। আমার ছেলে টিম এর
সাথে ফর্মুলা ওয়ান রেসিং-ও উপভোগ
করি।
৮. আপনার শারীরিক অক্ষমতা আপনার
কাজে কিভাবে সাহায্য বা বাধার সৃষ্টি
করে?
– যদিও দুর্ভাগ্যক্রমে আমি মোটর নিউরন
রোগে আক্রান্ত কিন্তু সবকিছুর জন্য আমি
ভাগ্যবান। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় কাজ
করতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান, কারণ
কিছু ক্ষেত্রে এই অক্ষমতা বড় কোন বাধাই
নয় এবং আমার বইগুলোও জনপ্রিয়।
৯. জীবনের রহস্য সন্ধানে মানুষ সকল উত্তর
আপনার কাছে জানতে চায় আপনি কি
এটাকে গুরুদায়িত্ব বলে মনে করেন?
– জীবনের সকল সমস্যার সমাধান অবশ্যই
আমার কাছে নেই। পদার্থবিদ্যা এবং
গণিতের মাধ্যমে আমরা মহাবিশ্বের শুরু
সম্পর্কে জানতে পারি, কিন্তু এর মাধ্যমে
মানবীয় আচরণের ধারণা দেয়া সম্ভব নয়
কারণ বহু সমীকরণের সমাধান করা এখনো
বাকি। মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের
বোঝার ক্ষেত্রে আমি মোটেও অন্যদের
থেকে আলাদা নই।
১০. আপনি কি মনে করেন এমন কোন দিন
আসবে যখন মানুষ পদার্থবিদ্যা বোঝার
জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু বুঝে ফেলবে?
– আমি আশা করি না, তবে তো আমার
কোন কাজই থাকবে না।
টাইমস অনলাইন থেকে অনুবাদ:

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ