Home > অন্যান্য > ফিচার > হামরাও এখন ডিজিটাল

হামরাও এখন ডিজিটাল

বিশ্বনাথ দাস : আধুনিক যুগ বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বিজ্ঞানের গৌরবময় ভূমিকার জন্যই বিশ^সভ্যতা আজ উন্নতির শীর্ষে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া কোনো দেশ তার আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতি করতে পারেনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এদেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করে সব মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সমান সুযোগ তৈরি করা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে হল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা জনসাধারণের কাছে সহজ সাধ্য করা এবং জনজীবনকে আরামদায়ক করে তোলা। একটি উন্নত দেশ, দুর্নিতী মুক্ত সমাজ, একটি গঠনমূলক উৎপাদন ব্যবস্থা, নতুন জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি সব মিলিয়ে একটি সুখি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের পূর্ব শর্তই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

আর ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদের মত বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও এখন ভোগ করছেন। কেননা দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষগুলোকে এখন আর ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে উপজেলা সদরে গিয়ে ভিসার তথ্য যাচাই করতে হয় না। তাদের গুনতে হয়না বাড়তি টাকাও। মাত্র ৫ মিনিটে ভিসার তথ্য যাচাই করতে পারছেন তারা। ফলে তাদের কমেছে নানা ভোগান্তিও বলছিলেন কয়েকজন সেবা গ্রহিতা।

ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে ভিসার তথ্য যাচাই করতে এসেছিলেন বিলকিস বেগম তিনি জানালেন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে খুব সহজেই ভিসার তথ্য যাচাই করতে পারছেন। বিলকিস বেগমের মত আকবর আলী ব্যাপারিকে ও এখন আর ঠকতে হয়না। বিড়ম্বণা পোহাতে হয়না আগের মত। কেননা ন্যায্যমূলে হাতের কাছেই এখন মিলছে সঠিক তথ্য সেবা। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়া সত্বেও এই চরাঞ্চালের মানুষ ডিজিটাল সেবার সবটুকু পাাচ্ছে বলে জানান চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আযিজুল আযম।

চরাঞ্চলের মানুষদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে ডিজিটাল সেন্টার। পরিচয় করে দিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে। বদলে দিয়েছে তাদের জীবন মান। আর তাই ডিজিটাল সেন্টারের সুফল বইছে এখন সবার ঘরে ঘরে। ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু ভিসার তথ্য আর ইন্টারনেটের সেবা দিয়েই মানুষের জীবন যাত্রার মান বদলাচ্ছেনা। সেই সাথে আরো বিভিন্ন ধরনের কাজের মধ্যে বিস্তার হচ্ছে। যেমন কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এই কৃষিকে বাদ দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। আর এ জন্যই সনাতন পদ্ধতি বর্জন করে কৃষিকে করতে হবে প্রযুক্তি নির্ভর ।

প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে বেশি উৎপাদন সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও অনেক ভূমিকা রেখেছে। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় একমাত্র কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। এছাড়াও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রযুক্তির অবদান অকল্পনীয়। যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার হিসাব খুব স্বল্প সময়ে নির্ভুলভাবে দেওয়া যায়।

তাছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে বৈদিশিক লেনদেন, এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্ত ভাবে টাকা আদান প্রদান যা ডিজিটাল বাংলাদেশেরই অন্তর্গত। এভাবে এক এক করে প্রতিটি ক্ষেত্রের মধ্যেই প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা চলে আসছে। আলো অন্ধকারের মতো সর্বক্ষেত্রে সুবিধা অসুবিধা থাকবে।

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়শীল দেশ। এদেশের তথ্য প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অতি সামান্য। তারপরও আমরা আশাবাদী।
ডিজিটাল বাংলাদেশের আলোয় আলোকিত হয়েছে দেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে নির্জন রাস্তা, মসজিদ, মন্দিরসহ সবখানে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় দেশের মানুষ এখন বেশ সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে পারছে। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ফলে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষগুলোও তাইতো আনন্দচিত্তে বলে ওঠে হামরাও এখন ডিজিটাল।

লেখক: বিশ^নাত দাস।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ