Home > জাতীয় > ‘নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন’

‘নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন’

নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনে ভ্যাট অব্যাহতি ব্যবস্থা বাতিল করা, প্যাকেজ ভ্যাট, সঙ্কুচিত ভিত্তিমূল্য ব্যবস্থা উঠিয়ে দেওয়া এবং সব স্তরে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।

এজন্য নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। যদিও নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনের বেশকিছু বিষয়ের প্রশংসা করেছে এমসিসিআই।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এমসিসিআইর সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির এ উদ্বেগের কথা জানান। আইনটি আরো স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

নিহাদ কবির বলেন, নতুন আইনে ভ্যাট অব্যাহতি ব্যবস্থা বাতিল করা, প্যাকেজ ভ্যাট ও সঙ্কুচিত ভিত্তিমূল্য ব্যবস্থা উঠিয়ে দেওয়া অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সেই সঙ্গে সবার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে ‘নতুন ভ্যাট আইন ও বিধি : বাস্তবায়নের পথ নকশা’শীর্ষক ওই কর্মশালার প্রধান অতিথি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল হবে। সেই সঙ্গে সবার ক্ষেত্রে আইনটি একইভাবে প্রয়োগ করা হবে।

প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা আইনে নেই। টার্নওভার ভ্যাট হিসেবেই আদায় করা হয়ে থাকে। নতুন আইনের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত (৩০ লাখ টাকা) টার্নওভার বা বার্ষিক বিক্রি যেকোনো ধরনের ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকবে।

কর্মশালায় নতুন ভ্যাট আইন বিষয়ে এমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল ভ্যাট নীতি বাস্তবায়ন প্রয়োজন। যাতে ব্যবসায়ীরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারে। সব ব্যবসায়ীর প্রতি ভ্যাট আইনের সঠিক ব্যাখ্যা ও সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মাধ্যমে সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

কর্মশালায় এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি বাস্তবায়ন) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন নতুন ভ্যাট আইনের বিভিন্ন সুবিধার কথা বলেন। তিনি মূল্য ঘোষণা উঠে যাওয়া, করদাতা ও কর কর্মকর্তার যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়াসহ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহাঙ্গীর হোসেন আরো বলেন, ১৫ মার্চের মধ্যে বড় আকারে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে অনলাইনে প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ ব্যবস্থাও কার্যকর হবে।

অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ