Home > জাতীয় > ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বই খুঁজবে গোয়েন্দারা

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বই খুঁজবে গোয়েন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের একুশের বইমেলায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হবে।

গোয়েন্দারা মেলায় বিশেষ লেখকের বই স্টলে স্টলে গিয়ে পড়বেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে কিংবা জঙ্গিবাদে উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারে এমন বই কোনোভাবেই মেলায় প্রবেশ করতে পারবে না বলে পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার প্রধান মো. মাসুদুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বইমেলাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এজন্য আগামীকাল মঙ্গলবার পুলিশ কমিশনার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজনকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কমিটি করা হয়েছে কিনা তা জানা নেই।’

রাইজিংবিডির প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘এ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে মূলত মেলায় যেন কোনোভাবেই এরকম বই প্রবেশ করতে না পারে। এজন্য প্রকাশকদেরও সহযোগিতা করতে হবে।’

অবশ্য রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে একুশে বইমেলার নিরাপত্তা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশের বিশেষ শাখাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এ সুযোগে একটি গোষ্ঠী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা জঙ্গিবাদে উন্মাদনা ছড়াতে পারে, এমন বিতর্কিত বই প্রকাশ করতে পারে। সেজন্যই পোশাক পরিহিত পুলিশের সঙ্গে মেলার ভেতর ক্রেতা সেজে ওইসব লেখকের বই খুঁজবে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তারা বিভিন্ন বই পড়ার ছলে বিশেষ ওই রকম কোনো বই কোনো প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করা হয়েছে কিনা তাও নজরদারি করবেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অতীত রেকর্ড রয়েছে বা আশঙ্কা আছে বলে মনে হয়, তাদের বইগুলোই বিশেষভাবে পড়তে দায়িত্ব থাকা গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরকম সন্দেহভাজন প্রায় ২০ লেখকের নামের তালিকা করেছে গোয়েন্দারা। তবে তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বেশ কিছু প্রকাশনীর সঙ্গে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ইতোমধ্যে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে এরকম লেখকদের ব্যাপারে।

মুঠোফোনে কথা হয় শিক্ষাবিদ ড. হায়াৎ মামুদের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগের পক্ষে আমি নেই। কেননা আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক। এখানে মতপ্রকাশ বা জানার অবাধ সুযোগ রয়েছে। পাঠক হিসেবে আমিও সব কিছু পড়তে চাই। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে কেন আঘাত আসবে। যার যার ধর্ম সে নিজের মতো করেই পালন করছে।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একটি করে গোয়েন্দা দল কাজ করবে মেলায়। যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন পরিদর্শক। আর পুরো বিষয়টি একজন এএসপি মনিটরিং করবেন। সকাল থেকে মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ