Home > জাতীয় > লিটন হত্যাকারীদের যথাযথ শাস্তি দেব : প্রধানমন্ত্রী

লিটন হত্যাকারীদের যথাযথ শাস্তি দেব : প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক : গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই খুঁজে বের করব, ধরব এবং যথাযথ শাস্তি দেব।’

রোববার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় আরো অংশ নেন- চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মীর শওকত আলী বাদশা, জুনাইদ আহমেদ পলক, মাহবুব আরা গিনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কাজী ফিরোজ রশিদ, শামীম ওসমান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, লিটন এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং সেখানকার মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিল। মনে হয়, এটাই ছিল ওর বড় অপরাধ। এজন্যই তাকে টার্গেট করা হয়।

শিশু সৌরভকে গুলি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ও কেন শিশুকে গুলি করবে? সৌরভের বাবা আওয়ামী লীগ করত। ওদের পরিবারের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠতা ছিল। মূল কথা ছিল, ওখানে অ্যামবুশ করেছিল লিটনকে হত্যা করার জন্য। সেখানে সে ফাঁকা গুলি করে। সৌরভের গায়ে যে আঘাতটা লেগেছিল সেটা নিয়ে তো অনেক কথা, অনেক সন্দেহ। ফাঁকা গুলি কারো গায়ে লাগতে পারে। কিন্তু পত্র-পত্রিকা এমনভাবে সেটাকে লিখল! সত্য তথ্যটা কেউ তুলে ধরে নাই। আমার কষ্ট হয় এজন্য। এই ঘটনার পর তার অস্ত্রগুলো সিজ করে নেওয়া হলো। যার ফলে ওর বাড়িতে ঢুকে ঘরের ভিতরে ঢুকে ওকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। ছাত্রজীবনে সে ছাত্রলীগ করেছে। এরপর সে আওয়ামী লীগে এসেছে। নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা ছিল বলেই ওই সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সে নির্বাচিত হয়েছিল এবং এমপি নির্বাচিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যতদিন সে বেঁচে ছিল, ততদিন অন্তত সুন্দরগঞ্জের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ছিল। ওই অঞ্চলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। পুরো উত্তরবঙ্গে সেই বাংলা ভাই থেকে শুরু করে জেএমবির নেতারা প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র নিয়ে ট্রাকে করে মিছিল করে। গোলাম আযম ওখানে যেতে চেয়েছিল, তখন সে (লিটন) মিটিং করতে দেয় নাই। জামায়াতের কাছে এটাও একটা অপরাধ। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। তারা সেই প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে। আজকে প্রায়ই শুনি, আওয়ামী লীগের যে সংসদ সদস্য কোথাও একটু শক্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদেরকেই শেষ করে দেওয়া বা হত্যা করার পরিকল্পনা তারা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন দেশের মানুষের শান্তি ও উন্নতি চাচ্ছি, আমারা যখন দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করছি, বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বসভায় মর্যাদা পাচ্ছে, ঠিক সে সময় এরা(বিএনপি-জামায়াত) আমাদের সংসদ সদস্যকে হত্যা শুরু করেছে। এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরও হামলা করছে। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। তাই লিটনকে হত্যার সাথে যারা জড়িত অবশ্যই আমরা তাদেরকে খুঁজে বের করব, ধরব এবং যথাযথ শাস্তি দেব। সব সংসদ সদস্যসহ দেশবাসীর প্রত্যেকের নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়, অবশ্যই আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করব।

মহজুরুল ইসলাম লিটনের শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা যে কি কষ্টকর সেটা আমার থেকে আর তো কেউ বেশি বুঝবে না। তারপরও জীবন চলে, চলতে থাকে। এই ধরনের ঘটনা যেন আর ঘটে সেটাই আমরা চাই।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ