Home > জাতীয় > ‘কর ফাঁকি দিলে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে’

‘কর ফাঁকি দিলে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে’

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক :
কর ফাঁকি দিলে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি বলেছেন, ‘কর রাষ্ট্রের আমানত। কর না দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ঠকানোর মাঝে বীরত্ব নেই। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য এপারে না হলেও ওপারে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে।’

রোববার রাজধানীর আইডিইবি ভবনে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কার্যালয়ে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যাকাত ধর্মীয় বিধান হলেও কর ধর্মীয় বিধান না। তবে ধর্মে বলা হয়েছে, যদি রাষ্ট্র আইনি দায়িত্ব দেয় তবে তা পালন করতে হবে। আইনের একটি অংশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে কর প্রদান করতে হবে। ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, জনগণ সবাই আমানতদার।’

শফিউল আলম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে কর না দিয়ে মনে করতে পারেন ফাঁকি দিলাম। এ ফাঁকি দেওয়ার জন্য এপারে না হলেও ওপারে আল্লাহর কাছে হিসেব দিতে হবে। কর ফাঁকি দিলে মনে করতে পারেন ১৬ কোটি মানুষকে ঠকালাম। আসলে নিজেও ঠকে গেলেন।’

আগামী ৫ বছরে ব্যবসার উন্নয়ন সূচকে (ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স) বাংলাদেশের অবস্থান দুই সংখ্যায় নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নসূচকে ১৯৮টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। আমরা পেছনে পড়ার মূল কারণ হলো বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নেই। ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে বিনিয়োগকারীরা আসতে চায় না। দেশীয় বিনিয়োগকারীরা হয়রানির শিকার হয়। ব্যবসার পরিবেশ সূচক উন্নয়ন করার জন্য আইন সহজীকরণ, হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান, জনবান্ধব অফিসে রূপান্তর ও পার্টনার ব্যবসায়ীদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এসব করতে পারলে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০ এর নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। সবাই চেষ্টা করলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ সংখ্যা দুই সংখ্যায় নামিয়ে আনতে পারব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন মূসক আইন উদ্যোক্তাবান্ধব। এ আইন শক্তিশালী ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসএমই ফাউন্ডেশন সহযোগিতা করবে।’

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘নতুন মূসক আইন বাস্তবায়নে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব স্থাপন করা হবে। ধর্মীয় সংখ্যাগুরুরা হবে এ আইনের জনমত সৃজনকারী ব্যক্তিত্ব।’

তিনি বলেন, ‘চারটি ধর্মের যারা শিক্ষাগুরু, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যারা দেখাশুনা করেন তাদের নিয়ে কর্মশালা করা হবে।শুধু ভ্যাট নয়, আয়কর ও শুল্ক বিষয়েও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

এ সময় এনবিআরের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ