Home > জাতীয় > আমাদের একটি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দরকার

আমাদের একটি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দরকার

প্রথম প্রজন্মে দেশের সফল উদ্যোক্তাদের একজন জিপিএইচ গ্রুপ ও এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। দুই দশকের ব্যবধানে তাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণ বেশ প্রশংসিত। ব্যবসায় উদ্যোগ, সম্প্রসারণ, স্থানীয় ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্প, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহফুজ উল্লাহ বাবু

প্রথম প্রজন্মে দেশের সফলতম উদ্যোক্তাদের একজন আপনি। ব্যবসা শুরুর গল্পটা যদি আমাদের জানান…

শুরুটা চট্টগ্রামে, আমাদের গ্রামের বাড়ি অবশ্য মুন্সীগঞ্জে। আশির দশকের গোড়ার দিকে পড়াশোনা শেষ করে আমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিই। বছর সাতেকের মাথায় ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করি। চট্টগ্রামভিত্তিক জাহাঙ্গীর অ্যান্ড আদারস নামের প্রতিষ্ঠানটি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঢেউটিন, রড, সিমেন্টের মতো নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহ শুরু করি। সেখানে গ্রাহক, অংশীদার, সহকর্মী প্রত্যেকের আস্থা ও দোয়ায় কিছুটা মূলধন জমাতে সক্ষম হই।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মোল্লা সল্ট গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি নামে নিজেদের একটি সিমেন্ট কারখানা করি। এলাকাটি তখন চরমুক্তারপুর নামে পরিচিত ছিল। আমরা শিল্প-কারখানা গড়ে তোলায় সেখানে একটি কর্মচাঞ্চল্য আসে। ধীরে ধীরে সেখানে পাঁচ-ছয়টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানা গড়ে ওঠে। এখন জায়গাটার নাম পশ্চিম মুক্তারপুর। বিষয়টি আমাদের উৎপাদনমুখী শিল্পে প্রচণ্ডভাবে উৎসাহিত করে।
মানের কারণে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির পণ্য ক্রাউন সিমেন্ট শুরু থেকেই বাজারে ভালো সাড়া পায়। একপর্যায়ে আমরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয়ও রফতানি শুরু করি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কারখানার সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে।
মাঝে (২০০০ সালে) চট্টগ্রামে একটি ম্যানুয়াল রি-রোলিং মিল কিনে অন্য ভাইদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে কনস্ট্রাকশন রড ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করি। ২০০৬ সালে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও কলেবর বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানির নাম দিই জিপিএইচ ইস্পাত। পণ্যের গুণগত মান ও ব্যবসায়িক কমিটমেন্টের কারণে এ কোম্পানিও বাজারে ভালো অবস্থান করে নেয়। ট্রেডিং ব্যবসার পাশাপাশি এখন ক্রাউন সিমেন্ট ও জিপিএইচ ইস্পাতই আমাদের মূল ব্যবসা। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের দুটো কোম্পানিই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত।
বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আমরা আশাতীত সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে মূল ব্যবসাগুলোর ব্যাকওয়ার্ড-ফরওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে শিপিং, প্যাকেজিং ব্যাগ, পাওয়ারের মতো কিছু সাপোর্টিং প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এগুলো একদিকে মূল কোম্পানির ব্যয় সাশ্রয় করছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও রেভিনিউ জেনারেট করছে।
আমি সময়ে সময়ে আরো কিছু উদ্যোগের সঙ্গী হই।

আপনারা ক্রাউন আইজোনিল নামে একটি ভিন্নধর্মী পণ্য বাজারে এনেছেন। বিস্তারিত জানাবেন?

শুরু থেকেই আমরা নতুন নতুন প্রযুক্তির খোঁজে আছি। সেটি পণ্যেই বলুন, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বলুন আর গ্রাহকসেবায় বলুন। কাস্টমারদের সেরা কিছু উপহার দেয়ার চেষ্টাটা বলতে পারেন আমাদের ব্যবসার মূলমন্ত্র। আইজোনিল এরই একটি ধারাবাহিকতামাত্র।

আইজোনিল একটি ম্যাজিক পণ্য। ইউরোপীয় একটি কোম্পানির প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অংশীদারিত্বে আমরা বাংলাদেশে পণ্যটির উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত তাদের হাতেই এ প্রযুক্তি রয়েছে। বিশ্বে আমরা ছাড়া আর হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বে গেছে কোম্পানিটি। আমার বিশ্বাস, আগামীতে আইজোনিলের জন্য দেশে অনেক বড় প্লান্ট করতে হবে আমাদের।

আইজোনিলের পরিচিতিতে বলা যায়, এটি প্লাস্টার সলিউশনে সিমেন্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয়। দেয়াল প্লাস্টারে আমরা মূলত বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করি, যেটি পানি শোষণে সক্ষম। কিন্তু আইজোনিল পাউডার পানিতে ভেজে না। প্লাস্টারে সিমেন্টের বদলে আইজোনিল ব্যবহার করলে পানি দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে না। অন্যদিকে পাইপের লিকেজ বা অন্য কোনো কারণে দেয়ালের ভেতরে পানি থাকলে সেটি আবার বেরিয়ে আসে। একটু পর আপনারা নিজেরাই পরীক্ষা করে দেখবেন।

এছাড়া সিমেন্ট-বালির দেয়ালের সুরক্ষার জন্য যতটা পেইন্ট ব্যবহার করতে হয়, আইজোনিল দেয়ালে তার প্রায় অর্ধেক রঙ ব্যবহার করলেই চলে।

আমরা নিছক আইজোনিল পাউডার বিক্রি করি না, বরং গ্রাহকের দেয়ালের প্লাস্টারের পুরো কাজটি করে দিই। এখন সীমিত পরিসরে মানুষের কাছে আইজোনিল নিয়ে যাচ্ছি। প্রচার-প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষিত একটি কর্মী বাহিনীর মাধ্যমে সেরা প্লাস্টার সলিউশনটি সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

আইজোনিলের জন্য স্থাপনার মালিককে কেমন খরচ করতে হবে?

সিমেন্টের প্লাস্টারে যা ব্যয় হয়, আইজোনিল সলিউশনে তার কিছুটা বেশি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করলে আমি বলব, আইজোনিল অনেক বেশি সাশ্রয়ী। কারণ রাসায়নিক কারণে সিমেন্টের প্লাস্টার একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর দুর্বল হয়ে যায়। অন

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ