Home > জাতীয় > সাবেক গভর্নর আতিউরকে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে যে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে

সাবেক গভর্নর আতিউরকে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে যে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি। তাকে ৮টি প্রশ্ন করা হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু কোনোটিরই সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। তার কাছে প্রশ্ন ছিল- খাতায় নাম-ঠিকানা এন্ট্রি না করে দেশী-বিদেশী নাগরিকদের রহস্যজনকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেয়া হল?

চুরির ঘটনা ধরা পড়ার পরও কেন ৪০ দিন বিষয়টি গোপন রেখেছেন? কেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেননি এবং কেন আরটিজিএস প্রকল্পের সুইফট সংযোগ দেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন?

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ড. আতিউরের কাছ থেকে এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে সিআইডির কর্মকর্তারা তার ধানমণ্ডির বাসভবনে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ও প্রধান তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত টিম তার কাছে প্রশ্নগুলো রেখে স্পষ্ট উত্তর জানতে চায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত টিমের এক কর্মকর্তা জানান, ড. আতিউরের কাছে যেসব প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন তার মধ্যে ছিল- ‘হ্যাকিংয়ের ঘটনার আগে ও পরে দেশী-বিদেশী অনেক রহস্যজনক লোক বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করেছে, কিন্তু তাদের নাম এন্ট্রি করা হয়নি। আপনি সংশ্লিষ্টদের ফোন দিয়ে বলেছেন, আগতদের নাম এন্ট্রি করার দরকার নেই। তাদের ভেতরে

পাঠিয়ে দাও’- এমন প্রশ্নের তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান তদন্ত টিমের এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, প্রশ্নের উত্তরে ড. আতিউর বলেছেন, ‘অনেকেই ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল প্রয়োজনে আসেন। ওই সময় কে এসেছেন, কেন এসেছেন তা মনে নেই।’ ড. আতিউর রহমানের কাছে প্রশ্ন ছিল- ‘রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর ৪০ দিন কেন বিষয়টি গোপন রেখেছেন এবং ঘটনা প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেননি বা মামলা করলেন না। তাহলে কি ধরে নেব যে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে।’

উত্তরে তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে, এ কারণে জানাজানি না করে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলাম। একই কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে সিআইডিকে জানান তিনি।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, রিজার্ভ চুরির মতো একটি ভয়াবহ ঘটনা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আপনি নিজে নিজে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন, ফিলিপাইনে লোক পাঠিয়েছেন এর কারণ কি? যে দলটিকে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়েছিল তারা এসে কেন সরকারের কাছে রিপোর্ট করল না- উত্তরে আতিউর বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর আমি আগেই দিয়েছি। কারণ ঘটনাটি জানাজানি হলে জটিলতা দেখা দেয়ার আশংকা ছিল। প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে এর বেশি কিছু করার ছিল না।

ড. আতিউরের কাছে প্রশ্ন ছিল- রিজার্ভ চুরির প্লট তৈরি হয়েছিল একটি প্রকল্পকে ঘিরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘আরটিজিএস’ প্রকল্পের মাধ্যমে সুইফট হ্যাক করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই প্রকল্পে একজন পিডি ছিলেন। তিনিই পুরো প্রকল্পের বিষয় দেখভাল করতেন।

সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই প্রকল্পটা না আনা হলে এখানে হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনা ঘটত না। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ওই প্রকল্পের পরিচালকসহ ব্যাংকের শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই সংখ্যা কমপক্ষে ১০৮ জন হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অনেকেই গভর্নর হিসেবে ড. আতিউরের দায়িত্বে অবহেলার কথা বলেছেন। এ নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়। সূত্র জানায়, সিআইডি ড. আতিউরের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে না পেরে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনার ৪০ দিন পর ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিলি থানায় মামলা করেন। মানি লন্ডারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা ওই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা এবং ২৩ বিদেশীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা টাকাগুলো বের করে নিয়ে গেছে। তবে ওই ২৩ বিদেশী ছিল অপারেটর। তাদের মাধ্যমে টাকাগুলো মূল পরিকল্পনাকারীদের হাতে চলে যায়। ভুয়া হিসাবধারী বিদেশী ওই চক্রের অন্তত ২৫ জনকে শনাক্তে কাজ চলছে।-যুগান্তর

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ