Home > জাতীয় > পবার তেতুলিয়ায় আট-ঘাট বেধে পুকুর কাটছেন কয়েকজন

পবার তেতুলিয়ায় আট-ঘাট বেধে পুকুর কাটছেন কয়েকজন

ুর্নীতি বলেন আর স্বজনপ্রীতি বলেন টাকা ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না। আর এ টাকার ভাগ পাচ্ছেন ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত। আপনি নিউজ করবেন ভাল কথা। বড়জোর টাকার অংক বেড়ে যাবে। লোক দেখানোর জন্য প্রশাসন অভিযান চালাবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১০-২০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। কিন’ পুকুর খনন আটকাতে পারবেন না। কথাগুলো বললেন পুকুর খননকারি রেজাউল করিম রাজ্জাক। তিনি আরো জানান প্রশাসনের সকল স্তরকে ম্যানেজ করেই এই পুকুর খননে নেমেছেন।

ওই পুকুরের পাশেই একই সুরে কথা বলেন আরেক পুকুর খননকারি আবু বকর সিদ্দিক। তার বাড়ি উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে। এই পুকুরগুলো খনন হচ্ছে তেতুলিয়ার বড়বিলে। তিনি বলেন, আটঘাট বেধেই চলছে তার খননের কাজ। তার সাথে পার্টনার হিসেবে আছেন নগরীর বুলনপুর এলাকার আসাদ আলী ও টিটু। এলাকাবাসী জানান তারা প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে তিনটি পুকুর খনন করছেন। এদের পাশে আব্দুল গাফ্‌ফার নামের আরো একজন পুকুর খনন করছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসি বলেন, পবার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের বড়বিলে চলছে এসব পুকুর খননের কাজ। কয়েকজন মিলে প্রায় দেড়’শ বিঘা জমি নিয়ে দিনরাত সাতটি এক্সকেভেটর দিয়ে চলছে খননের কাজ। উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করেও থামানো যাচ্ছে না পুকুর খননের কাজ। উপজেলার পুরো এলাকাজুড়ে চলছে পুকুর খনন। অভিযোগ উঠেছে পবা থানা পুলিশ মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে পুকুর খননে সহায়তা করে চলেছেন। আবার ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান না থাকায় কয়েকদিনেই আবারো পুরোদমে চলছে খননের কাজ।

পবা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমি পুকুর হয়েছে। এবার পানি শুকানোর পর থেকেই আবারো শুর্ব হয়েছে পুকুরখনন। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক লেবাসে ও স’ানীয় পবা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে তিন ফসলি ধানি জমিকে পুকুরে র্বপান্তর করছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেনা ভুক্তভোগীরা। বরং অভিযোগকারিদের নানানভাবে হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালীরা। এভাবে পুকুর খনন অব্যাহত থাকলে পরিবেশের উপর মারাত্মকভাবে বিপর্যয় নেমে আশার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

বর্তমানে পুকুর খনন করা না করা নিয়ে বিব্রতকর পরিসি’তি বিরাজ করছে পুরো উপজেলা জুড়ে। প্রশাসনের পৰ থেকে এ বিষয়ে কোন দিক নির্দেশনা না থাকায় একদিকে যেমন এলাকাবাসির সাথে পুকুর খননকারিদের মারামারির আশংকা করছেন অনেকে। অন্যদিকে কোন শ্রেণির জমিতে পুকুর খনন করা যাবে এবং কি কি নির্দেশনা মেনে পুকুর খনন করতে পারবে তাও জানতে পারছে না। পুকুর খননকারিরা মনে করছেন প্রশাসনকে ম্যানেজ বা ফাঁকি দিয়ে খনন করতে পারলে আর কিছুই হবে না। প্রেৰিতে উপজেলার অনেক এলাকায় রাতদিন পুকুর খনন করে যাচ্ছে মুনাফালোভীরা। পানি নিস্কাশনের ব্যবস’া না রেখেই চলছে এসব পুকুর খনন।
একটি সুত্র বলছে ওই মুনাফালোভীরা পুকুর দেখিয়ে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ নিচ্ছেন। প্রকৃত কৃষকের কাছে থেকে ৮/১০ বছরের চুক্তির কাগজে মিলছে এই টাকা। এই উপজেলায় কয়েক বছর থেকেই চলছে পুকুর খননের কাজ। ভুমির শ্রেণি পরিবর্তন হলেও প্রশাসন নীরব ভুমিকা পালন করছেন।

পারিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল বারি ভুলু জানান, এবার সমন্বয় সভায় পুকুরখনন অবারিত করার আহবান জানাবো প্রশাসনের কাছে। কারণ আমি নিষেধ করলেও অবাধে খননকাজ চলছে। এতে খননকারিদের সাথে অযথা মনোমালিন্য দেখা দিচ্ছে। এই পুকুরের জন্য অনেক গ্রামে বাড়িঘরে পানি উঠে যাচ্ছে। দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। বেশী লাভের আশায় এলাকায় পানি নিস্কাশন মুখে পুকুর খননের জন্য জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি নিস্কাশনের রাস্তা না থাকায় আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উৎকোচ গ্রহণ এর কথা অস্বীকার করে পবা থানা ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে হয়তো কেউ খনন করতে পারে। তারপরেও আমার কয়েকদিন হলো এখানে আসা। তবে ভুমি অফিস থেকে এব্যাপারে নির্দেশ দিলে ব্যবস’া নিতে বিলম্ব হবে না।

পবা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আলমগীর কবীর ম্যানেজের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুকুর খনন বন্ধে খুব শীঘ্রই ব্যবস’া নেয়া হবে। খনন বন্ধের অভিযান চালানো হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই এই উপজেলায় পুকুর খনন বন্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, আইনমতে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এমনকি ফসলি জমি অধিগ্রহণেও বাধা আছে। তিনি সমস্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্র্বত ব্যবস’াগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ