Home > জাতীয় > দুদকে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি

দুদকে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা ও ব্যবস্থা নেয়া দুদকের কাজ, কিন্ত বর্তমানে দুদকে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি। এ কারণে দেশের উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন।

সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ পাচার অভিযোগের বড় একটি অংশ অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু সময়মতো এসব অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন করতে পারে না সংস্থাটি। ফলে সিংহভাগ অভিযোগই অনিষ্পন্ন থেকে যায় প্রতি বছর। গত বছরও তা-ই হয়েছে, অনিষ্পন্ন থেকে গেছে অভিযোগের ৭২ শতাংশই।

দুদকের ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে অর্থ পাচার-সংক্রান্ত মোট ২৬২টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য হাতে নিয়েছিল দুদক। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের অনিষ্পন্ন বেশকিছু অভিযোগও ছিল। কিন্তু ওই বছর এসব অভিযোগের মাত্র ৭২টির অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে পেরেছে সংস্থাটি, যার ভিত্তিতে ৭৬টি এজাহার দায়ের হয়েছে।

সে হিসাবে মোট অভিযোগের মাত্র ২৮ শতাংশের অনুসন্ধান সম্পন্ন করেছে দুদক। বাকি ৭২ শতাংশই থেকে গেছে অনিষ্পন্ন। এর বাইরে ৫১টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি।

চলতি ২০১৬ সালে ৯ মাসে অর্থ পাচার-সংক্রান্ত মোট ১৪২ টি অভিযোগ পাওয় গেছে এর মখ্যে মাত্র ২১ টির এজাহার দায়ের হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্বল অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার কারণে অভিযোগের বড় একটি অংশই মামলা পর্যন্ত গড়ায় না। আবার বেশকিছু অভিযোগে মামলা হলেও তদন্তের দুর্বলতায় মূল অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে যায়। দুদকের সামর্থ্যের ঘাটতি ও কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণেই এমনটি হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা হলেও এর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে দুদকের যোগাযোগ ও আন্তঃসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। সে সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষ জনবল। এসব দুর্বলতার মধ্য দিয়েও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থ ফেরতও এসেছে। ভবিষ্যতে পাচার করা আরো অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

আইন অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে দুদককে। অর্থ পাচারের অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণের জন্য দুদক বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের ওপর নির্ভরশীল। তবে সংস্থা তিনটির সমন্বয়হীনতার কারণে অর্থ পাচারের অনেক অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে কমিশন ২২৬টি অর্থ পাচার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে নতুন অভিযোগ ছিল ৮৯টি। আগের বছরের অনিষ্পন্ন অনুসন্ধান ছিল ১৩৭টি। এসব অভিযোগের মধ্যে ২০টিতে মামলা করা হয়।

গত বছর দুদক নিষ্পন্ন করেছে ৬০টি অনুসন্ধান। আগের বছরের অনিষ্পন্ন অনুসন্ধানসহ বছর শেষে কমিশনের মোট অনুসন্ধানের সংখ্যা দাঁড়ায় ২২৬। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৪০টি অভিযোগ নথিভুক্তির সুপারিশ করা হয়।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ