Home > জাতীয় > গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গে তৈরি

গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গে তৈরি

গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র তৈরি হয়েছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। তারপর তা পাচার করে পাঠানো হয় বাংলাদেশে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ হয়ে এ অস্ত্র পাচার করা হয়েছিল। অস্ত্র তৈরিতে সহযোগিতা করেছিল পাকিস্তানি উপজাতি গোষ্ঠী ‘দার আদম খেল’। পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সেপ্টেম্বরে ৬ জনকে আটক করে কলকাতার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-র গোয়েন্দাদের এসব তথ্য দিয়েছে তাদের একজন। এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে সাংবাদিক শৈবাল গুপ্ত লিখেছেন, গত ১লা জুলাই ঢাকায় অভিজাত এলাকায় অবস্থিত আর্টিজান রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় ২০ বিদেশি নিহত হন। এর মধ্যে একজন ভারতীয় টিনেজ তারিশি জৈন রয়েছেন। এ সময় নিহত হয় ৫ সন্ত্রাসী। ওদিকে খাগড়াগড় বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক সন্ত্রাসী বলেছে, ওই অস্ত্র তৈরিতে প্রশিক্ষণ দিতে পাকিস্তানি একটি উপজাতির অস্ত্র নির্মাতারা মালদা সফর করেছেন। এ সময়ে তারা বিহারের মাঙ্গারের অস্ত্র নির্মাতাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সীমান্তের কাছে মালদায় একে-২২ রাইফেল তৈরির জন্য একটি ঘাঁটি বানানো হয়েছিল। সেখানে তৈরি অস্ত্র পরে চাঁপাই নবাবগঞ্জ হয়ে পাচার করা হয় বাংলাদেশে। এনআইএ-র গোয়েন্দাদের সন্দেহ যেসব পাকিস্তানি এই প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে বলা হচ্ছে তারা হতে পারে ‘দার আদম খেল’ গোষ্ঠীর। এ উপজাতি গোষ্ঠীটির বসবাস পেশোয়ার ও কোহাতের মধ্যবর্তী একটি গ্রামে। ধারণা করা হয়, এই উপজাতিরা নিয়মিতভাবে তালেবানদের আধুনিক অস্ত্রের নকল অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করে থাকে। এনআইএ-র একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, এ বিষয়টিতে আমরা নিশ্চিত নই। তবে তারা যে ভাষায় কথা বলেছে তা পাকিস্তানের খাইবার পখতুনখাওয়া প্রদেশের ভিতর ও আশপাশের। ওই গ্রামটি এ এলাকায়ই অবস্থিত। এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, হলি আর্টিজান বেকারিতে যে হামলা হয়েছে তা এসেছে সীমান্ত অতিক্রম করে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী ও বহুজাতিক অপরাধবিষয়ক প্রধান মনিরুল ইসলাম এক্ষেত্রে মাঙ্গারকে উল্লেখ করেছেন। তারপরেই বিহার পুলিশ এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি সূত্র বলেছেন, এসব বিষয়ে বিহার পুলিশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যোগাযোগ হচ্ছে। বিহার পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, তৈরি করা ওইসব অস্ত্র তৈরি ও তা পাচার করতে কয়েকটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল মালদা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থানে। এনআইএ বিশ্বাস করে, একে-২২ রাইফেল ও পিস্তলের চালান গুলশান হামলার এক মাস আগে ঢাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছে যায়। কিন্তু এনআইএ কর্মকর্তারা কিছুটা বিহ্বল। কারণ, একে-৪৭ রাইফেল এসব সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাগুলোর কাছে অধিক জনপ্রিয়। সেক্ষেত্রে একে-৪৭ এর পরিবর্তে তারা কেন একে-২২ রাইফেল তৈরি করলো এবং তা সরবরাহ করলো এ বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে এনআইএ। আধা-স্বয়ংক্রিয় এ রাইফেল প্রকৃতপক্ষে তৈরি হয় রোমানিয়ায়। ভারতে একে-২২ এখন খুব আন-কমন। আর তো তার ডুপ্লিকেট! এনআইএ-র এক কর্মকর্তা বলেছেন, অপেক্ষাকৃত সহজ একে-২২ রাইফেল স্বল্প পাল্লার অস্ত্র। এটা কেনা সহজ। ঢাকার বেকারিতে যে সন্ত্রাসীরা এ অস্ত্র ব্যবহার করেছে তাদের মতো যুবকদের পক্ষে এটাই উপযুক্ত অস্ত্র। যদি ‘দার আদম খেল’ থেকে অস্ত্র তৈরিকারকরা মালদায় এসেই থাকেন তাহলে অনুসন্ধানকারী কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। পাকিস্তানি উপজাতিরা পেন-পিস্তল থেকে হাতবোমা, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রের নকল তৈরি করতে পারে। যেকোনো নতুন রাইফেল মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নকল করে নতুন অস্ত্র তৈরি করার সক্ষমতা আছে ‘দার আদম খেল’-এর অস্ত্র বিশারদদের।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ