Home > জাতীয় > কারাবন্দিদের অর্থদণ্ড পরিশোধে ভোগান্তি কমলো

কারাবন্দিদের অর্থদণ্ড পরিশোধে ভোগান্তি কমলো

নিউজ ডেস্ক : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার সদিচ্ছায় শাস্তিপ্রাপ্ত কারাবন্দির অর্থদণ্ড পরিশোধের ভোগান্তি কমেছে। এখন থেকে আসামির প্রতিনিধি অথবা নিকটাত্মীয় আরোপিত অর্থদণ্ড কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে আরোপকারী দায়রা/সমপর্যায়ের আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসি কিংবা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি আদালতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোড নম্বরে জমা দিতে পারবেন।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের (নিয়োগ শাখা) রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেন। সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস্, ১৯৭৩-এর চ্যাপ্টার এইচআইবি প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জেলসহ অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের অর্থ পরিশোধ সহজীকরণের নিমিত্তে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

কারা অধিদফতরের এআইজি প্রিজনস্ (প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন সোমবার  নির্দেশনা প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতির ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনকালে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন কারাবন্দিদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজীকরণে তার সদিচ্ছা কামনা করেন।

তিনি আরো জানান, কারা মহাপরিদর্শকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি রেজিস্ট্রারকে উল্লেখিত নির্দেশনা প্রদান করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জারিকৃত সার্কুলারে (০৫/২০১৬) বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হয়েছে যে, সাধারণত অর্থদণ্ডসহ কারাবন্দিরা বিধি অনুযায়ী শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে অথবা পরে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড পরিশোধে আগ্রহী হন। বিদ্যমান জেল কোড অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর সরাসরি সুযোগ না থাকায় সাজাপ্রাপ্ত অধিকাংশ বন্দির প্রতিনিধি অথবা নিকটাত্মীয়দের আদালতে গিয়ে অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজসাধ্য হয় না।

সার্কুলারে আরো বলা হয়, অনেক সময় আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হয়, মামলার নথি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না, ক্ষেত্রেভেদে ঊর্ধ্বতন আদালতে প্রেরণের কারণে নথি সংশ্লিষ্ট আদালতে সংরক্ষিত থাকে না। ফলে সহজে অর্থদণ্ড পরিশোধ সম্ভব হয় না। আবার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালত থেকে ভিন্ন কোনো জেলার কারাগারে আটক থাকলে অথবা তার আত্মীয়স্বজন দূরবর্তী স্থানে বসবাস করলে অর্থদণ্ড পরিশোধ কষ্টসাধ্য, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এসব জটিলতায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কারাবন্দিরা সময়মত অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে না পেরে অতিরিক্ত কারাভোগ করেন। ফলে নানাবিধ জটিলতা তৈরি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো আদালত কর্তৃক জেল-জরিমানা একত্রে আরোপ করা হলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির প্রতিনিধি অথবা নিকটাত্মীয় আরোপিত অর্থদণ্ড কারাভোগের শেষ হওয়ার পূর্বে অথবা পরে যে কোন সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকে (রায় প্রদানকারী আদালত যেখানে অবস্থিত সেই জেলায় বা যে জেলার কারাগারে আসামি অবস্থান করেন সেই জেলার ব্যাংকে) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করতে পারবেন। অর্থদণ্ড জমাদানের জন্য ট্রেজারি চালানের কোড নম্বর নিম্নরূপ

অর্থদণ্ড প্রদানকারী আদালতের নাম                                                       কোড নম্বর
দায়রা/সমপর্যায়ের আদালত                                                                       ১ ১২২১ ০০০০ ১৯০১
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসি                                                                    ১ ২১০৭ ০০০০ ১৯০১
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি                                                                       ১ ২১০৮ ০০০০ ১৯০১

এছাড়া আরো বলা হয়, অর্থদণ্ড ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমাদানের পর ট্রেজারি চালানের কপি কারাবন্দি যে কারাগারে কারাদণ্ড ভোগ করছেন সরাসরি সেই কারা কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ ট্রেজারি চালানটি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অনলাইনে/টেলিফোনের মাধ্যমে চালানটির সঠিকতা ও সাজা পরোয়ানায় উল্লেখিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ যাচাই করবেন। এক্ষেত্রে আরোপিত সমুদয় অর্থদণ্ড পরিশোধিত হয়েছে মর্মে কারা কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে বিধি মোতাবেক কারাবন্দিকে মুক্তি প্রদান করবেন এবং অর্থদণ্ড পরিশোধ ও কারাবন্দি মুক্তি প্রদানের বিষয়টি বিচারিক আদালতকে অবহিত করবেন বলে নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ