Home > জাতীয় > যেভাবে এক ধনকুবেরের পতন

যেভাবে এক ধনকুবেরের পতন



জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজা কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১০টা ৩০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এই নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

এর মধ্য দিয়ে এক ধনকুবেরের পতন হয়েছে। ব্যাংক, হাসপাতাল, কৃষি ব্যবসা, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়, ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এই নেতা।

ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ১১৩টি শেয়ার, কেয়ারি লিমিটেডের ১৪ হাজার শেয়ার, কেয়ারি টেলিকমের ১০ হাজার, কেয়ারি ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসেসের ১ হাজার শেয়ার, কেয়ারি ঝর্নার ২০টি, কেয়ারি তাজের ৫টি, কেয়ারি সানের ৫টি, কেয়ারি স্প্রিংয়ের ২০টি, সেভেল স্কাইয়ের ১০০, মীর আলী লিমিটেডের ২৫টি এবং দিগন্ত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের ১০০টি শেয়ার রয়েছে মীর কাসেম আলীর নামে।

এছাড়াও ১৬টি প্রতিষ্ঠানে ৩০ হাজারের বেশি শেয়ার রয়েছে তার নিজ ও পরিবারের নামে। ঢাকার মিরপুরের রয়েছে তার বহুতল বাড়ি। তার তত্ত্বাবধানে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এসব ব্যবসা থেকে বিপুল আয়ের বড় একটি অংশ তিনি ব্যয় করতেন জামায়াতের রাজনীতির পেছনে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ সম্পদই বিভিন্ন কোম্পানি, ট্রাস্ট ও বেসরকারি সংস্থার নামে রয়েছে। বৈধভাবে আয়কর রিটার্নে তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

মোহাম্মদপুরে একতা সোসাইটির ৫ কাঠা জমি ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে সাড়ে ১২ শতক জমি রয়েছে। তিনি ধানমণ্ডির বহুতল ভবন কেয়ারি প্লাজার ১৭৮ দশমিক ৬৯ বর্গমিটারের মালিক।

তিনি কেয়ারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য (প্রশাসন), ইবনে সিনা হাসপাতালের পরিচালক, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি পরিচালক, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ও ফুয়াদ আল খতিব চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্য। তার তত্ত্বাবধানে থাকা কেয়ারি লিমিটেডের নামে ব্যাংক ঋণ ৬০ কোটি ৯৩ লাখ, ইবনে সিনা ট্রাস্টের নামে ৫০ কোটি, ইবনে সিনা হাসপাতালের ৬ কোটি ৩৪ লাখ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০ কোটি, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের নামে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়ালের ২৩ কোটি ৭৫ লাখ এবং ফুয়াদ আল খতিবের নামে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে মীর কাসেম পালিয়ে যান লন্ডনে। সেখান থেকে সৌদি আরবে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে মুসলমানদের ক্ষয়ক্ষতি, মসজিদ-মাদরাসা ভাঙার বর্ণনা আর পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশি মুসলমানদের মানবেতর জীবনের কথা বলে তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ জোগাড় করেন তিনি।

পরে ওই অর্থ মসজিদ-মাদ্রাসা পুণ:নির্মাণ কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে ব্যয় না করে নিজেই ভোগ করতে থাকেন। গড়ে তোলেন এনজিও। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর দেশে ফিরে আসা মীর কাসেম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সাহায্যপুষ্ট রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী নামের এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর হন। সেই এনজিওর অর্থে তিনি একের পর এক গড়ে তোলেন ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

সেই থেকে জামায়াতের সাংগঠনিক ব্যয় নির্বাহে সবচেয়ে বেশি অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিস্ট নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের নেতৃত্বেও ছিলেন মীর কাসেম আলী। যুক্তরাষ্ট্রের একটি লবিস্ট ফার্মকে আড়াই কোটি ডলার দিয়েছেন। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২শ কোটি টাকা।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ