Home > জাতীয় > তামিমের লাশ নিতে চান না গ্রামবাসী

তামিমের লাশ নিতে চান না গ্রামবাসী


নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ তামিম আহমদ চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি শনিবার ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’ এ নিহত হয়েছেন।

জঙ্গি হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে খ্যাত তামিম চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরীর লাশ নিতে চান না বিয়ানীবাজারে তার গ্রামের লোকজন। এমনটাই জানিয়েছেন তামিমের গ্রামের বাসিন্দা এবং বিয়ানীবাজারের দুবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ।

আজ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফোনে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ তামিমের মৃত্যু নিয়ে শোকাহত নয়। তার মৃত্যুতে কারো কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমাদের গ্রামের মানুষ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এসবের বিরুদ্ধে। তামিমের মতো জঙ্গির লাশ আনতে কেউ যাবে না।

বিয়ানীবাজারে গ্রামের বাড়ি হলেও তামিমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কানাডায়। তামিম আহমদ চৌধুরীর জন্মের পর মা, বাবা, দুই ভাই ও একমাত্র বোনকে নিয়ে মাত্র একবারের জন্য দেশে এসেছিলেন তিনি। ২০০১ সালে তাদের সেই সফরে গ্রামের বাড়িতে যাননি কেউই। সিলেট শহরে বাসা ভাড়া করে ৩ মাস থেকেছিলেন তারা। তারপর আবার ফিরে যান কানাডায়।

তামিম আহমদ চৌধুরীর বাবা শফিকুর রহমান চৌধুরীর স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি সপরিবার কানাডায় পাড়ি জমান। এরপর খুব কম সময়ই তারা দেশে ফিরেছেন। গ্রামের বাড়ির কারো সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক নেই।

তামিম চৌধুরী নিহত হলেও এ নিয়ে কোনো দুঃখবোধ নেই তার গ্রামের বাড়ির স্বজনদের। তামিমের চাচা নজরুল ইসলাম গত রোববার মারা গেছেন। এ নিয়েই তার গ্রামের বাড়ির স্বজনরা বেশি ব্যথিত। অন্যকিছু নিয়ে তাদের ভাবনা নেই।

তামিমের চাচাতো ভাই ফাহিম আহমদ চৌধুরী জানান, গত রোববার বাবা (নজরুল ইসলাম) মারা গেছেন। পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবাই এজন্য শোকাহত। তামিমের মতো জঙ্গির মৃত্যু নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। তার সঙ্গে আমাদের কারো যোগাযোগও ছিল না।

এদিকে তামিম চৌধুরীর নিহত হওয়া প্রসঙ্গে তার ইউনিয়নের (দুবাগ) চেয়ারম্যান আবদুস সালামের ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তামিম আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার পাসপোর্ট নম্বর এএফ ২৮৩৭০৭৬।

কানাডার উইন্ডসরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিন সন্তানের জনক তামিম আহমদ চৌধুরী। ২০১৩ সালে হঠাৎ করে কানাডা থেকে নিখোঁজ হন তিনি। সেখান তিনি আইএস-এ যোগ দেন বলে ধারণা করা হয়।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ