Home > জাতীয় > নির্বাচনী ব্যবস্থায় পর্যায়ক্রমে আমরা পেছনে ফিরছি

নির্বাচনী ব্যবস্থায় পর্যায়ক্রমে আমরা পেছনে ফিরছি

নিউজ ডেস্ক

জনতার বাণী

ঢাকা: স্থানীয়

সরকার

বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এদেশে ১৯৯১

থেকে ২০০১— এ সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের

মোটামুটি একটি কাঠামো দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, মানুষের

মনে নির্বাচনের ওপর আস্থা ফিরে এসেছিল। তবে

২০১৪ থেকে পর্যায়ক্রমে আবার আমরা পেছনে ফিরছি।

তিনি বলেন, শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়, স্থানীয়

সরকারব্যবস্থাই এখন অকেজো। মানুষ কেন ভোট

দেবে? মার্চ স্বাধীনতার মাস বলে আরেকটি কথা বলি।

যে অবস্থার ভেতর দিয়ে আমরা এখন যাচ্ছি, এটা

একাত্তরে থাকলে স্বাধীনতাযুদ্ধ হতো কি না, আমার

সন্দেহ আছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপকভাবে পেশিশক্তির

ব্যবহার, ভোটে নজিরবিহীন জালিয়াতিরসহ ব্যাপক

অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে প্রথম আলোকে

দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ শাসন, রাজনীতি, নির্বাচন

ও স্থানীয় সরকার–বিষয়ক লেখক ও গবেষক। চট্টগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষক

অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ স্থানীয় সরকার

কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্বও পালন করেছেন।

বর্তমানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং

বিআইজিডি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং ফেলো

হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

তাকে প্রশ্ন করা হয়, নিয়মিতভাবে দেশে নির্বাচন

হচ্ছে, কোনো ভোটজট নেই…

জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন সব সময়

গণতন্ত্রের জন্য হয় না। কখনো একনায়কতন্ত্রকে

মহিমান্বিত করার জন্যও নির্বাচনের প্রয়োজন হয়। তাই

নির্বাচন মানেই গণতন্ত্রচর্চা নয়। নির্বাচন গণতন্ত্রের

সব গুণের সমষ্টি নয়। নির্বাচনকে যখন একটি হাতিয়ার

হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন সে নির্বাচন সে

অনুযায়ী ফল বয়ে আনে। এ দেশে ১৯৯১ থেকে

২০০১— এ সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের মোটামুটি

একটি কাঠামো দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, মানুষের মনে

নির্বাচনের ওপর আস্থা ফিরে এসেছিল। ২০১৪ থেকে

পর্যায়ক্রমে আবার আমরা পেছনে ফিরছি।

‘ভোট ব্যবস্থার এই অবস্থার দায় কি শুধু সরকারি দলই

নেবে, বিএনপি নেবে না?- প্রশ্ন করা হলে

তোফায়েল আহমেদ বলেন,  সরকারকে প্রধান দায়

নিতে হবে। বিএনপিকেও অবশ্যই দায় না নিলেও কুফল

ভোগ করতে হবে দীর্ঘদিন। বিএনপি মানুষকে

আশ্বস্ত করার মতো কিছু করতে পারেনি। মানুষ

দেখতে চায়, কেউ আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তারা তা

পারেনি।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিএনপির ব্যর্থতা কি

শোচনীয় নয়?

জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকার ও বিএনপি

উভয়ের ব্যর্থতা নয়। অপরাধ দুরকম। সরকার ও সরকারি দল

আদর্শচ্যুত। তারা আদর্শের নতুন বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন।

সবাইকে ওই বয়ান গ্রহণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে

বাধ্য করছেন। বিএনপি কাউন্টার ন্যারেটিভ বা পাল্টা বয়ান

দিতে পারছে না। এটি বিএনপির শোচনীয় ব্যর্থতা। সরকার

ও বিএনপি উভয়ের স্বার্থ অভিন্ন। মন পরিষ্কার নেই

বলেই আদর্শের লড়াইয়ের তাড়া নেই। আদর্শের

লড়াই না থাকলে দুদলের ক্ষমতার লড়াইয়ে জনগণ অংশ

নেবে না। সামগ্রিক অনিয়ম–অব্যবস্থাপনা ও স্খলনের

নিট ফল হচ্ছে গভীর হতাশা।

তিনি বলেন, ইউপি নয়, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাই এখন

অকেজো। মানুষ কেন ভোট দেবে। মার্চ

স্বাধীনতার মাস বলে আরেকটি কথা বলি। যে অবস্থার

ভেতর দিয়ে আমরা এখন যাচ্ছি, এটা একাত্তরে থাকলে

স্বাধীনতাযুদ্ধ হতো কি না, আমার সন্দেহ আছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির মতো আওয়ামী লীগের মিত্ররা

প্রার্থী দিতে না পারায় আক্ষেপ করছে। এ সম্পর্কে

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এসব আক্ষেপ-উষ্মার

মূল্য নেই। তারা আগেও প্রার্থী দিতে পারেননি। তারা

নিজেরা এমপি হতে পারতেন না, যদি নৌকার সঙ্গে না

থাকতেন। গত সাত বছরে তারা আশাব্যঞ্জক কোনো

উদ্যোগ নেননি, এখানেও সুবিধা হারানোর ভয়ে তারা চুপচাপ

শুধু নন, সমর্থনে নানা কথা বলবেন।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন

বলেছেন, এই নির্বাচন ঠিক করবে ইসি কীভাবে

ইতিহাসে চিহ্নিত হবে। তবে তার সাথে দ্বিমত পোষণ

করে  তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইতিহাসের স্থান

ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে। কাদম্বিনীকে আর

মরে প্রমাণ করতে হবে না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

বিপুলসংখ্যক মানুষ নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমসহ

আমাদের সবাইকে নির্মোহভাবে সামাজিক এবং রাজনৈতিক-

অর্থনীতির বিশ্লেষণে যেতে হবে। কেবল ইসির

দিকে সব বিষয়ে অঙ্গুলি নির্দেশ করলে চলবে না।

সংকটের প্রকার ও প্রকৃতি আরো অনেক গভীর, ভয়াবহ

ও সুদূরপ্রসারী।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ