Home > জাতীয় > ১১ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ায় তালিকা থেকে প্রকল্প বাদ

১১ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ায় তালিকা থেকে প্রকল্প বাদ

১১ কোটি টাকা খরচের পর নানা বাধার অজুহাতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কন্সট্রাকশন অব লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল’ পিপিপি প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। এই প্রস্তাবটিসহ মোট ৩টি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের ভার্চুয়াল সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেন। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় ৫৯.৮৭ একর জমির ওপর পিপিপি এর আওতায় ‘কন্সট্রাকশন অব লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল’ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ তারিখের সিসিইএ সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। বর্তমানে আলোচ্য টার্মিনাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সঠিক প্রডাক্টেভিটিও পাওয়া সম্ভব নয়। তাই, সার্বিক দিক বিবেচনায় প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা হতে বাদ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে, প্রস্তাবের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় ৫৯.৮৭২৫ একর জায়গায় ৫০০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। তাদেরকে পুনর্বাসন কিংবা উচ্ছেদ করতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন যা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ বাবদ অর্থ খরচ করার সুযোগ নেই। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক রেডি রেসপন্স ঘাটি নির্মাণ করার ফলে জায়গা সীমিত হয়ে পড়ে। প্রকল্প এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য উপযুক্ত রাস্তা ও রেললাইন নেই। এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা থাকা সত্বেও ইতোমধ্যে প্রকল্পের ১১ কোটি ২২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৭২ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে।

সভায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের বছরব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে সমাপনী ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পালন করা হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সেবা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন করাসহ মোট ৩টি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের বছরব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে সমাপনী ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম নিয়োগ, নগরসজ্জা এবং দেশে-বিদেশে ওয়ার্কশপ/সেমিনার/কনফারেন্স, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজনসহ বিভিন্ন প্রকাশনা, ভিডিও, ডকুমেন্টারি, এলইডি স্কিন স্থাপন এবং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সময় সাপেক্ষ। তাই রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে পিপিএ ২০০৬ এর ৬৮(১) ধারা এবং পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বর্ণিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড- এর মালিকানাধীন ‘ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার’-এর নতুন ক্লাউড সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি, কালিয়াকৈর, গাজীপুর-এ স্থাপিত ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার ই-নথি, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সরকারের বিভিন্ন সেবা স্থাপনের কাজ চলমান। বর্তমানে ডাটা সেন্টারে ক্লাউড স্টোরেজের পরিমাণ চাহিদার ততুলনায় অপ্রতুল। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার ডাটা নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে পিপিএ ২০০৬ এর ৬৮(১) ধারা অনুযায়ী ‘ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার’ এর জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ক্লাউড ক্রয়ের আনুমানিক ব্যয় হবে ১৫০ কোটি টাকা।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী
শিরোনামঃ