Home > জাতীয় > সারোয়ার আলী হত্যা চেষ্টা ডাকাতির ঘটনা: পিবিআই

সারোয়ার আলী হত্যা চেষ্টা ডাকাতির ঘটনা: পিবিআই

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী হত্যা চেষ্টা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। ভুক্তভোগী এটিকে জঙ্গি হামলা বলে দাবি করে আসলেও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রাথমিকভাবে এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলে মনে করছে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, তারা সোমবার ভোর ৬টায় উত্তরা থেকে মো. ফরহাদ (১৮) নামে ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে সাত জন জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হলেন ডা. সারওয়ার আলীর স্ত্রীর সাবেক গাড়ি চালক নাজমুল।

বশির আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার ফরহাদ ডে লেবার হিসেবে কাজ করে। গত ৩ জানুয়ারী তাকেসহ আরো একজনকে দৈনিক ৫০০ টাকা চুক্তিতে কাজে নেয়। পরে এ চক্রে আরো চারজন যোগ হয়ে আশকোনার একটি রেস্টুরেন্টে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন বিকেলেও আশকোনার রোজ ভ্যালি হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে সাতজন পরিকল্পনা করে এবং সন্ধ্যার পরে ঘটনাস্থলে যায়।

বশির আহমেদ আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে ডাকাতি বলে মনে হচ্ছে। টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিতে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ফরহাদ জানিয়েছে। তবে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসবে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ দুজন ছাড়া অন্যদের নাম পরিচয় জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বশির আহমেদ বলেন, উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ওই বাসার তৃতীয় তলায় সারোয়ার আলীর মেয়ে এবং চতুর্থ তলায় তিনি নিজে থাকেন। দুর্বৃত্তদের দুজন প্রথমে তৃতীয় তলায় গিয়ে মেয়ে, মেয়ের স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে। তাদেরকে আঘাত করে সারোয়ার আলীর অবস্থান জানতে চায়। চতুর্থ তলার ফ্লাটের কথা বললে একজন উপরে যায় এবং দরজায় নক করে। দরজা খোলা হলে প্রথমে সারোয়ার আলীর স্ত্রী ও পরে সারোয়ার আলীকে জিম্মি করে। পরে তৃতীয় তলা থেকে আরো একজন আসে। এসময় তারা চিৎকার করলে দ্বিতীয় তলার থাকা এক মেজর এবং তার ছেলে গিয়ে তাদের বাঁচান। এরমধ্যে সারোয়ার আলীর মেয়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের দিয়ে সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাসায় দুজনই গিয়েছিল, বাকি পাঁচজন বাসার আশপাশে ছিল। ফরহাদও বাসার আশপাশে অবস্থান করছিল। তবে পুলিশ যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে, তারা এই সাতজনের বাইরে। তবে গ্রেপ্তার ওই দুজনেরও এ ঘটনায় সহযোগিতা রয়েছে।

হামলার সঙ্গে দুজন শিক্ষিত যুবক রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। এছাড়া কোনো এক বিষয়ে ডা. সারোয়ার আলীর সঙ্গে তর্ক করার কারণে চালক নাজমুলকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল বলে জানান বশির আহমেদ।

গত ৫ জানুয়ারি রাত সোয় দশটায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুই দুষ্কৃতকারী তার উত্তরার বাসভবনে ঢুকে। সারওয়ার আলীকে তারা আঘাত করতে না পারলেও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী মাখদুমা নার্গিস, তাদের মেয়ে সায়মা আলী ও জামাতা হুমায়ুন কবির ও দুই প্রতিবেশী।

হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় চার–পাঁচজনকে আসামি করে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মামলা করেন সারওয়ার আলী।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ