Home > জাতীয় > রাজাকারের তালিকা প্রকাশ রোববার

রাজাকারের তালিকা প্রকাশ রোববার

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। তারা বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চালিয়েছে নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন। সেই রাজাকার বাহিনীর তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে রাজাকারের নাম প্রকাশ শুরু হবে। ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যপত্র (১ ডিসেম্বর) থেকে জানা গেছে, গত ২১ মে ১৯৭১ সালের বেতনভোগী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি গত ২৬ মে রাজাকার, আল বদর, আল শামস, শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকা সংগ্রহ করে তা রক্ষণাবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও চিঠি পাঠানো হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করে এবং জেলাভিত্তিক রাজাকারের তথ্য সংগ্রহ করে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে কয়েক জেলা থেকে ৮ হাজার ৪০০ জনের নাম পাঠানো হয়। বাকি জেলা থেকেও নাম পাঠানোর কাজ চলছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ১১ হাজার রাজাকারের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। এ তালিকা থেকে নাম প্রকাশ করা হবে। ওয়েবসাইটে ৮ হাজার ৪০০ রাজাকারের তালিকা আপলোড হয়েছে। এখনও আপলোড অব্যাহত আছে। আপলোড শেষে তালিকাটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

অপরদিকে যেসব রাজাকার বেতন-ভাত নেয়নি কিন্তু একাত্তরে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও লুণ্ঠনে পাক বাহিনীকে সহায়তা করেছে তাদের নামসহ তালিকাও প্রকাশ করা হবে।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের তালিকা এখনও পূর্ণাঙ্গ নয়। তবে মন্ত্রণালয়ের কাছে যে তালিকা গেছে তার মধ্যে রয়েছে চাঁদপুরে ৯ জন, মেহেরপুরে ১৬৯ জন, শরীয়তপুরে ৪৪ জন, বাগেরহাটে ১ জন ও নড়াইল থেকে ৫০ জন রাজাকারে তালিকা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একাত্তরে যেসব রাজাকার বেতন-ভাতা নিয়েছে অথবা যেসব ব্যক্তির নামে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র এসেছে, তাদের নাম ঠিকানা জেলাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ছিল। সেই রেকর্ড সংগ্রহ করে রাজাকারদের তালিকা করা হচ্ছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারের একটি তালিকা পাঠিয়েছেন। এটি যাচাই-বাছাই করছে মন্ত্রণালয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইজিংবিডিকে বলেন, ১৫ ডিসেম্বর প্রাথমিকভাবে ৮ হাজার ৪০০ রাজাকারের নাম প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে বেশির ভাগ জেলা উপজেলা থেকে নাম আসেনি। তাই ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ হবে।

তিনি বলেন, ৭১ সালে থানা ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য গত ২১ মে সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়। পরে ২৮ আগস্ট আবারও তাগিদপত্র দেয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান রাইজিংবিডিকে বলেন, তালিকা হাতে আসা শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৬ ডিসেম্বর বা বিজয় দিবসের আগের দিন থেকে যতটুকু আসবে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান সরকারের বেতনভুক্ত রাজাকারদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এটা চলতে থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকারদের নাম, পরিচয় এবং ভূমিকা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে এ উদ্যোগ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ