Home > জাতীয় > ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশ

ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশ

বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার হেক্টর ফসল পানিতে ডুবে গেছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। দুর্গত এলাকায় পৌঁছেনি কোনো সরকারি ত্রাণ। : জগন্নাথপুর : জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। অনাকাঙ্খিত দুর্ভোগে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। নৌকা দিয়ে দিয়ে কোন রকমে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন পানিবন্দি লোকজন। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি লোকজন।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টিপাতে ও উপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২ দিন ধরে নদীর পানি চরম আকার ধারণ করেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীরপাড়ে অবস্থিত প্রায় ৫০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। সেই সাথে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদ ও হাটবাজার। উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের স্বাধীন বাজারসহ প্রায় ৩০টি, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার, রৌয়াইল বাজারসহ ১৫টি ও আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেছি বাজারসহ ৮টি গ্রাম তলিয়ে যায়। সেই সাথে তলিয়ে গেছে ৩টি ইউনিয়নের গ্রামীণ সকল রাস্তাঘাট। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যদিও জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও দক্ষিণপাড়া গ্রামে গ্রামবাসীর উদ্যোগে মাটির বাঁধ দিয়ে বন্যার পানি আটকানোর চেষ্টা করা হলেও কাজ হয়নি। অবশেষে বন্যার পানির ধাক্কায় বাঁধটি ভেঙে যায়।পাইলগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, বন্যায় আমার ইউনিয়নের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। আগের বারের চেয়ে এবারের বন্যায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। আশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ূব খান জানান, বন্যায় আমার ইউনিয়নের বড়ফেছি বাজারসহ ৭/৮ টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় জনভোগান্তি বেড়েছে। এদিকে ফোন রিসিভ না করার কারণে রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত প্রায় এক মাসে আগে জগন্নাথপুর উপজেলার এসব অঞ্চলে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতিসহ ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন জনসাধারণ। : নওগাঁ : আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর আত্রাইয়ে গতকাল সোমবার ভোর রাতে উপজেলার মিরাপুর নামক স্থানে রাস্তা কাম বাঁধ ভেঙ্গে আত্রাই উপজেলার সাথে নওগাঁর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ, উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল নওগাঁর ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আত্রাই-রানীনগরের বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, ছোট যমুনার পানি বিপদসীমার ৬২ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আত্রাই উপজেলার ফুলবাড়ি-উদনপৈ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১টি পয়েন্টে এবং মিরাপুর নামক স্থানে আত্রাই-নওগাঁ সড়ক ভেঙে প্রবলবেগে যমুনা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বন্যার পানি প্রবলবেগে প্রবেশ করায় মিরাপুর নামক স্থানের পল্লী বিদ্যুতের মেইন সঞ্চালন লাইনের একটি খুটি ভেঙে পড়ায় পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার কাশিয়াবাড়ি, বান্ধায়খাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশংকা দেখা দিয়েছে। নওগাঁ-আত্রাই সড়ক ভাঙনের কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে স্বল্প কিছু সিএনজি ও ভটভটি চলাচল করলেও অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বলেও যাত্রীদেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে বন্যার ফলে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ চলতি রোপা আমন ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাথে সাথে শতাধিক মাছ চাষির পকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বেশকিছু স্কুল ডুবে যাওয়ায় ওই সকল স্কুলে ছুটির ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আবার কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণসামগ্রী দেয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে উপজেলার ফুলবাড়ি, উদপেয়, পূর্ব মিরাপুর, মিরাপুর, মির্জাপুর, তারাটিয়া, মাগুড়াপাড়া, আকবরপুর, ছোটডাঙ্গা, বড়ডাঙ্গা, উচল, কাশিমপুর , ঝনঝনিয়া, শাহাগোলা, বহলা, চাপড়া, বেড়াহাসনসহ প্রায় ৩৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে আত্রাই উপজেলার প্রাই ৫ হাজার হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসল। এদিকে উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া ও হাটকালুপাড়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বলরামচক, শিবপুর, মালিপুকুর, চকবিষ্টপুর, গুরলয়, স্টুকিগাছা, জাতোপাড়া, রসুলপুর, মহাদিঘী, দরগাপাড়া, আত্রাই মাছবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের বেশকিছু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি রাস্তায় এবং উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আর যেন কোথাও ভাঙ্গন না ভাঙ্গে সে জন্য এলাকাবাসি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সড়ক রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.এম এ আজিজসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বৃন্দ।রোববার বিকেল থেকে নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চালিক সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ভাবে সড়কটি রক্ষার করার চেষ্টা করা হলেও সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা করা হয়নি এমনটাই অভিযোগ করেন স্থানীয়রা শাহাগোলা ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা। স্থানীয় শাহাগোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন (চান্দু) জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙা ও আত্রাই-নওগাঁ মেইন রোড ফাটল দেখা দেয়ারপর স্থানীয় ভাবে রাস্তা রক্ষার জন্য চেষ্টা করে সম্ভব হয়নি। আত্রাই উপজেলার নির্বাহী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, আত্রাই-নওগাঁ মেইন সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এলাকাবাসি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অন্য কোথাও যেন আর না ভাঙ্গে। : গোবিন্দগঞ্জ : গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা’র গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গুরুত্বপূূর্ণ সড়ক।

সরেজমিনে উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে স্থানীয় করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীর পানি বিপদ সীমা ছুই ছুই করছে। ভাঙন এলাকাগুলো ¯থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাগণ পরিদর্শন করেছেন। : জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তীব্র ¯্রােতের কারনে করতোয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের পৌর এলাকার খলসি, ফতেউল্লাপুর, শাকপালা, শাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল, নরেঙ্গাবাদ, গোসাইপুর, গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের কাইয়াগঞ্জ, তরফমনু, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানতলা ব্রিজ সংযোগ সড়ক সহ বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের কাইয়াগঞ্জ এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কটি হুমকির সন্মুখীন হওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাগন পরিদর্শন করে জরুরী ভিত্তিতে সড়ক রক্ষায় পাইলিং শুরু করার নির্দ্দেশ দিয়েছে বলে জানাগেছে। এদিকে উপজেলার মহিমাগঞ্জের বালুয়া গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চরম হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েছে। যেকোন মূহুর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে রোপিত আমন ধান তলিয়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। অন্যদিকে মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলায় মহিমাগঞ্জ-বোনারপাড়া সড়ক সেতুর সংযোগ রাস্তাটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাঙ্গণের মুখে পড়া রাস্তাটি রক্ষা করতে গাছের গুড়ি দিয়ে পাইলিং করা হচ্ছে। যেকোন মূল্যে তিনি ভাঙ্গন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সর্বাতœক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে তিনি জানান। পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে আগামি কয়েক দিনের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ফসলের ক্ষেত, প্লাবিত হচ্ছে। : কুড়িগ্রাম : স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ও চিলমারী প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় ত্রান না পৌছায় দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসীরা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট।

জেলা প্রশাসন থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা এখনও বিতরন শুরু হয়নি। : কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, জেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। জেলার নাগেশ্বরী পৌর এলাকার ডুবাছড়ি ব্রীজ ও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ডায়নারপাড়, দীঘিরপাড়, জামতলা, চৌবাড়ী, বাবুরহাট, ডাকনিরপাট, ভগিরভিটা, আরাজীকুমরপুরসহ ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। অপর দিকে জেলার ৯ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জেলা শহর থেকে পাঁচগাছি ইউনিয়নে প্রবেশের পাকা রাস্তার উপর হাঁটু পানি। : কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার ঝুনকার চরের বাসিন্দা আনোয়ার জানান, বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি সব তলিয়ে আছে। আর থাকার মতো অবস্থা নাই। বউ, বাচ্চা, হাঁস-মুরগি নিয়ে উচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। খাবার নাই, শুকনো খাবার খেয়ে কোন রকমে দিন পার করছি। : সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, আমার ইউনিয়নে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। এসব পরিবারের জন্য মাত্র ৩ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। তালিকা তৈরি হচ্ছে। ২/১দিনের মধ্যে বিতরন করা হবে। : নাগেশ্বরী পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহমান জানান, পানির প্রবল ¯্রােতে ডুবাছড়ি ব্রিজটি ভেঙ্গে ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমি ব্রীজটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুত যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা করাসহ ব্রিজটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। : কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শওকত আলী জানান, বন্যার পানিতে গত ৪ দিন ধরে নিমজ্জিত হয়ে আছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, বন্যা দুর্গতদের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী দ্রুততম সময়ে বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। : কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৩ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। : নলডাঙ্গা : নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবহিত হওয়ায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদী পাড়ের লোকজনের কাচাঘরবাড়ি ঝুকিতে রয়েছে ভেসে যাচ্ছে পুকুরের মাছ। শ শ একর রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে । পানি বন্দি হয়ে পরেছে হাজার হাজার মানুষ । : সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার বারনই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিন ২ ফুট থেকে আড়াই ফুট উচ্চতায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে সোনাপাতিল, তেঘরিয়া, বাঁশিলা, পাটুল, মাধবপুর, ব্রহ্মপুর গ্রামের নদী পারের মানুষের কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার ঝুকিতে রয়েছে । আর নদী পারের রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া হালতি বিল, মাধবপুর বিল, বাঙ্গাল খলসি বিলের বন্যার পানি অবনতি হওয়ায় কয়েক হাজার একর রোপা আমন ধান ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে পুকুরের মাছ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ । এ ব্যাপারে খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভুট্টু জানান হঠাৎ বন্যায় একডালা, ডাঙ্গাপারা, মিরপুর, ধুলউরি, দীঘিরপার, কুচকরী এলাকার রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে এবং কাঁচাবাড়িঘর ঝুকির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া বারনই নদীর দুই ধারের বাধ হুমকি মুখে পড়েছে। :

চকরিয়া : চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, টানা একটি ঘুর্ণিঝড় কোমেন ও পর পর ৪টি ভয়াবহ বন্যায় কেবল এক কিলোমিটার একটি গ্রামীন পাকা সড়ক ভেঙে গেছে ৫টি স্থানে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে লাগোয়া চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পূর্ববানিয়ারকুম গ্রামে অবস্থিত সড়কটি। নলবিলা ক্ষণপরিক্ষণ ফাঁড়ির একটু উত্তরে চৌধুরৗ বাজর হয়ে প্রবাহিত হয়েছে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পূর্ব বানিয়ারকুম, পশ্চিমবানিয়ারকুম ও ইসলামনগরের দিকে। সড়কটির নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক সড়ক। দৈনিক হাজারও মানুষের যাতায়তের মাধ্যম এটি। স্থানীয় লোকজন জানান, আরকান সড়কের সাথে লাগোয়া শহীদ এনামুল হক সড়কটি এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের চলাচলের মাধ্যম সড়কটি। পর পর ৪টি বন্যায় ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে। : স্থানীয় ইউপি সদস্য মাস্টার মো: আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, সড়কটি এককিলোমিটার হলেও এর সাথে সংযোগ রয়েছে অনেক সড়ক। তাই চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সড়কটি। জনচলাচলের সুবিধার্থে অনেক আগে সড়কটি পাকা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে ১টি ঘুর্ণিঝড় কোমেন ও পর পর টানা ৪টি ভয়াবহ বন্যায় ১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া পুরো রাস্তাই খানাখন্দে ভরপুর হয়ে গেছে। রিকশা, সিএনজি যাতায়ত করা দুরের কথা মানুষের হাটা চলাও নিরাপদ নয়। কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান শরীফউদ্দিন চৌধুরী জানান, টানা ৪টি বন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় অভ্যন্তরীণ সড়কের এখন বেহাল অবস্থা। ভাঙন যেমন হয়েছে, তেমনি খানা খন্দে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্য শহীদ এনামুল হক সড়কটিতে ৫ স্থানে ৫টি ভাঙ্গন হয়েছে। বন্যার প্রবল তুড়ে সড়কটি ভেঙে গেছে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ