Home > জাতীয় > পদ্মার ভাঙন রোধে সোয়া লাখ ‘কলেমার বাণী’ নিক্ষেপ

পদ্মার ভাঙন রোধে সোয়া লাখ ‘কলেমার বাণী’ নিক্ষেপ

মানিকগঞ্জ: কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জগতদিয়া ও আশপাশের এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন বিলীন হয়েছে এসব এলাকার প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি। জগতদিয়া গ্রামের সাহেব আলী মন্ডলের (৯৮) বাড়িও রয়েছে হুমকির মুখে।

এই ভাঙন রোধে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসে কাগজে আরবি হরফে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ ছাপিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে সোয়া লাখ আটার গুলিতে ভরে নদীতে নিক্ষেপ করছেন।

সোমবার দুপুর থেকে এলাকার সর্বস্তরের শ’ শ’ মানুষের সহযোগিতায় ভাঙন কবলিত এলাকায় এই কলেমা লেখা কাগজ ভরে আটারগুলি নিক্ষেপ করছেন সাহেব আলী।

১২ বছর আগেই একইভাবে কলেমা লেখা কাগজ ভরে আটার গুলি নদীতে ফেলে ভাঙনরোধ করেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি কারণে শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার ভাটির ধুতরাবাড়ি, নয়াকান্দি, মান্দাখোলা, কাইজারটেক ও মালুচী এলাকা পর্যন্ত ভাঙন শুরু হয়েছে।

ভাঙনরোধ এসব এলাকায় সরকারি কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করেনি এলাকাবাসী।  এ কারণে এই ভাঙনরোধে ধর্মীয় বিশ্বাসে সাহেব আলী কলেমা লেখা কাগজ ভরে আটার গুলি তৈরি করে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে ফেলছেন।

সাহেব আলী জানান, দুই ছেলে ও সাত মেয়ে নিয়ে তার সংসার। নিজের জমিজমা চাষাবাদ করেন তিনি। তিনি ৩৫ বছর এলাকায় ‘মোল্লার’ দায়িত্বে পালন করেছেন। অনেকে তাকে সাহেব আলী মোল্লা বলেও ডাকেন।

আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি তার রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। ১২ বছর আগে যখন এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছিল, তখন তিনি কলেমা লেখা কাগজ ভরে দুই মণ আটার ছোট ছোট গুলি তৈরি করে এলাকাবাসীকে নিয়ে নদীতে ফেলেছিলেন।

তখন নদী ভাঙনরোধ হয়েছিল। পরের বছর গুলি ফেলা এলাকায় নদীর চর জেগে উঠেছিল।

এ বছর আবার ভাঙন শুরু হওয়ায় আবার তিনি কলেমা লেখা কাগজ ভরে আটার গুলি তৈরি তৈরি করে নদীতে ফেলছেন।

সাহেব আলী আরো জানান, এ বছর তিনি সাত মণ আটার মন্ড তৈরি করেছেন। এলাকার জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

প্রেস থেকে আরবি হরফে কলেমা লেখা কাগজ ছাপিয়েছেন তিনি। কাগজ ছোট ছোট করে সোয়া লাখ কাগজের টুকরো করা হয়েছে।

পাক-পবিত্র হয়ে কলেমা পড়তে পড়তে একেকটা টুকরা আটার ভেতর ভরে ছোট ছোট গুলি তৈরি করে দিচ্ছেন এলাকার নারী-পুরুষেরা।

সেগুলো নদীর পাড় হেঁটে কলেমা পড়তে পড়তে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ট্রলার নিয়েও ভাঙন কবলিত এলাকায় এইগুলি নিক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান জানু জানান, সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছা। যেহেতু আল্লাহর কালাম নদীতে ফেলা হচ্ছে সেহেতু আল্লাহর মেহেরবাণীতে ভাঙন রোধ হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ