Home > জাতীয় > তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী

ঢাকা: সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। একইসঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহারেরও নিন্দা জানিয়েছে পরিষদ।

পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে এ ধরণের আইনের প্রয়োগ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

রবিবার পরিষদের সভা শেষে সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা ৫৭ (১) ও (২) বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন করে আসছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাংবাদিকরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আমলে নেয়া হয়নি। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংবাদিক প্রবীর সিকদার এ ধারায় গ্রেপ্তার হলে সরকারের ভেতর থেকেই সমালোচনা শুরু হয়। এখন ক্ষমতাসীন দলের কোনো কোনো নেতা বলছেন, ধারাটি সংশোধন করা হতে পারে।

এদিকে সম্পাদক পরিষদের সভায় ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৫’ এবং গণমাধ্যমের সার্বিক পরিস্থিতি ও আদালত অবমাননা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারোয়ার সভাপতিত্ব করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক  মাহফুজ আনাম, সম্পাদক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ইত্তেফাক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) তাসমিমা হোসেন, ইন্ডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, যুগান্তর সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল আলম, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এবং ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান।

বিতর্কিত ৫৭ ধারা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটি নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে এই আইনে গ্রেপ্তারের পর এ ধারাটির অপব্যবহার বন্ধ ও বাতিলের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

সমালোচকরা বলছেন, এ ধারাটি এমনভাবে করা হয়েছে, অনলাইনে যেকোনো তথ্য আদান-প্রদানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যা অন্তরায়।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানিয়ে দিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এ ধারা বাতিলের প্রশ্নই আসে না। তবে আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, যিনি প্রবীরের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন, বলেছেন আইনটি সংশোধন করা হতে পারে।

কী আছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের এই ৫৭ ধারায়?

এতে ইলেকট্রনিক ফর্মে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও এর দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘(এক) কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। (দুই) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

আইনজীবীরা বলেছেন, এই আইনটিকে অনেক বিষয় একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোটাই সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এ কারণে আইনের এ ধারা দিয়ে হয়রানির যথেষ্ট সুযোগ রয়ে গেছে। বিশেষ করে, ভিন্নমত দমনের জন্য এটা একটা যৎসই হাতিয়ার। কিছু পরস্পরবিরোধী বিষয়ও এখানে যুক্ত আছে।

২০০৬ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় এ আইনটি প্রণয়ন করা হয়। ২০০৬ সালে এই আইন পাস হওয়ার পর থেকে এর প্রয়োগ কিংবা ব্যবহার নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি।

২০১৩ সালে ২১ আগস্ট এই আইনে সংশোধনী আনা হয়। সংশোধনীতে এই ধারাটিতে পরিবর্তন এনে কারাদণ্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি করে অন্যূন সাত বছর এবং অনধিক ১৪ বছর করা হয়। ধারাটি প্রথম থেকেই ছিল অজামিনযোগ্য কিন্তু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর সকল ধারাই ছিল অআমলযোগ্য। যার অর্থ দাঁড়ায়- পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই আইনে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। নতুন সংশোধনীতে এই আইনকে আমলযোগ্য করায় পুলিশ চাইলেই যেকোনো সময় যেকাউকে এই ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে গ্রেপ্তার করতে পারবে।’

এই আইনে দোষীকে অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।

 

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ