Home > জাতীয় > শিক্ষকের পা ছুঁয়ে দোয়া নিলেন তথ্যমন্ত্রী

শিক্ষকের পা ছুঁয়ে দোয়া নিলেন তথ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছালেও ছাত্রের কাছে শিক্ষকের সম্মান অটুট থাকে। স্কুলজীবনের প্রিয় শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাকের কথা ভুলে যাননি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও। শুক্রবার চট্টগ্রামে প্রিয় শিক্ষকের বাসায় গিয়ে তার খোঁজখবর নিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। পা ছুঁয়ে সালাম করে দোয়া নিয়েছেন প্রিয় শিক্ষকের। এ সময় শিক্ষক এবং ছাত্র দুজনেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন হাছান মাহমুদ। এই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন তিনি।

সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন মোহাম্মদ ইসহাক। এখন আশি বছরের বেশি বয়স তার। এই গুণী শিক্ষক ১৯৯৪ সালে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অবসর নেন।

সময়ের পরিক্রমায় হাছান মাহমুদ আজ তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। রাষ্ট্রীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে দিন-রাত ব্যস্ত থাকলেও ভুলতে পারেননি মুসলিম হাই স্কুল এবং প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতি।

শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার টানে শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাককে দেখতে তার বায়েজিদ থানাধীন টেক্সটাইল ৩ নম্বর রোডের বাসায় যান তথ্যমন্ত্রী। প্রিয় ছাত্রের সান্নিধ্য ও সম্মান পেয়ে চোখ ভিজে যায় প্রবীণ মোহাম্মদ ইসহাকের। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তথ্যমন্ত্রীও। তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় একই ব্যাচের অন্য দুই শিক্ষার্থীও ছিলেন।

বহুদিন পর কাছে পেয়ে হাছান মাহমুদের কাছে তা পারিবারিক জীবন এবং সদস্যদের সর্ম্পকে জানতে চান মোহাম্মদ ইসহাক। প্রিয় শিক্ষকের কাছে তথ্যমন্ত্রী জানতে চান, এখন মুসলিম হাই স্কুলে পড়াশোনার মান কেমন? জবাবে শিক্ষক বললেন ‘খুবই ভালো। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়- এর মধ্যে থাকেই।’

আলাপচারিতার সময় শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন। বৈরুতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকেও ইংরেজিতে এমএ করেছেন। পরে তিনি শিক্ষকতায় এসেছেন।

শিক্ষকতায় না আসলে সচিব হতেন, তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো সেখানে (প্রশাসনে) যাব না বলে আগেই ঠিক করেছিলাম।

স্মৃতিচারণ করে তথ্যমন্ত্রী জানতে চান, ‘স্যার আগে সাইকেল চালাতেন, এখনও কি চালান?’ জবাবে স্যার বলেন, ‘অনেকদিন ধরে চালাই না।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ইসহাক স্যার সে সময়ে বাইসাইকেল নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতেন। স্যারের মতো গুণী শিক্ষকরা তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশে আলোকিত মানবসম্পদ তৈরিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্যারের অসামান্য অবদান ভুলে যাওয়ার মতো নয়।

ফিরে যাওয়ার আগে আরেকবার প্রিয় শিক্ষকের পা ছুঁয়ে সালাম করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাকও মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন মন্ত্রীকে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ