Home > জাতীয় > ‘পাস্তুরিত দুধ নিয়ে কারসাজি আছে কি না দেখা উচিত’

‘পাস্তুরিত দুধ নিয়ে কারসাজি আছে কি না দেখা উচিত’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : পাস্তুরিত দুধের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে দেশের দুধ আমদানিকারকদের কোনো কারসাজি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের এক বিশেষ সভায় লন্ডন থেকে ফোনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। সভায় তার বক্তব্য মোবাইল ফোনের সঙ্গে স্পিকার সংযুক্ত করে শোনানো হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পরিষ্কার রাখি চারপাশের পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন সমাজ- ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করছে আওয়ামী লীগ। আগামী ৩১ জুলাই, ২ ও ৩ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একযোগে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে এ সভা করল দলটি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই, একজন পরীক্ষা করে বলে দিলেন, দুধ ব্যবহারযোগ্য নয়। সঙ্গে সঙ্গে রিট করা হয়। সেখানে বলে দেয়া হয়, পাঁচ সপ্তাহ দুধ ব্যবহার করা যাবে না বা খাওয়ানো যাবে না। আমাদের যে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি, সাধারণ মানুষের যে বেঁচে থাকার পথগুলো সৃষ্টি করা, সেগুলো কেন বাধাগ্রস্ত করা হয়, এটাই আমার প্রশ্ন। এখানে আমার মনে হচ্ছে যে, আমদানিকারক যারা তাদের কোনো কারসাজি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখা উচিত। বা তারা কোনোভাবে উৎসাহিত করছে কি না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, তাদের এ বিষয়ে ভাবা উচিত, দেখা উচিত। হঠাৎ একটা গুজব ছড়িয়ে রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করা বা দেশের উৎপাদিত পণ্যের মান সম্পর্কে কথা বলা, এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। কাজেই যারা গুজব ছড়াবে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না, হঠাৎ একজন প্রফেসর সাহেব, তার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে একটা কথা ছড়িয়ে দিয়ে একটা রিট করা বা একটা সিদ্ধান্ত নেয়াটা…। এর প্রকৃত ফলাফলটা কী হবে, সেটা হয়ত কেউ চিন্তা করে না। দুধ বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে। আবার গরুর দুধ বিক্রি করে সেই গরুর খাবারও জোগাড় করা হয়। যারা খামার করেছে বা গরু পালন করছে, তাদের কাছে থেকে দুধ কেনা হচ্ছে। এই মানুষগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য গরু কিনে দিয়েছি। এই মানুষগুলো যদি দুধ বিক্রি করতে না পারে, অর্থ জোগাড় করতে না পারে, তাহলে গরুকে কী খাবার দেবে আর নিজে কীভাবে খাবার কিনে খাবে? এই বাস্তবতাটা চিন্তা করা দরকার।’

বিদেশ থেকে যেসব দুধ আসে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ‘যিনি দেশের দুধটা পরীক্ষা করেছেন তিনি বিদেশ থেকে আমদানি করা গুড়ো দুধগুলো পরীক্ষা করেছেন কি না? আমার মনে হয়, তিনি এটা কখনো করেন নাই। আমি অনুরোধ করব, তিনি যেন বিদেশ থেকে আমদানি করা গুড়ো দুধগুলো পরীক্ষা করে দেখেন। আমরা আমাদনিনির্ভর থাকতে চাই না, স্বনির্ভর থাকতে চাই। আমরা দেশের চাহিদা দেশের উৎপাদিত পণ্য দ্বারা মেটাতে চাই।’

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খাদ্যপণ্যের পরীক্ষার জন্য বিএসটিআইকে উন্নত ও আধুনিক করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান থাকায় সরকারের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত ১৪ কোম্পানির সবগুলোকেই ৫ সপ্তাহ পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ