Home > জাতীয় > জামিনের মেয়াদ বেড়েছে আব্বাস দম্পতি

জামিনের মেয়াদ বেড়েছে আব্বাস দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ ইমরুল কায়েস আগামী ১৯ আগষ্ট পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন।

এর আগে আজ ক্র্যাচে ভর দিয়ে আদালতে আসেন মির্জা আব্বাস। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও নেতাকর্মীরা।

মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, মামলাটিতে মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আজ তারা ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত তাদের অন্তবর্তী সময়ের জামিন দেন।

গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানকালে দুদকে দাখিল করা আফরোজা আব্বাসের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সময় তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭০৬টি, যার মূল্য ৮ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা, ঢাকা টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেডের ১ লাখ শেয়ারের মূল্য ১০ কোটি টাকা, এফডিআর ও ডিপিএস-এ বিনিয়োগ ১৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৮ টাকা, ঢাকা টেলিফোন কোম্পানিকে ঋণ এক কোটি টাকা, আত্মীয়-স্বজনদের ঋণ ৪৫ লাখ টাকা, হাতে নগদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স ৫ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার ক্রয় ৪২ লাখ ১১ হাজার ৮০৫ টাকাসহ মোট ২০ কোটি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। মোট ২০ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৮ টাকার সম্পদের ঘোষণা করেছেন।

দুদক জানায়, মিসেস আফরোজা আব্বাস দুদকে দাখিল করা ২০ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৮ টাকার সম্পদের উৎস হিসাবে এম.এন.এইচ.বুলুর নিকট হতে দেড় কোটি টাকা ঋণ এবং মা-বাবা ও বোনের নিকট হতে ১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দান হিসাবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার স্বপক্ষে কোনো দালিলিক তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। এছাড়া বাকি অর্থ অর্জনের স্বপক্ষেও কোনো রেকর্ডপত্র অনুসন্ধানকালে দেখাতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজের অবৈধভাবে অর্জিত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হস্তান্তর, রূপান্তর ও অবস্থান গোপনের অসৎ উদ্দেশ্যে দালিলিক প্রমাণ ছাড়া ভুয়া ঋণ দেখিয়েছেন।

সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মিসেস আফরোজা আব্বাস তার নামের ২০ কোটি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৩ টাকার সম্পদ আসলে তার স্বামী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের সহায়তায় অবৈধ উৎস থেকে পেয়েছেন। তা ছাড়া মির্জা আব্বাস ১৯৯১ সালের পূর্বে উল্লেখযোগ্য কোনো আয় ছিল না। তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তারা ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অজানা উৎস থেকে এই টাকা আয় করেছেন।

এতে করে তারা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধরা ও দ-বিধির ১০৯ ধারায় এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ এর ১৩ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ