Home > জাতীয় > শিশু রাজন হত্যায় ৭ দিনের রিমান্ডে ময়না

শিশু রাজন হত্যায় ৭ দিনের রিমান্ডে ময়না

নিজস্ব প্রতিনিধি
জনতার বাণী,
সিলেট: সিলেটে খুঁটির
সঙ্গে বেঁধে রেখে পিটিয়ে
শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা
মামলার অন্যতম আসামি ময়না
চৌকিদারকে (৪৪) সাত
দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
করেছে আদালত।
বুধবার দুপুরে সিলেট
মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেটে আদালত-২ এর
বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন
এ আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত
সাড়ে ১০টার দিকে শহরের
টুকেরবাজার এলাকা থেকে
তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুরে আদালতে হাজির
করে রিমান্ড আবেদন করে
পুলিশ।
এ নিয়ে নির্মম এই
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট
পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা
হলো। এদের মধ্যে কামরুল
ইসলাম নামের একজন সৌদি
আরবে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
জালালাবাদ থানার ওসি
আক্তার হোসেন খবরের
সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
ময়না চৌকিদারকে
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে
আদালতে তোলা হলে সাত
দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে
আদালত।
যৌন নিপীড়নে রাজনকে
ব্যবহার করতে না পেরে
নৈশপ্রহরী ময়না চৌকিদার
চোর সাজিয়ে কামরুল ও
মুহিতকে দিয়ে পিটিয়ে খুন
করিয়েছেন বলে অভিযোগ
রয়েছে।
গত বুধবার সিলেট নগরীর
কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম
রাজনকে চুরির অভিযোগে
খুঁটির সঙ্গে বেঁধে
নির্মমভাবে নির্যাতন
চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ দৃশ্য
ভিডিও করেন হত্যাকারীদের
সহযোগীরা। এরা নিজেরাই
সেই ভিডিও ফেসবুকে
আপলোড করেন।
হত্যার পর রাজনের লাশ গুম
করার চেষ্টা করার সময় জনতার
সহায়তায় পুলিশের হাতে
আটক হন মুহিত আলম।
রাজনকে পেটানোর ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ও
গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে
সরব হলে তোলপাড় শুরু হয়
সারাদেশে। এর মধ্যে
মুহিতের ভাই সৌদি প্রবাসী
কামরুল যাতে দেশ ছাড়তে
না পারেন এমন নিষেধাজ্ঞা
থাকলেও তিনি পালিয়ে
যান।
কামরুলকে সৌদি প্রবাসীরা
গ্রেপ্তার করেছেন। প্রায় এই
সময়ে সিলেটে গ্রেপ্তার হন
মুহিতের স্ত্রী পপি বেগম।
পৈশাচিক এ ঘটনায় গ্রেপ্তার
আরেকজন ইসমাইল হোসেন।
মঙ্গলবার সকালে তাকে ৫
দিনের রিমান্ডে পেয়েছে
পুলিশ। ইসমাইলের আগে
মুহিতকেও গ্রেপ্তার করে
রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
বর্বর এ ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী,
কামরুলের ওয়ার্কশপের পাশের
ভবনের পাহারাদার ফিরোজ
আলী ও কুমারগাঁওয়ের
বাসিন্দা আজমত উল্লাহর
সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ।
তাদের বরাতে ওসি আক্তার
হোসেন জানান, বুধবার
ভোরে ঠেলা গাড়ি চুরির
অপবাদ দিয়ে নৈশপ্রহরী ময়না
চৌকিদার শিশু রাজনকে আটক
করে। এরপর চোর আটক করা
হয়েছে বলে ফোন দিয়ে
ঘটনাস্থলে আনেন কামরুল ও
মুহিতকে। তারা দুইজন এসে
তাকে বেঁধে মারধর শুরু করেন।
এক পর্যায়ে তাকে উদ্ধারে
এগিয়ে যান পাহারাদার
ফিরোজ। তখন তাকে কামরুল ও
মুহিত ধমক দিয়ে তাড়িয়ে
দেন।
ওসি জানান, কামরুলদের
ওয়ার্কশপের নৈশপ্রহরী ময়না
চৌকিদার শিশুদের ডেকে
নিয়ে বলাৎকার করে। এর
আগে সে এ রকম অনেক ঘটনা
ঘটিয়েছে। রাজনকেও
বলাৎকারের চেষ্টা করেছিল।
তাতে ব্যর্থ হয়ে তাকে চোর
অপবাদ দিয়ে কামরুল ও
মুহিতকে দিয়ে পিটিয়ে খুন
করিয়েছে।
বর্বরোচিত এ ঘটনার
প্রতিবাদে সারাদেশ
উত্তাল হয়ে উঠেছে। মূলত
প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান
থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ
জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে
রাজনের শহর সিলেটে
প্রতিবাদ বিক্ষোভে
হাজারো মানুষ অংশ নেন।
সেখান থেকে রাজন
হত্যকাণ্ডের বিচারে ৯০
দিনের আল্টিমেটাম দেয়া
হয়।
নিহত সামিউল আলম রাজনের
বাড়ি সিলেট নগরীর
কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ডের
পাশে সিলেট সদর উপজেলার
কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে
আলী গ্রামে। সামিউলের
বাবা শেখ আজিজুর রহমান
পেশায় একজন প্রাইভেট কার
চালক। তার দুই ছেলের মধ্যে
রাজনই ছিল বড়।
এদিকে, শিশু রাজন হত্যার
ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার
অভিযোগে জালালাবাদ
থানার উপপরিদর্শক (এসআই)
আমিনুল ইসলামকে মঙ্গলবার
রাতে প্রত্যাহার করে
নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আসামি কামরুল
ইসলামকে বিদেশে
পালাতে সহায়তা ও
জালালাবাদ থানা পুলিশের
দায়িত্বে অবহেলার
অভিযোগ তদন্তে সিলেট
মহানগর পুলিশের (এসএমপি)
অতিরিক্ত কমিশনার এস এম
রোকন উদ্দিনকে প্রধান করে
তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা
হয়েছে।
কমিটিকে আগামী তিন
দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা
দিতে বলা হয়েছে। কমিটির
অপর সদস্যরা হলেন—
উপকমিশনার মুশফেকুর রহমান ও
ডিসি (দক্ষিণ) জেদান আল
মুসা।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ