Home > জাতীয় > বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাংস এনে ঈদ উদযাপন

বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাংস এনে ঈদ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মো. আব্দুল গনি। বয়স ৬০ কিংবা ৬৫ হবে। বাড়ি বরিশালে। থাকেন রাজাধানীর শনির আখড়ায়। পরিবারে আছে চার সন্তান আর স্ত্রী। তিনি আজ নেমেছেন মাংস সংগ্রহে।

আব্দুল গনি জানান, তার কোরবানি দেওয়ার বা মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই মাংসের জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।

একেকটা ভবনে ঢুকে প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। কেউ দেয় আবার কেউ দেয় না। আবার কোনো কোনো ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেওয়া। আবার অনেকেই জানান, তারা কোরবানি দেননি। তখন ৬ তলা, ৭ তলা পর্যন্ত এই শরীরে কষ্ট করে ওঠাই বৃথা। তবে যারা কোরবানি দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই খালি হাতে ফেরাননি, কম-বেশি মাংস দিয়েছেন।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় কথা হয় আব্দুল গনির সঙ্গে। তিনি জানান, কয়েকটা বাড়ি ঘুরে দুই কেজির মতো মাংস পেয়েছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাংসের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। এরপর মাংস নিয়ে নিজের গন্তব্যে যাবেন। তিনি মাংস নিয়ে যাওয়ার পর রান্না হবে।

কথা হয় রহিমা বেগমের সঙ্গে। তার বাড়ি পাবনায়। থাকেন যাত্রবাড়ীর বৌবাজার এলাকায়। তিনিও মাংসের জন্য বাড়ি বাড়ি ‍ঘুরছেন। তিনি জানান, এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে রাজধানীতে আসেন। আসার পর ছেলেটি হারিয়ে যায়। এখন মা-মেয়ে দুইজন একসঙ্গে থাকেন। এ প্রতিবেদকে এ কথাগুলো জানানোর সময় তিনি কেঁদে ফেলেন।

শুধু রহিমা বা আব্দুল গনি নন; অসংখ্য দরিদ্র মানুষ আছেন, যাদের পশু কোরবানি করা তো দূরে থাক মাংস কিনে খাওয়ারও সামর্থ্য নেই। নেই তাদের মাথা গোজার ঠাঁই। দিন-রাত কাটে রাস্তায়। রাস্তায় তাদের বাড়ি-ঘর। ফুটপাতে রান্না করেন, ফুটপাতে ঘুমান। আজ তারা একটু মাংসের জন্য বাড়ি বাড়ি ছুটেছেন। এভাবে যে পরিমাণ মাংস সংগ্রহ করেছেন, তা দিয়েই হচ্ছে তাদের কোরবানির ঈদ।

আবার অনেক মানুষ আছে, যারা আজ যে মাংস পাবেন তা আজকের দিনের চাহিদার চেয়ে বেশি। তাদের সংরক্ষণ করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। সেসব মানুষ আজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে পরিমাণ মাংস পাবেন তা থেকে নিজেদের জন্য রেখে বাকি মাংস কম দামে বিক্রি করে দেবেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ