Home > জাতীয় > চিকিৎসার জন্য ঢাকা আসছেন রাজ্জাক

চিকিৎসার জন্য ঢাকা আসছেন রাজ্জাক

নিজস্ব প্রতিনিধি
জনতার বাণী,
ঢাকা: বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশের (বিজিবি)
নায়েক আব্দুর রাজ্জাককে
সুচিকিৎসার জন্য ঢাকায়
নিয়ে আসা হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের
কক্সবাজার থেকে তিনি
ঢাকার উদ্দেশে রওনা
দিয়েছেন।
বিজিবির টেকনাফ
ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক
মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকি
বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাককে
ঢাকার পিলখানায় বিজিবি
হাসপাতালে চিকিৎসা
দেওয়া হবে।’
এদিকে, শুক্রবার সকালে
বেসরকারি টেলিভিশন
চ্যানেল এনটিভি-কে
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর
জেনারেল আজিজ আহমেদ
বলেন, ঢাকায় চিকিৎসা
শেষে ঘটনা সম্পর্কে আব্দুর
রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাবাদ
করা হবে। এরপর তাকে ছুটি
দেয়া হবে। ছুটি থেকে
ফিরে তিনি কাজে যোগ
দিবেন।
মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী
বাহিনী বিজিপি অপহরণের
আট দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার
বিকেলে আব্দুর রাজ্জাককে
পতাকা বৈঠকের পর ফেরত
দেয়া হয়।
মিয়ানমারের মংডু শহরে
পতাকা বৈঠকের পর
রাজ্জাককে বিজিবি
প্রতিনিধিদের হাতে
নিঃশর্তভাবে তুলে দেয়
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে
মংডু শহরের বর্ডার গার্ড
পুলিশের এন্ট্রি/এক্সিট
পয়েন্ট-১-এর দেওয়ান নান্দি
হলে বৈঠকটি হয়।
এ পতাকা বৈঠকে
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের
সাত সদস্যের পক্ষে নেতৃত্ব
দেন ৪২ বিজিবির অধিনায়ক
লে. কর্নেল মো. আবু জার আল
জাহিদ। মিয়ানমার ২ নম্বর
বর্ডার গার্ড পুলিশের ১০
সদস্যের নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক
লে. কর্নেল থি হান।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে
ছয়টার দিকে টেকনাফ
স্থলবন্দরে ফিরে লে. কর্নেল
আবু জার আল জাহিদ
সাংবাদিকদের জানান,
পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে
অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নায়েক
রাজ্জাককে ফেরত আনা
হয়েছে। রাজ্জাক সুস্থ আছেন।
টেকনাফ স্থলবন্দরে নায়েক
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘নাফ
নদীতে চোরাচালানের
বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে
সেখান থেকে তাকে ধরে
নিয়ে যাওয়া হয়।’
রাজ্জাককে ফেরত পাওয়ার
পর সংবাদ সম্মেলন করে
বিজিবির মহাপরিচালক
মেজর জেনারেল আজিজ
আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনা ভুল
বোঝাবুঝি হতে পারে না।’
অবশ্য গত ১৭ জুন রাজ্জাককে
ধরে নিয়ে যাওয়ার পর
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান খান কামাল
এটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে
সাংবাদিকদের জানান।
বিজিবি মহাপরিচালক
ইঙ্গিত করে বলেন, ইয়াবা
চোরাচালান রোধে
বিজিবির তৎপরতার কারণেই
মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড
পুলিশ (বিজিপি) এ রকম ঘটনা
ঘটাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ২৭
মে মিয়ানমারের
সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে
(নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায়)
বিজিবির নায়েক মিজানুর
রহমান মারা যান। দেখা
গেছে, যেখানে মিজানকে
হত্যা করা হয়েছিল।’
মহাপরিচালক বলেন, অস্ত্র,
২২টি গুলি, মুঠোফোন, টর্চসহ
রাজ্জাককে ফেরত দেওয়া
হয়। বাংলাদেশ থেকে
যাওয়া একজন চিকিৎসক
রাজ্জাককে পরীক্ষা করেন।
তিনি এখন সুস্থ আছেন।
তিনি বলেন, ১৭ জুন তাকে
ধরে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তি
হয়। সেখানে মিয়ানমারের
একজন সীমান্তরক্ষী
রাজ্জাকের নাকে কামড়
দিয়েছিলেন। সেই ক্ষত
থেকে অনেক রক্তক্ষরণ
হয়েছে। সেই ক্ষতসহ ছবি
বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে
প্রকাশিত হয়।
তবে রাজ্জাকের সঙ্গে আরো
বিস্তারিত কথা বলা হবে।
নির্যাতনের কোনো ঘটনা
ঘটলে মিয়ানমারের কাছে
তার জবাব চাওয়া হবে বলেও
জানান আজিজ আহমেদ।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুন টেকনাফের
ঢেকুবনিয়া সীমান্তে
বিজিবির একটি টহল দল মাদক
পাচারকারীদের পিছু
ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে
পাচারকারীরা বিজিবি
সদস্যদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে
চলে যায়।
ওই সময় মিয়ানমার সীমান্ত
থেকে বিজিপি সদস্যরা
বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে
গুলিবর্ষণ করে। সে সময় এক
বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হন
এবং নায়েক আবদুর রাজ্জাক
নাফ নদীতে পড়ে যান।
সেখান থেকেই বিজিপি
সদস্যরা তাকে অপহরণ করে
মিয়ানমারে নিয়ে যায়।
সূত্র মতে, ওই সময় বিজিবির
সদস্য বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি এখনো চট্টগ্রাম
সম্মিলিত সামরিক
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
রয়েছেন। গোলাগুলির সময়
বিজিবির নায়েক আবদুর
রাজ্জাক নাফ নদীতে পড়ে
গেলে মিয়ানমারের
সীমান্তরক্ষী পুলিশের
সদস্যরা বাংলাদেশের
পানিসীমায় অনুপ্রবেশ করে
তাকে ধরে নিয়ে যায়।
এরপর থেকে বাংলাদেশের
পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে
আনার জন্য পতাকা বৈঠকের
আহবান জানানো হয়। কিন্তু
সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।
উল্টো মিয়ানমার পুলিশের
হেফাজতে নায়েক আবদুর
রাজ্জাককে হাতকড়া পরিয়ে
রাখার ছবি প্রকাশ হয়েছে
সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে। এ নিয়ে
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু
করে সংসদেও তোলপাড় সৃষ্টি
হয়।
পরে রাজ্জাককে ফিরে
পেতে মালয়েশিয়াগামী
৫৫৫ জন রোহিঙ্গা
অভিবাসীকে ফেরত আনার
শর্তও দেয় মিয়ানমার। যদিও
অবশেষে বৃহস্পতিবার কোনো
শর্ত ছাড়াই তাকে ফিরিয়ে
দেয় মিয়ানমার।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ