Home > জাতীয় > অপরাধ নির্মূলে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

অপরাধ নির্মূলে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

চারঘাট প্রতিনিধিঃ
শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদায় প্রধানমন্ত্রী অপরাধ নির্মূলে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহবান :

সমাজ থেকে অবরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্তার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে নবীন কর্মকর্তাদের অগ্রপ্রতীকের ভুমিকা পালন করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে ৩৫তম বিসিএস শিক্ষানবিস সহকারি পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুজকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।

নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে।
দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদেরপ্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকের করাল গ্রাসে আমাদের তরুন সমাজ আজ বিপদাপন্ন। এ ভয়াল থাবা থেকে আমাদের সমাজকে বাঁচাত হবে। মাদক সেবনকারি, ব্যবসায়ি, উৎপাদক ও সরবরাহকারি সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক
ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের পুলিশ যেমন জঙ্গি দমনে সফল হয়েছে, তেমনি মাদক থেকে আমাদের তরুন সমাজকে রক্ষায় সফল হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এ অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকেও তৎপর হতে হবে। আন্তুর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গি কর্মকান্ড দমন, সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিংসহ নতুন নতুন অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এজন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রশিক্ষনের মাধ্যমে অপরাধ ও অপরাধী সনাক্তকরণে আন্তর্জাতিকমান অর্জন করতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর অন্যান্যে দেশের মত বাংলদেশে জঙ্গি কর্মকান্ডের উত্থান ঘটলেও বাংলাদেশ পুলিশ
অত্যন্ত সফলভাবে তা দমন করতে সক্ষম হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি কর্মকান্ড দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অভাবনীয় সাফল্য অর্জন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন জঙ্গি দমনে রোল মডেল। বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যগণ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষায় তাদের মেধা ও যোগ্যতার সাক্ষর রাখছেন।

এক্ষেত্রে নারী পুলিশে সদস্যদের অভাবনীয় সাফল্যে রয়েছে। একাবিংশ শাতাব্দির চালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশকে একটি যুগোপযোগি আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো, পদসৃজন, নতুন নতুন পুলিশ ইউনিট গঠন, যানবাহন ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য ঝুঁকিভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকলস্তরের পুলিশের জন্য তা বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়াও পুলিশের আবাসন, রেশন, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি, উন্নত প্রশিক্ষন, লজিস্টিক, যানবাহন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশের সেবা পৌছে দেবার লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যন্যে দেশের মত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ চালু করা হয়েছে। এরমাধ্যমে জনগণ অতিদ্রুত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স সেবা পাচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এক উৎক্ষেপণের মধ্যে দিয়ে আমরা স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছি। এ অর্জন জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও গর্বের। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি হবে। ইতোমধ্যে
আমরা সল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছি।

ভবিষ্যৎ চালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী
বলেন, পুলিশ একাডেমীর পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি এবং মোনদৈহিক উৎকর্ষ সাধনের প্রয়াস গৌরবের দাবি রাখে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী চৌকস, পেশাদার, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ সার্ভিস গঠনে সরকার দৃঢপ্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিকালে পুলিশের জনবল বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রশিক্ষণার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। একাডেমীতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পদ্মানদীর তীরবর্তি ১০০ একর খাস জমি বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীণ আছে। আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা সম্পন্ন চারতলা বিশিষ্ট ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ভবন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ একাডেমী একটি ডিজিটাল ক্যাম্পাসে পরিণত হবে।

কুজকাওয়াজ শেষে প্রশিক্ষনকালে দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষানবিশ সহকার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সালমান ফার্সী বেস্ট হর্সম্যানশিপ পদক, আসমা আক্তার সোনিয়া বেস্ট একাডেমীক পদক ও সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় মাহবুব হাসানকে বেস্ট অফিসার্স পদক প্রধান করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্যারেডে ১৮জন নারী অফিসারসহ ১২৩ জন শিক্ষানবিস সহকারি পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিস সহকারি পুলিশ সুপার মাসুদ রানা। এর আগে হেলিকপ্টারযোগে বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সারদা পুলিশ একাডেমীতে এসে পৌছান। এরপর তিনি কুচকাওয়াজ
পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

কুচকাওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ভুমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পুলিশ মহাপরির্দশক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদার প্রিন্সিপ্যাল মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কমৃকর্তাগন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ