Home > জাতীয় > ‘এতিমখানা কই?’

‘এতিমখানা কই?’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে এতিমখানার ঠিকানা জানতে চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেই ঠিকানা কেউ দিতে পারে না। কেউ এতিমখানার ঠিকানা জানে না। সে টাকা নয়-ছয় করে লুটপাট করে খেয়েছে। তারই শাস্তি খালেদা জিয়া ভোগ করছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে জনসভা মঞ্চের পাশে রাজশাহীবাসীর জন্য গৃহীত সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নামফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৩টা ৫৫ মিনিটে জনসভা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন তিনি। মঞ্চে উঠে হাত নাড়িয়ে জনতাকে অভিবাদন জানান শেখ হাসিনা।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন, বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছে? কেন গ্রেপ্তার হয়েছে? এতিমের টাকা। সেই ৯১ সালে এতিমখানা তৈরি করবে বলে বিদেশ থেকে টাকা এনেছে। কিন্তু এতিমখানা কই? কেউ এতিমখানার ঠিকানা জানে না। সে টাকা নয়-ছয় করে লুটপাট করে খেয়েছে। আজকে প্রায় ২৭ বছর পর বলে, টাকা তো আছে, সুদে-আসলে বেড়েছে। এতিমের টাকা এতিমের হাতে যায় নাই। সে টাকা লুট করে খেয়ে নিয়েছে। সেই মামলায় আজকে তার সাজা হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, লুট করা, চুরি করা- এটাই তাদের চরিত্র। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় ছিল। পাঁচ পাঁচ বার এই বাংলাদেশ বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিদেশের আদালতে খালেদা জিয়ার সন্তানদের দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। টাকা জনগণের কাজে লাগে নাই। বিদেশে পাচার করেছে। সেই পাচার করা টাকা আমরা ফেরত এনেছি। আজকে বিএনপির নেতারা আন্দোলন করে। কীসের আন্দোলন? টাকা চুরির কারণে তাদের নেত্রী জেলে গেছে। সেই চোরের জন্য আন্দোলন? এতিমের টাকা চুরি করে খাওয়া, এটা আমাদের কোরআন শরিফেও নিষেধ করা আছে। ২৭ বছর এতিমের ভাগ এতিমকে দিতে পারে নাই। সেই টাকা তার নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। আর তারই শাস্তি আজকে সে ভোগ করছে। কাজেই আমার প্রশ্ন, এতিমখানার ঠিকানাটা কোথায়? সেই ঠিকানা কেউ দিতে পারে নাই। সেখানে কতজন এতিম আছে? তার কোনো সংখ্যা নাই। এতিমরা কি একটা টাকাও পেয়েছে এ পর্যন্ত? তারা বলে, এতিমের টাকা আছে, সুদ-আসলে বেড়েছে। তাহলে সুদের টাকা খেয়েছে কে? এতিমের টাকা সুদ-আসলে খেয়েছে, ভোগ করেছে, খালেদা জিয়া আর তার পরিবার আর তার দলের লোকজন। এতিমের তো কোনো ভাগ্যের পরিবর্তন হয় নাই। তাদের তো কোনো টাকা দেয় নাই। তাদেরকে বঞ্চিত করেছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে ট্রাস্ট ফান্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থী। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত এবং আমাদের আওয়ামী লীগের দুস্থ নেতাকর্মীদের সাহায্য দিয়ে থাকি। ওই কেয়ারকেটার সরকার তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে। কোনো অনিয়ম পায় কি না? আমাকে কোনমতে মামলায় ফাঁসাতে পারে কি না? এতটুকু অনিয়ম তারা সেখানে পায় নাই। আমি বলেছিলাম, ভালোভাবে তদন্ত করে দেখেন। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে আসি। জনগণের সম্পদ কেড়ে খেতে না। কাজেই আমরা দেশের জনগণকে দিতে আসি। দেশের জন্য কাজ করি। আমরা উন্নয়ন করি। তারা ধ্বংস করে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের আগুনসন্ত্রাসের বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন, মানুষকে পুড়িয়ে যারা হত্যা করতে পারে তারা দেশের কী কল্যাণটা করতে পারে? কী মঙ্গলটা করতে পারে? আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রাক্তন মেয়র এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে এ জনসভা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কার্যনির্বাহী সদস্য নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, আমিরুল আলম মিলন, মেরিনা জামান কবিতা, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আয়েন উদ্দিন এমপি প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ