শাহজালালে ২ কোটি টাকার মুদ্রাসহ ‘শিক্ষার্থী’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনতার বাণী,
ঢাকা: হযরত শাহজালাল
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
থেকে প্রায় ২ কোটি ৮
লাখ ৮৪ হাজার টাকার
বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক মুদ্রা
পাচারকারীকে আটক
করেছে বিমানবন্দর আর্মড
পুলিশ ব্যাটালিয়ন
(এপিবিএন) ।
আটককৃত যুবক নীলফামারী
জেলার সৈয়দপুর থানার
চৌমুহনী গ্রামের মো: দাদন
খানের পুত্র আব্দুল কাদির
(২২)।
এই বিপুল পরিমাণ
বৈদেশিক মুদ্রা
বাংলাদেশ থেকে পাচার
হয়ে সিঙ্গাপুর যাচ্ছিলো।
বিমানবন্দর এপিবিএনের
জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার
(এএসপি) আলমগীর হোসেন
শিমুল বলেন, গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার
দিকে সিঙ্গাপুর
এয়ারলাইন্সের একটি
ফ্লাইটে করে সিঙ্গাপুর
যাওয়ার সময় নীলফামারির
আবদুল কাদের লালনকে (২২)
আটক করা হয়। তার লাগেজ
তল্লাশি করে ২ কোটি ৮০
লাখ ৮৪ হাজার টাকা
সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা
উদ্ধার করা হয়।
এপিবিএন সূত্র জানায়,
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে
শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের ৩ নম্বর গেট
দিয়ে সিঙ্গাপুর
এয়ারলাইন্সের একটি
বিমানে করে
বাংলাদেশি যাত্রী
আব্দুল কাদির সিঙ্গাপুরের
উদ্দেশ্যে বিমানে আসন
নিতে যাচ্ছিল। তার
গতিবিধিতে গোয়েন্দা
টিমের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
এপিবিএন সদস্যরা আব্দুল
কাদিরের শরীর ও সাথে
থাকা লাগেজ তল্লাশি
চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮
লাখ ৮৪ হাজার টাকার
বৈদেশিক মুদ্রাসহ তাকে
হাতেনাতে আটক করে।
উদ্বার হওয়া বৈদেশিক
মুদ্রার মধ্যে বিপুল পরিমাণ
সৌদী রিয়াল, সিঙ্গাপুর
ডলার, ইউরো, কুয়েতি
দিনার, আরব আমিরাত
দিনার ও ওমানের রিয়াল
রয়েছে।
এপিবিএন আরো জানায়,
আটককৃত যাত্রী আব্দুল
কাদির বাংলাদেশ
থেকে স্টুডেন্ট ভিসা
নিয়ে সিঙ্গাপুর
যাচ্ছিলেন। তিনি অভিনব
কায়দায় মুদ্রাগুলো
লাগেজের মধ্যে
বিশেষভাবে লুকিয়ে
রেখেছিলেন।
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে সে
মুদ্রাপাচারের সাথে
সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার
করেছে। এর সাথে আর
কারা জড়িত সেটি ও
খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আটককৃত আব্দুল কাদিরকে
বুধবার সকাল ৮টায়
বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ
করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এপিবিএন
পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ
ক্ষমতা আইনে থানায়
মামলা দায়ের করা
হয়েছে।
এপিবিএনের সহকারী
পুলিশ সুপার তানজিনা
আক্তার জানান, কাদের
মুদ্রাপাচার চক্রের সদস্য।
বুধবার মামলা দায়ের করে
তাকে বিমানবন্দর থানায়
সোপর্দ করা হয়।
এদিকে বিমানবন্দর
কাস্টমসের সহকারী
কমিশনার শহীদুজ্জামান
জানান, মঙ্গলবার
বিমানবন্দরের কুরিয়ার গেট
থেকে ২ কোটি টাকা
মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ
ওষুধের একটি চালান জব্দ
করা হয়। নামসর্বস্ব একটি
প্রতিষ্ঠানের নামে আসা
এই চালানটি মূলত
পাচারকারী চক্রই এনেছিল
বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ
ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে শুল্ক গোয়েন্দা
বিভাগের পরিচালক
শেগুফতা মাহজেবিন বলেন,
গার্মেন্টস পণ্যের মোড়কে
মোড়া ২৪০ কেজি ওজনের
সাতটি কার্টন থেকে ২
কোটি দুই কোটি টাকার
আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ আটক
করা হয়েছে। পাকিস্তানে
তৈরি এই ওষুধগুলো
যৌনশক্তিবর্ধন, গর্ভপাতসহ
বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

%d bloggers like this: