Home > জাতীয় > মেহেরপুরে শতাধিক মানুষের হদিস নেই

মেহেরপুরে শতাধিক মানুষের হদিস নেই

image

নিজস্ব প্রতিনিধি
জনতার বাণী,
মেহেরপুর: সাগর থেকে
প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে
অভিবাসী। এদের কেউ
জীবিত। কারো পাওয়া
যাচ্ছে লাশ। এতেই টনক
নড়েছে মেহেরপুরবাসীর।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই
জেলায় যে শতাধিক
ব্যক্তি লাপাত্তা রয়েছেন,
তারা সুখ নামক সোনার
হরিণ ধরতে অবৈধ পথে
বিদেশ পাড়ি জমানোর
চেষ্টা করেছেন।
মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও
গাংনী থেকে গত দুই বছরে
দালালদের মাধ্যমে
অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার
উদ্দেশে রওনা হওয়া
শতাধিক ব্যক্তির কোনো
হদিস নেই।
এর মধ্যে গাংনী
উপজেলারই অর্ধশতাধিক
লোক নিখোঁজের
তালিকায়। ভাগ্যে কি
ঘটেছে জানা যায়নি।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা জীবিত
রয়েছে, নাকি মারা
গেছে নিশ্চিত করতে
পারেনি পরিবারগুলো।
সাগর থেকে অভিবাসীর
লাশ উদ্ধারের খবরে এসব
পরিবারে এখন চলছে
শোকের মাতম। দিশে না
পেয়ে পরিবারের সদস্যরা
ছুটছেন প্রশাসনের কাছে।
কিন্তু তারাও যে
নির্বিকার। তবে
মানবপাচারকারীদের
গ্রেপ্তার ও প্রশাসন তৎপর
হলে মানবপাচার কিছু
হলেও কমে আসবে বলে
ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
গাংনী উপজেলার অন্তত
১৫ জন মানবপাচারের সঙ্গে
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে
জড়িত থাকলেও এ পর্যন্ত
কোনো
মানবপাচারকারীদের
তালিকা নেই স্থানীয়
প্রশাসনের কাছে।
গাংনী উপজেলার
বানিয়াপুকুর, খড়মপুর,
হেমায়েতপুর, চাঁদপুর,
রুয়েরকান্দি, পাকুড়িয়া,
কসবা, সানঘাট, বড়বামুন্দী,
কড়ুইগাছী ও বাঁশবাড়িয়া,
হাপানিয়াসহ উপজেলার
অন্তত ৬০ গ্রামে
মানবপাচারকারীরা
সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় দালালরা
লোভনীয় চাকরির অফার
দিয়ে বেকার যুবক ও
দরিদ্রশ্রেণীর মানুষদের
সহজেই মালয়েশিয়া
যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে
হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি
কোটি টাকা। এমন কি
জীবনও দিতে হচ্ছে
মালয়েশিয়াগামী বেকার
যুবকদের।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন-
ধানখোলা গ্রামের মজিদ
আলীর ছেলে অজিত আলী,
আড়পাড়ার বারী মোল্লার
ছেলে মিনারুল ইসলাম,
খড়মপুরের কাজিম আলীর
ছেলে লালন মিয়া,
সাহাদত আলীর ছেলে
আসান আলী, পিজের
মণ্ডলের ছেলে জাকিরুল
ইসলাম, রমজান মণ্ডলের
ছেলে ওয়াসিম আলী,
কসবার খেদ আলী মণ্ডলের
ছেলে জিয়া, পাকুড়িয়ার
উসমান আলীর ছেলে রুস্তম
আলী, বানিয়াপুকুর গ্রামের
রইচ উদ্দীনের ছেলে
আসাদুল ইসলাম, হারুন
মণ্ডলের ছেলে মিনারুল
ইসলাম, জমির উদ্দীনের
ছেলে জাহিদুল ইসলাম,
হাফেজ উদ্দীনের ছেলে
জিন্নাত আলী, মহিবুল
ইসলামের ছেলে আরিফুল
ইসলাম, রুয়েরকান্দি
গ্রামের জুলামিন মিয়ার
ছেলে রিফা, আইযুব আলীর
ছেলে বাবলু, ইয়াসিন
আলীর ছেলে গঞ্জের,
ফাকের আলীর ছেলে
আহাদ আলী, কড়ুইগাছী
গ্রামের ইদ্রিন আলীর
ছেলে আমজাদ হোসেন,
মোনাজাত আলীর ছেলে
হাবিবুর রহমান, বড় বামুন্দীর
জাহা বখশের মাহাবুল, মুনছুর
আলীর ছেলে আনারুল
ইসলাম, বাঁশবাড়িয়া
গ্রামের আসমত আলীর
ছেলে আক্তারুল ইসলাম,
হাপানিয়া গ্রামের নজির
মণ্ডলের ছেলে আবুল
কালাম প্রমুখ।
এছাড়া, গত ১০ অক্টোবর
তেরাইল গ্রামের মামুন
নামের এক যুবককে
মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে
সাগরে ফেলে হত্যা করে
মানবপাচারকারীরা। একই
গ্রামের অন্য তিনজন বেল্টু,
আজিরুদ্দীন ও হাফিজুল
ইসলামকে জিম্মি করে
মুক্তিপণ দাবি করেছিল
দালাল চক্র।
ইতোমধ্যে নির্যাতনের হাত
থেকে বাঁচতে বেল্টুর
পিতা বিকাশের মাধ্যমে
২ লাখ টাকা দিয়েছে
দালাল চক্রকে।
মামুনের বড় বোন নাছরিন
জানান, উপজেলার
হেমায়েতপুর গ্রামের
জাহিদ হোসেন ও তেরাইল
গ্রামের জাহাঙ্গীর
হোসেন তার ভাই মামুনকে
নানা প্রলোভন দেখিয়ে
মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য
ট্রলারে তুলেছে। মৃত্যুর
আগে মামুন মোবাইলফোনে
পরিবারের সদস্যদের
বলেছে আমি মালয়েশিয়া
পৌঁছানোর পর জাহিদ ও
জাহাঙ্গীরকে ২ লাখ
৫০,০০০ টাকা দিয়ে দিতে।
খড়মপুর গ্রামের নিখোঁজ
জাকিরুল ইসলামের পিতা
পিজের মণ্ডল জানান, একই
গ্রামের আহমেদ আলী
দালালের মাধ্যমে তার
ছেলে মালয়েশিয়া
যাচ্ছিল। কিন্তু গত ২ বছর
যাবৎ জাকিরুল ইসলাম
নিখোঁজ রয়েছে।
কসবা গ্রামের জিয়াউর
রহমানের চাচা আরিফুল
ইসলাম জানান, খড়মপুর
গ্রামে আদম ব্যবসায়ী
আহমেদ আলী তার চাচাকে
মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য
ট্রলারে করে নিয়ে
গেছে। পরে তার কোন
সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জিয়াউর রহমানের সন্ধান
দেয়া হবে এজন্য বিপুল
পরিমাণ টাকা হাতিয়ে
নিয়েছেন দালাল আহমেদ
আলী।
বানিয়াপুকুর গ্রামের
নিখোঁজ জিন্নাতের ভাই
সাহারুল ইসলাম জানান,
ঝোড়পাড়া গ্রামের আদম
ব্যবসায়ী বজলু তার ভাইকে
মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা
বলে নিয়ে গেছে। গত ১
বছরের বেশি সময় ধরে তার
কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ স্বজনদের
অভিযোগ, খড়মপুরের
মানবপাচারকারী আহমেদ
আলী, হেমায়েতপুরের
জাহিদ হোসেন, বাখাল,
আবুল কাশেম, ঝোড়পাড়ার
বজলু ও কালুসহ অন্তত ১৫ জন
দালাল মালয়েশিয়া
পাঠানোর কাজে সক্রিয়
রয়েছে।
তবে আদম ব্যবসায়ীদের
সঙ্গে কোনোভাবেই
যোগাযোগ করে তাদের
বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ধানখোলা ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর
রাজ্জাক জানান, তার
ইউনিয়নে অন্তত ১০/১২ জন
নিখোঁজ রয়েছে। যে
কোনোভাবে নিখোঁজদের
সন্ধান করতে সরকারের
কাছে জোর দাবি জানান
তিনি।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত)
মোক্তার আলী জানান,
তিনি এ পর্যন্ত ১৮ জন
ইরাকে যাওয়া সংক্রান্ত
বিষয় তদন্ত করেছেন। কিন্তু
মালয়েশিয়ায় মানবপাচার
সংক্রান্ত কোনো
অভিযোগ তাদের কাছে
নেই। অভিযোগ পেলে
তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া
হবে।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার
হামিদুল আলম জানান,
মানবপাচারের অভিযোগ
কেউ করেনি। অভিযোগ
পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়া মানবপাচার রোধে
পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক
মাহমুদ হোসেন জানান,
সুনির্দিষ্টভাবে
মানবপাচারের কোনো
অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ পেলে আইনি
ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী
শিরোনামঃ