‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছেমতো অর্থ আদায় করছে’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে যার মতো করে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য তার অনুপস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে সংসদে পেশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য তার অনুপস্থিতিতে পেশ করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, এটি দেশের ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণের পথে একটি অন্তরায়। বিষয়টি আমরা অনুভব করলেও বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিকার নিশ্চিত করার সুযোগ নেই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থ আদায় সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের একটি সামগ্রিক সমীক্ষা হওয়া দরকার। গুরুত্ব বিবেচনায় এ বিষয়টি নিয়ে আমরা মতবিনিময়ও করেছি। ইতোমধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর কতিপয় ধারা সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্তৃক একটি সাব-কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে আলোচ্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

সরকারি দলের অপর সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের এই সঙ্কটকালে শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে বর্তমান সরকার কারিক্যুলাম পরিমার্জন, সমাজের বিশিষ্ট উদ্যোগী ব্যক্তি, কমিউনিটি নেতা, ইমাম এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে আরো বলা হয়, জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পৃক্ততা মনিটরিংয়ের জন্য গত ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে ওই কমিটি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গেছে। কমিশনের এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার শাস্তি ও সনদ বাতিলের বিধান উল্লেখ করে তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

%d bloggers like this: