বাংলাদেশে গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা আজ

ঢাকা:  ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) অধিবেশনে বাংলাদেশে মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র বিষয়ে আলোচনা হবে বৃহস্পতিবার।

 

বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে ২৬ নভেম্বরের আলোচ্য সূচিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনার ইস্যুটি দেখা যায়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ফ্রান্সের ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে এ আলোচনা হবে।

ইপিতে ১৫ দফার এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন সমাজতন্ত্রী ও গণতন্ত্রীদের জোট গ্রুপ অব দা প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স।

আরোচনার প্রস্তাবনায় বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের অধিকার লংঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, গত বছরের ৬ আগস্ট সরকারে গৃহীত নতুন গণমাধ্যম নীতিমালার কিছু বিষয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছে।

প্রস্তাবে তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০১৫ কে আন্তর্জাতিক মুক্ত মতের মানদণ্ড অনুযায়ী করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রকাশনার’ বিষয়টি বাদ দিতে বলা হয়েছে।

প্রস্তাবে নিহত ব্লগার, প্রকাশক, এবং বিদেশিদের হত্যা মামলার ‘বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ’ তদন্তের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় সরকারের সমালোচনা করায় যেসব সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে সেসব মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং টিভি চ্যানেলসহ যেসব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা অবিলম্বে খুলে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (বাংলাদেশ)সহ সব বিদেশি এনজিওকে কাজ করার অনুমতি দিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দেশে ‘বিরোধী রাজনীতিকদের বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং গুমের’ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান এবং ‘অবৈধভাবে’ যেসব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমান সংকট নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সুশীল সমাজের সংগঠনের সাথে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে যতক্ষণ না বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হয়।

%d bloggers like this: