গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ছিন্নমুল মানুষের শীতে দুর্ভোগ

শুরুতে তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও গত দুদিনে নওগাঁর ধামইরহাটে জেঁকে বসেছে শীত। এর সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শীতে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়েছে ছিন্নমুল মানুষ ও শিশুরা।

বুধবার সারাদিন আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল। এর মধ্যে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সব শ্রেণির মানুষকে বেকায়দায় ফেলেছে। পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। শীতবস্ত্রের দামও বেড়ে গেছে।

প্রচণ্ড ঠান্ডায় লোকজন বাইরে বেরুতে পারছে না। শীতের তীব্রতা আরও কয়েকদিন একই অবস্থায় থাকলে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

তীব্র শীতের মধ্যেও শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত ঘেঁষে খোলা আকাশে মানুষ রাতযাপন করছে। শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন এলাকাবাসী আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বুধবার সকালে উপজেলা সদরের পৌর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। বাজারের অর্ধেক দোকান-পাট বন্ধ। নিতান্তই প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন তাদের শীতে জড়ো-সড়ো হয়ে থাকতে দেখা গেছে।

পৌরসভার দক্ষিণ চকযদু গ্রামের রহমান আলী জানান, সকালে ঘর থেকে বাহির হয়ে দেখি প্রচণ্ড শীত। তবে আমার মতো দরিদ্র পরিবারের লোকদের খাবার জোগার করতে বাইরে বের হতে হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীতের বর্তমান অবস্থা আরও কয়েকদিন বিরাজ করতে পারে।

ধামইরহাট হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, কয়েকদিন শীত তীব্র হলে ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা, অ্যালার্জি ইত্যাদি রোগ বেশি দেখা দেবে।

%d bloggers like this: