খোকাসহ ৬ জনকে দুদকে তলব

জনতার বাণী
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাসহ ছয় জনকে চারদিনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে তলবি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে নোটিশে বলা হয়।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র থাকাকালে অবৈধ প্রক্রিয়ায় দোকান বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলা তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে তলব করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত নোটিশ খোকার গোপীবাগ ও গুলশানের বাসার ঠিকানায় বাহক মারফতে পাঠানো হয়।

নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বঙ্গবাজার ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারের কার পার্কিংয়ের স্থানে এবং খোলা জায়গায় দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ আটজনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৪ আগস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। দুদকের পক্ষে তখন সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন।

খোকা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন মোড়ল, অবসরপ্রাপ্ত সম্পত্তি কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন সাবু, সম্পত্তি বিভাগের কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সার্ভেয়ার মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া, ফারুক হোসেন এবং মোতালেব হোসেন।

মামলার পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ আবদুস সালামকে।

সোমবার পাঠানো নোটিশে মামলার অপর আসামি কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সার্ভেয়ার মোতালেব হোসেন এবং ফারুক হোসেনকেও ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছে। মো. বাচ্চু মিয়া এবং সম্পত্তি কর্মকর্তা মহসিনউদ্দিন মোড়লকে ২৫ জুন সাড়ে ১০টার মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা ডিসিসির নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্থায়ী মার্কেট দুটির কার পার্কিং ও খোলা জায়গায় দোকান নির্মাণ করেন ও অস্থায়ীভাবে সেগুলো বরাদ্দ দেন। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি করে ৪৯৩টি দোকান বিভিন্ন জনের কাছে প্রতি বর্গফুট ১৫ টাকা হারে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়েছেন। ডিসিসির এস্টেট বিভাগের ২৫২৫ নাম্বার নথিতে নোটশিট পরিবর্তন করে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দুটি মার্কেটের মোট ৪৯৩টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সূত্র আরো জানায়, বঙ্গবাজারে অস্থায়ী বরাদ্দের মূল কপি গায়েব করে ফটোকপি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কানুনগো মোহাম্মদ আলী দোকান বরাদ্দের নথির নোটে প্রতি বর্গফুটের ভাড়া বাবদ ১০ টাকা উল্লেখ করেছিলেন। পরে তা অনুমোদন করেছিলেন সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান।

এরপর সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা প্রতি বর্গফুটের ভাড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিলেন। তারা কিসের ওপর ভিত্তি করে মাসিক ভাড়ার হার নির্ধারণ করেছেন, তার কোনো ব্যাখা উল্লেখ করেননি।

%d bloggers like this: