Home > বিনোদন > কাঁধে হাত রেখে প্রশংসা করে, কাজ দেয় না

কাঁধে হাত রেখে প্রশংসা করে, কাজ দেয় না

সরাসরিই বলছেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী৷ একরাশ অভিমান নিয়ে যিনি মুম্বই পাড়ি দেওয়ার কথা ভাবছেন৷ কথা বললেন মহুয়া দত্ত মিত্র

‘২০১৭ সালটা আশা করছি আমার জন্য আশার আলো নিয়ে আসবে৷ আমি আশাবাদী৷’ ১১ বছর টালিগঞ্জে অভিনয় করার পর এই ভাবেই সাক্ষাত্কার শুরু করলেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী৷ তাঁর অভিনীত শর্টফিল্ম ‘দুগ্গা’ নির্বাচিত হয়েছে ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের শর্টফিল্ম বিভাগে৷ এই বছরই প্রথমবার ফিল্ম ফেয়ারে ‘শর্টফিল্ম’ বিভাগটি শুরু হচ্ছে৷ ‘দুগ্গা’ যে ছোট ছবিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, তার মধ্যে অন্যতম হল সুজয় ঘোষ পরিচালিত ‘অহল্যা’৷ যেখানে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রাধিকা আপ্তে, টোটা রায়চৌধুরী৷ সেখানে ‘দুগ্গা’র একমাত্র চেনা মুখ অঙ্কিতা চক্রবর্তী৷ তাও বাঙালির কাছে৷ কী মনে করছেন তিনি জয়ের বিষয়ে? ‘কিছুদিন আগে ‘ফিল্ম ইংগো’ ইন্টারন্যাশনাল শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমাদের ছবির জন্য সৌভিক বসু বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফার পুরস্কার পায়৷ আমি নিজে বেস্ট অ্যাক্টরের নমিনেশনে ছিলাম৷ এই ছবির জন্য কোনও প্রচার হয়নি৷ তা সত্ত্বেও এতো দূর পৌঁছনোটা কি খুব ছোট ব্যাপার?’ উল্টো প্রশ্ন অঙ্কিতার৷ তাই তিনি ফিল্ম ফেয়ার সম্পর্কেও আশাবাদী৷ এর সঙ্গে যোগ করলেন ছবির পরিচালক চন্দ্রাশিষ রায় যখন তাঁকে এই ছবির প্রস্তাব দেন, খুব কিছু আশা নিয়ে তিনি রাজি হননি৷ কারণ তখনও তিনি জানেন না গল্পটা ঠিক কী৷ ‘দুগ্গা’ পূজার আগে একদিনে পুরো শ্যুটটা হয়৷ ফ্লোরে গিয়ে অঙ্কিতা বুঝতে পারেন ঠিক কী হতে চলেছে৷ ঠিক ছিল ছবিটা ইউটিউবে দেওয়া হবে৷ কিন্ত্ত তারপর ‘পুরো ছবিটা তৈরি হওয়ার পর মনে হল, আগে কিছু ফেস্টিভ্যালে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত৷ সেই ভাবনা থেকেই বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে পাঠানো৷ এই ভাবেই ফিল্ম ইংগো থেকে ফিল্ম ফেয়ারের যাত্রা৷’

কিছুদিন আগে ‘অন্য সময়’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জানিয়ে ছিলেন তিনি মুম্বই পাড়ি দিতে চান৷ তাঁর ছবির এই ফেস্টিভ্যাল দৌড় কি তাঁর জন্য মুম্বইয়ের দরজা খুলে দিল? ‘হ্যাঁ, দরজা তো খুললই৷ অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছি৷ আমার কাজ তাঁরা দেখছেন৷ এরপর তাঁদের গিয়ে কাজের জন্য অ্যাপ্রোচ করাটা একটু হলেও সহজ হবে,’ জানালেন অঙ্কিতা৷ কিন্ত্ত টালিগঞ্জে তো এই অ্যাপ্রোচটা ১১ বছরে করেননি৷ না, কারণ এখানে এটা করতে চান না৷ ছবির প্রিমিয়ারের পর যাঁরা কাঁধে হাত রেখে বলেন ‘বাহ, তুই খুব ভালো কাজ করেছিস’, তারপরও যাঁরা কাজ দেন না, তাঁদের কাছে কাজের আশা তিনি আর করেন না৷ ‘কৌস্তভের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব রয়েছে৷ তাই আর.পি. প্রোডাকশন ছাড়া আমি কাজ করব না, এটা কি কখনও আমি বলেছি? আর ওর ছবিতে ১০০% শতাংশ দিচ্ছি আর অন্যদের কাজে দেব না, এটাও নয়৷ তবে কেন তাঁরা প্রশংসা করেও এতদিনে ছবিতে নেননি? ছোট চরিত্র দিয়েই দেখতে পারতো কী করতে পারি৷ আর কৌস্তভের বান্ধবী বলে সব সময় ওর ছবির সব ভালো চরিত্র আমি করছি এমনও নয়৷ তাহলে এটা ভাবারও কোনও কারণ নেই৷ এই তো চন্দ্রাশিষ অফার করল কাজের৷ করলাম৷ আর দেখুন সেই কাজ কতটা প্রশংশিত হচ্ছে৷ এরপরও কি চাওয়া যায় কাজ? এই সাক্ষাত্কারের পর হয়তো তাঁরা রেগে যাবেন৷ আরও কাজ দেবেন না৷ কিন্ত্ত বিশ্বাস করুন, আর এখন এতে কিছু এসে যায় না৷ যখন নিজের শহর ছেড়ে যাওয়া মনস্থ করেই ফেলেছি, তখন আর এই সব ভেবে কী হবে’, দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন অঙ্কিতা৷ তবে এর মাঝেও কিছু ভালো খবর৷ তিনি রাজীব মেহেরার একটা শর্টফিল্ম করছেন৷ আর অনির্বাণ পাড়িয়ার ‘কিরীটি’-তেও একটা চরিত্রে অভিনয় করেছেন৷ আশা এরপর অঙ্কিতা নতুন বছরে নতুন করে নিজের কেরিয়ার শুরু করবেন মুম্বইতে৷

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ