Home > বিনোদন > অভিনয় আমার মনের ক্ষুধা: আকাঙ্ক্ষা

অভিনয় আমার মনের ক্ষুধা: আকাঙ্ক্ষা

ফারাহ্ আকাঙ্ক্ষা। তার জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজশাহী শহরে। সেখানেই স্কুল পেরিয়ে কলেজ জীবন শেষ করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হন। সম্প্রতি আইন বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। এখন পুরোদস্তুর অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা।

অভিনয়ের ইচ্ছাটা শৈশব থেকেই লালন করে আসছিলেন আকাঙ্ক্ষা। ছোটবেলায়ই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। আর সেই শুরুটা তার মায়ের হাত ধরে। কারণ ছোটবেলায় আকাঙ্ক্ষার মা কবিতা আবৃত্তির জন্য তাকে নিয়ে যেতেন রাজশাহী বেতারে। পাশাপাশি শুরু করেন নাচের তালিম। শৈশব থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আবৃত্তি, নাচ ও উপস্থাপনা করেছেন আকাঙ্ক্ষা।

 

এখন অভিনয়ে ষোলআনা মনোযাগ থাকলেও তার শুরুটা করেছেন কিছুটা দেরিতে। অনার্স শেষ করার পর প্রথম থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন আকাঙ্ক্ষা। অবশ্য এর পেছনে ছোট একটি ঘটনাও রয়েছে। তা স্মরণ করে আকাঙ্ক্ষা রাইজিংবিডিকে বলেন—‘‘রাজশাহী থিয়েটারের বড় ভাই শিবলী নোমান। একদিন তিনি বলেন, ‘অভিনয়টা যদি না শেখো তাহলে ঝরে পড়তে হবে।’ এ কথা শোনার পর রাজশাহী থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হই। ২০১৯ সালের শেষের দিকের ঘটনা এটি। তখন মাত্র মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছি। এরপর আমার নতুন যাত্রা শুরু। সেখানে আহসান কবীর লিটন ভাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মলয় ভৌমিক স্যারকে পাই। ওনাদের তত্ত্বাবধানে অভিনয়ের তালিম চলে।’

থিয়েটারে কয়েকটি প্রযোজনায় কাজ করার পর টিভি নাটকে নাম লেখান আকাঙ্ক্ষা। নাট্যনির্মাতা আল হারুণের হাত ধরেই টেলিভিশন নাটকে প্রথম কাজের সুযোগ পান তিনি। তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘ইষ্টি কুটুম’। এটি একুশে টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে। নাটকটির চল্লিশ পর্ব পর্যন্ত কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। এরপর কাজ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাকে। আকাঙ্ক্ষা বলেন—‘‘আমার প্রথম কাজ ‘ইষ্টি কুটুম’ প্রচারের পর আল্লাহর রহমতে ভালো সাড়া পাই। এরপর কাজ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।’’

 

আকাঙ্ক্ষা অভিনীত প্রথম নাটক টিভিতে প্রচারের পর বিশ্বব্যাপী নেমে আসে করোনা সংকট। তারপর অভিনয় থেকে অন্য সবার মতো তিনিও দূরে ছিলেন। সংকট কাটিয়ে আবারো নিজ ভুবনে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। গত ঈদুল আজহাতে তার অভিনীত বেশ কিছু একক নাটক বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো—‘করপোরেট ভালোবাসা’, ‘পাপজি বাবা’, ‘২৪ আওয়ার্স’, ‘ভিউস কত’, ‘ভুল কিংবা সময়ের ভুল’, ‘মন বাড়িয়ে ছুঁই’, ‘কুয়াশা’, ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’, ‘পাগল হমু ক্যামতে’ প্রভৃতি। জীবন শাহাদাৎ পরিচালিত ‘ছাদ বাগান’ আকাঙ্ক্ষার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। গত ৬ অক্টোবর রাজশাহী চলচ্চিত্র উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য এই চলচ্চিত্র দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটি প্রযোজনা করেছেন উদয় হাকিম। এছাড়াও  আহসান কবীর লিটনের ‘খাঁচা’ ও মাসুদ পরিচালিত ‘বাঘ’ নামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। এখনো এ দুটো চলচ্চিত্র মুক্তি পায়নি।

নাট্যনির্মাতা সাজিন আহমেদ বাবু, আবু হায়াত মাহমুদ, পনির খান, সাইদুল ইমন, মিলন ভট্টাচার্য, অভ্র মাহমুদ, ভিকি জাহেদের সঙ্গে কাজ করেছেন আকাঙ্ক্ষা। সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন তৌকীর আহমেদ, মারজুক রাসেল, ডা. এজাজ, প্রাণ রায়ের মতো অনেক গুণী শিল্পীকে। পাশাপাশি নিয়মিত মডেলিং করছেন তিনি।

 

সব অঙ্গনে কাজ করলেও আকাঙ্ক্ষার মূল লক্ষ্য অভিনয়। এ বিষয়ে আকাঙ্ক্ষা বলেন—‘অভিনয় করছি তার মানে এটা নয় আবৃত্তি, নাচ ছেড়ে দিয়েছি। তবে শখ বা মনের ক্ষুধা অভিনয়। তাই অভিনয়টা সামনে নিয়ে যেতে চাই। অনেকগুলো পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে স্টেপ পার হতে চাই। আরো ভালো ভালো কাজ করতে চাই। ভালো পরিচালক, ভালো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। হুট করেই লক্ষ্যপূরণ হয় না। এজন্য ধীরে ধীরে আগাতে চাই। ভালো একজন অভিনেত্রী হতে চাই।’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী
শিরোনামঃ