Home > লাইফস্টাইল > অনলাইন রোমান্স

অনলাইন রোমান্স

আরাফ এবং তিশার পরিচয় ফেসবুকে। সামনা-সামনি দেখা হওয়ার আগেই ওরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটিং করেছে, জেনে নিয়েছে দুজনার পছন্দ-অপছন্দ। অনলাইনেই আরাফ তিশাকে প্রপোজ করলো। তিশাও ততদিনে মনে মনে আরাফকে পছন্দ করে ফেলেছিল। তাই রাজি হতে তার কোনো দ্বিধাই ছিল না। তারপর এক ভ্যালেনটাইন’স ডেতে প্রথম দেখা, আরো কিছুদিন চুটিয়ে প্রেম এবং অবশেষে পারিবারিকভাবে বেশ ধুমধামের সঙ্গে ওদের বিয়ে হয়ে গেল।

ছন্দার গল্প আবার একটু অন্যরকম। মারুফের সঙ্গে টুইটারে পরিচয়। এরপর রাত জেগে জেগে ভিডিও চ্যাটিং। প্রায় তিনমাস পর মারুফ জানায় সে ছন্দাকে ভালোবাসে। ওকে দেখা করতে বলে টিএসসিতে। দেখা করে বাসায় ফেরার পর ছন্দা খেয়াল করলো মারুফ ওকে ব্লক করে রেখেছে। ফোনে অনেক যোগাযোগের চেষ্টা করেও ছন্দা আর মারুফকে পায়নি। মনটাই ভেঙে যায় ওর। ভুগতে শুরু করে ডিপ্রেশনে।

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রতি মুহূর্তে চলে সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার খেলা। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর সৌজন্যে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে প্রয়োজন শুধুমাত্র মাউসক্লিক। ‘সিঙ্গেল’ থেকে বদলে কখনো আপনি ‘ইন অ্যা রিলেশনশিপ’, আবার কখনো হয়তো তা থেকেই হয়ে গেলেন ‘ইটস কমপ্লিকেটেড’। অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলা যেমন সহজ, এর সমস্যাও ঠিক ততটাই বেশি। সুন্দর হাসিমুখের যে প্রোফাইল ফটোটি দেখে আপনি কারো প্রেমে পড়ে গেলেন, বাস্তবে হয়তো দেখলেন তা নকল। তাই এমন সম্পর্ক তৈরির আগে সবার কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। চলুন অনলাইন রোমান্সের হালহকিকত কিছুটা জেনে নেওয়া যাক।

* কেন অনলাইন রোমান্স?

সকাল থেকে রাত অব্দি থাকতে হয় ভীষণ ব্যস্ত। অফিস সামলে, নিজেকে সামলে সময় থাকে না মোটেও। এর সঙ্গে আছে মানসিক চাপ, সাংসারিক অশান্তি, জীবনের টানাপোড়েন ইত্যাদি। এই এত কিছু সামলে বিধ্বস্ত মন খোঁজে বন্ধু। সেই বন্ধু আবার রয়েছে হাতের কাছেই। একটি মাউস ক্লিকেই আপনি পেয়ে যাচ্ছেন বন্ধু। পাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন জায়গার, বিভিন্ন মানসিকতার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দেওয়ার সুযোগ। আপনার নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে ও একঘেয়েমি কাটাতে এ এক পরম পাওয়া। দূর থেকেই আপনি জেনে নিতে পারছেন আপনার অনলাইন বন্ধুর আপনার প্রতি কোনও দুর্বলতা আছে কি না। যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, ব্যাস শুরু হয়ে গেল রোমান্স।

আবার ধরুন আপনার বহুদিনের সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেছে। আপনাকে ইমোশনাল সাপোর্ট দেওয়ার কেউ নেই। চাইছেন মনের কথা কারো কাছে খুলে বলতে, ইচ্ছে হচ্ছে কারো সঙ্গে নিজের পছন্দ-অপছন্দ শেয়ার করতে। এখানেও মুশকিল আসান অনলাইনেই। সামনাসামনি যে কথাগুলো বলে উঠতে পারছেন না, ইন্টারনেট চ্যাটে কত সহজেই সেগুলো বলে ফেলতে পারছেন। তাই আজকাল অনলাইন রোমান্স খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে।

* অনলাইন রোমান্সের ক্ষতিকর দিক ও তার প্রতিকার

অনলাইন রোমান্সের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আপনি একজন অচেনা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই অনলাইনে তাদের সঠিক তথ্য গোপন করেন এবং একসঙ্গে অনেকগুলো প্রোফাইল চালান। বিভিন্ন নামে ৩-৪ টা প্রোফাইল রাখা আজকাল খুবই মামুলি ব্যাপার। একটি প্রোফাইলে হয়তো সে সঠিক তথ্য দিচ্ছে আর বাকিগুলোতে সে চালিয়ে যাচ্ছে অভিনয়। বয়স, লিঙ্গ, ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি সবকিছুই হতে পারে ফেক। যে ৩০ বছরের যুবকের সঙ্গে আপনি রোমান্সে জড়িয়েছেন, আসলে তিনি হয়তো ৪০ বছরের বিবাহিত পুরুষ। তাই প্রথমেই কোনো অচেনা মানুষের কাছে নিজের ব্যক্তিগত জীবন উজাড় করে দেবেন না। ফোন নম্বর, ঠিকানা ও ব্যক্তিগত ছবি তার সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

সাক্ষাৎ করার আগে অনলাইনেই আলাপ পরিচিতি বাড়ানো ভালো। যদি তিনি কোনো অশালীন বা আপত্তিকর প্রশ্ন করেন, তাহলে আপনি তাকে ব্লক করে দিতে পারেন। আর কথাবার্তার মাধ্যমেই আপনি বুঝতে পারবেন তিনি আদৌ কোনো লং-টার্ম সম্পর্ক চাচ্ছেন না নিছক আপনার সঙ্গে টাইম পাস করে চলতে আগ্রহী।

আপনার পার্টনারের সঙ্গে আপনি হয়তো অনেক ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করে থাকেন। কিন্তু আপনার পার্টনারের আপনার প্রতি কোনো আবেগ নাও থাকতে পারে। তিনি হয়তো আপনাকে ইমোশনালি ব্যবহার করছেন। ফলে সম্পর্কের স্থিরতার ব্যাপারে খুব একটা নিশ্চিত না হয়ে এগোবেন না।

যদি সত্যিই সম্পর্কের ব্যাপারে এগোতে চান, তাহলে সামনাসামনি দেখা করুন। দেখা করার সময় প্রথমে অবশ্যই কোনো পাবলিক প্লেসে দেখা করুন। কখনোই কোনো নিরিবিলি জায়গায় দেখা করতে রাজি হবেন না।

অনেকেই অনলাইনে লং ডিসটেন্স রোমান্স চালানোর কথা ভাবেন। আপনি হয়তো এই দেশে থাকেন, আর আপনার পার্টনার থাকেন বিদেশে। এই ধরনের সম্পর্কে না জড়ানোই ভালো। এসব সম্পর্কের নিশ্চয়তা খুবই কম।

আপনি হয়তো ভাবছেন, এত সাতপাঁচ ভেবে তো আর কেউ প্রেমে পড়ে না। তবে রোমান্সটা যেহেতু অনলাইনে, তাই কিছু সতর্কতা আপনাকে নিতেই হবে। মনে রাখবেন, সতর্কতা মেনে চললে আপনার ঠকার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমবে, আপনি থাকবেন নিরাপদ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ