কারো প্রতি শারীরিক আকর্ষণ বোধের ১০ কারণ

বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষ করে নির্দিষ্ট কারো প্রতি কেন থাকে শারীরিক আকর্ষণ? এর ১০টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখা নিয়ে থাকছে আজকের পর্ব।

* পারস্পরিক সামঞ্জস্য: আমরা কারো রুপের প্রশংসা করার সময় প্রায়শই পারস্পরিক সামঞ্জস্যের কথাটা মনের অজান্তেই বলে ফেলি। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক বা চেহারাগত পারস্পরিক সামঞ্জস্য যৌন অনুরক্তির পেছনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

অ্যানিমেল বিহেবিয়ার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, পারস্পরিক সামঞ্জস্য পুরুষ এবং নারীর যৌন অনুরক্তির একটি প্রধান কারণ। গবেষণাটিতে পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণের নানা কারণ খুঁজে বের করা হয়। নমুনা হিসেবে পুরুষের কান এবং আঙুলের দৈর্ঘ্য মাপা হয়। মূলত তাদের মধ্যে পারস্পারিক সামঞ্জস্যের মাপকাঠি নির্ণয়ের জন্যই এই নমুনা নেয়া হয়। সেসকল পুরুষদের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হয় এবং তাদের নানারকম প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন নারীকে শারীরিক আকর্ষণ করার জন্য পুরুষদের শরীর এবং মুখের ছবিগুলো রেটিং করতে বলা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, সুঠাম দেহের পুরুষরা বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে সর্বাধিক নম্বর অর্জন করেছিল।

* সঠিক বডি মাস ইনডেস্ক: বডি মাস ইনডেস্কের সঙ্গে উচ্চতা এবং ওজনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০.৮৫ অনুপাতের শারীরিক আয়তনের নারীরা বেশি আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। তাছাড়া এই আয়তনের নারীরা সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সন্তান ধারণ এবং প্রসবে বেশি পারদর্শী হয়। অন্য আরেক গবেষণায় নতুন এক অনুপাতের কথা উল্লেখ করা হয়। এই অনুপাতটি হচ্ছে, কোমর এবং নিতম্বের অনুপাত। ০.৬৭ অনুপাতের কোমর এবং ১.১৮ অনুপাতের নিতম্বের নারীরা পুরুষদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া অধিকাংশ পুরুষ নারীদেহের সুন্দর বাঁক পছন্দ করেন এবং এই অনুপাতের নারীরা সুন্দর বাঁকওয়ালা শরীরের অধিকারী হয়ে থাকেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীরা পুরু ঠোঁটের অধিকারী তারা পুরুষদের কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

* লম্বা পা: দ্য জার্নাল অব ক্রস-কালচারাল সাইকোলজিতে প্রকাশিত ২০১৯ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষ ও নারী উভয়ের কাছেই গড় মাপের তুলনায় কিছুটা লম্বা পাবিশিষ্ট ব্যক্তি পছন্দ। গবেষকরা ২৭টি ভিন্ন ভিন্ন জাতির ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, বেশি খাটো বা বেশি লম্বা পা কম আকর্ষণীয়।

* আনুগত্য: কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে একটি সম্পর্কে আবদ্ধ আছেন, তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে একে অন্যের প্রতি থাকা আনুগত্য। পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্য বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। স্টিফেন এমলেন নামে এক গবেষক বলেন, ‘সন্তানের সঠিক পরিচর্যা, আত্মত্যাগ এবং যৌন আনুগত্য সুন্দর এবং আনন্দে ভরা একটি সম্পর্কের পরিচায়ক।’

* পুরুষের চেহারায় কাটা দাগ: পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন্ডিভিজুয়্যাল ডিভারেন্সেস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের চেহারায় কাটা দাগ থাকলে নারীরা তাদের বেশি পছন্দ করেন। চেহারায় কাটা দাগ আকর্ষণীয় হওয়ার কারণ হলো, এটি প্রমাণ দেয় যে ওই ব্যক্তি কর্মঠ বা উত্তেজনাপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। অবশ্য সংক্ষিপ্ত সময়ের সম্পর্কের জন্য চেহারার কাটা দাগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কের জন্য কাটা দাগের কোনো উপযোগিতা নেই। কেননা নারী এবং পুরুষ উভয়েই জীবনসঙ্গীর নিখুঁত সৌন্দর্য পছন্দ করে।

* চেহারার আকৃতি: বলিষ্ঠ চোয়ালবিশিষ্ট পুরুষদের নারীরা বেশি পছন্দ করে থাকেন। এটার কারণ আজও একটি রহস্য। আসলে ইস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরণ নামক হরমোনের ফলে পুরুষ এবং নারীর হাড় এবং চেহারা গঠন হয়ে থাকে। যেসকল নারীদের ছোট ভ্রূ এবং সুন্দর চোখ থাকে তারা বেশি উর্বর হয় বলে ধরা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে ভ্রূ এবং চোয়ালের গঠন সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

* আবেদনময়ী কন্ঠ: কন্ঠের ব্যাপারটা প্রকৃতপক্ষে হরমোনের ওপর নির্ভরশীল। অধিকমাত্রার টেস্টোস্টেরণের প্রভাবে পুরুষের কন্ঠ ভারী হয়ে থাকে যা নারীদের বিশেষ আকর্ষণের কারণ। কন্ঠের কম্পাঙ্ক বেশি হলে তা আরো বেশি নারীসুলভ হয়ে থাকে যা পুরুষদের বেশি পছন্দ। নারী এবং পুরুষ উভয়ের কথায় শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা বেশি থাকলে তা অধিক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। তাছাড়া নারীরা ভারী এবং মোটা কন্ঠবিশিষ্ট পুরুষদের বেশি পছন্দ করে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কাউকে না দেখে শুধুমাত্র তার কন্ঠ শুনেই আপনি তার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। তাছাড়া সুন্দর কন্ঠ এবং কথার স্পষ্টতা আকর্ষণের কারণ হতে পারে।

* জীনগত মিল: জীনগত মিলের কারণে কিছু দম্পতির চেহারায় অনেক মিল থাকে। এটা হাস্যকর শোনালেও সত্য। অতীতে বিবাহগুলো একই বংশের মধ্যে সংঘটিত হতো, যার একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব দম্পতিগুলোর মধ্যে দেখা যেত। আসলে পরিচিত মানুষের সঙ্গ আমাদের জন্য বেশি উপাদেয়, তাছাড়া সন্তান-সন্ততির ক্ষেত্রে ব্যাপারটির উপযোগিতা সবচেয়ে বেশি। জীনগত সামঞ্জস্যপূর্ণ মানুষগুলো অন্যান্যদের চেয়ে বেশি সুখী এবং আনন্দঘন দাম্পত্যজীবন উপভোগ করে থাকেন।

* সাহায্যপ্রবণ আচরণ: শুধুমাত্র চেহারার সৌন্দর্য দিয়েই সবকিছু সম্ভব নয়। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব নারী-পুরুষের যৌন অনুরক্তির পেছনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। সাহায্যপ্রবণ আচরণ, স্বাধীনচেতা মানসিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, সাহায্যপ্রবণ আচরণের ব্যাপারটা আমাদের পূর্বপুরুষের সময় থেকে চলে আসছে। আদিম যুগেও মানুষ তার সঙ্গীর মধ্যে এই ধরনের আচরণ খুঁজত। আসলে সাহায্যপ্রবণ আচরণের ফলেই মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাছাড়া কারো সঙ্গে দীর্ঘকালীন একটি সম্পর্কে আবদ্ধ হতে যায় এমন মানসিকতার জন্য।

* মস্তিষ্কের আচরণ: আসলে কাউকে ভাললাগা বা না লাগা আমাদের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কেউ বিরক্তিকর নাকি উপভোগ্য তা আমাদের মস্তিষ্ক বলে দেয় এবং সেই অনুযায়ী আমরা আচরণ করে থাকি। যদি কেউ বিরক্তিকর হয় তাহলে আমরা তার প্রতি আকৃষ্ট হইনা বরং এড়িয়ে যাই এবং আমাদের ভালোলাগার জায়গাগুলোর সাথে মিল পেলে আমরা সেই ব্যক্তিকে পছন্দ করি এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আমরা যেতে চাই। তাছাড়া সবার পছন্দের জায়গা একরকম নয় এবং এক্ষেত্রে সবার মস্তিষ্ক সমান আচরণ করেনা।

%d bloggers like this: