Home > আন্তর্জাতিক > সিরিয়া অভিযানে এগিয়ে চলেছে তুর্কিবাহিনী, হটছে প্রতিপক্ষ

সিরিয়া অভিযানে এগিয়ে চলেছে তুর্কিবাহিনী, হটছে প্রতিপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জনতার বাণী,
আঙ্কারা: গত ২৪ আগস্ট থেকে তুরস্ক সিরিয়ার ভেতরে ‘ইউফ্রেটিস শিল্ড’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এতে তুরস্কের বিশেষ বাহিনীকে ট্যাংকবহর ও জঙ্গিবিমান সহায়তা দিচ্ছে। এতে তুর্কি বাহিনী ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। অনেকটাই সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে। প্রতিপক্ষ গ্রুপ ক্রমেই পিছু হটছে।
তবে গেল ৫দিনে প্রতিপক্ষের এক তুর্কি সেনা শাহাদতবরণ এবং অন্য তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
এদিকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৭৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক কথিত মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।
সংস্থাটি দাবি করেছে, সিরিয়ার জাবআল-কুসা এলাকায় তুর্কি বাহিনীর হামলায় ২০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। এ এলাকাটি আলেপ্পো প্রদেশের জারাবলুস শহরের কাছে অবস্থিত। এর পাশাপাশি তুর্কি বাহিনীর বোমা হামলায় স্থানীয় চার গেরিলা গেরিলা মারা গেছে।
সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, জারাবুলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত আরামনেহ শহরে তুর্কি বাহিনীর হামলায় আরো ১৫ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। আরামনেহ শহরে শনিবার তুর্কি সমর্থিত সিরিয়ার গেরিলা ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়েছে।
এদিকে প্রেস টিভির এক খবরে বলা হয়, তুরস্কের এরদোগান সরকার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে স্থল-অভিযানের তোড়জোড় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চালাচ্ছিল বলে একজন তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, কয়েকটি কারণে তুর্কি সরকার এই অভিযান দেরিতে শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।
তুর্কি সরকার বলছে, মূলত তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে (আইএসআইএল) দমনের জন্যই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই স্থল-অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক।
আঙ্কারা গত জুন মাসেই সিরিয়ায় স্থল-অভিযান চালানোর বিষয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গত মধ্য জুলাইয়ে এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টাও এই অভিযান পেছানোর অন্যতম কারণ।
তুরস্ক গত বছরের শেষের দিকে সিরিয়ার আকাশে একটি রুশ জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করায় রুশ-তুর্কি সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। আর এ ঘটনাও সিরিয়ায় তুর্কি স্থল-অভিযান পেছানোর আরেকটি বড় কারণ।
মস্কোর সঙ্গে সংঘাতের কারণে সিরিয়ায় সব ধরনের তুর্কি বিমান অভিযান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় আঙ্কারা, অথচ স্থল-অভিযান চালানোর জন্য তুর্কি বিমান অভিযান চালানো ছিল অপরিহার্য।
ওই তুর্কি কর্মকর্তা আরো বলেছেন, বিমান-হামলার ছত্রছায়া ছাড়া সিরিয়ায় তুর্কি স্থল-অভিযানের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হত অসম্ভব।
এদিকে তুর্কি সেনারা আইএসআইএল দমনের নামে আসলে নানা তাকফিরি গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তুর্কি সরকার তাকফিরি সন্ত্রাসীদের জন্য সিরিয়ার সঙ্গে তার সীমান্তগুলো খুলে রেখেছে। ফলে এই সন্ত্রাসীরা যে কোনো সময় সিরিয়ায় ঢুকতে পারছে তুর্কি সীমান্ত দিয়ে এবং যে কোনো সময় তারা সিরিয়া থেকে ধাওয়া খেয়ে তুরস্কে পালিয়ে যেতে পারছে।
বৃহস্পতিবার তুর্কি বিমানগুলো সিরিয়ায় কুর্দি যোদ্ধাদের ওপর গোলা বর্ষণ করে ও একই দিনে তুরস্ক সিরিয়ার ভেতরে বেশ কয়েকটি ট্যাংকও পাঠায়। শুক্রবার সীমান্তবর্তী সিরিয় শহর জারাবুলুস-এ আরো চারটি ট্যাংক পাঠায় তুরস্ক।
তুর্কি ট্যাংক, বিমান ও স্থল-বাহিনীর মদদপুষ্ট শত শত সিরিয় বিদ্রোহী জারাবুলুস শহরটি দখল করে বৃহস্পতিবার।
গত বুধবার থেকে সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে ‘অপারেশন ইউফ্রেটিস শিল্ড’ (বা ‘ফোরাত রক্ষা অভিযান’) শীর্ষক অভিযান শুরু করে তুরস্কের জঙ্গি বিমান ও বিশেষ স্থল-বাহিনী। সীমান্ত অঞ্চলকে আইএসআইএল ও কুর্দি সেনাদের হাত থেকে মুক্ত করাই এ অভিযানের লক্ষ বলে এরদোগান সরকার দাবি করছে।
সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে তুর্কি সেনাদের তীব্র সংঘর্ষ হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তুর্কিবাহিনীই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অভিযানে তুর্কি সফল হলে বিশ্বশক্তিতে তুরস্ক নতুনরূপে আবির্ভুত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া ততটা সহজ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ