Home > আন্তর্জাতিক > পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি: বিক্ষোভের মুখে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি: বিক্ষোভের মুখে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডর গানলৌগসন।
মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এখবর জানানো হয়।
পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মোসাক ফনসেকার’ এক কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল আলোড়ন।
সোমবার ফাঁস হওয়া ‘পানামা পেপারস’খ্যাত ওইসব নথিতে উঠে এসেছে নামে-বেনামে রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, খেলোয়াড়, চলচ্চিত্র তারকাসহ ধনী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন চাঞ্চল্যকর সেইসব তথ্য।
ফাঁস হওয়ো ওই নামের তালিকায় এসেছে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসনের নামও।
একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে গোপনে বিনিয়োগ করার অভিযোগ ওঠায় সোমবার সিগমুন্ড গুনলাগসনের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির পার্লামেন্টের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
এরআগে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ মালিকানায় থাকা কোম্পানি উইনট্রাসের বিস্তারিত প্রকাশ্য হয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তার সরে যাওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে।
কিন্তু তিনি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান।
দেশটির বিরোধীদলগুলো জানিয়েছে, তারা পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের আয়োজন করবে।
প্রধানমন্ত্রী গুনলাগসন জানিয়েছেন, তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি এবং তার স্ত্রী আর্থিকভাবে লাভবানও হননি।
সম্প্রতি পানামার একটি ল’ ফার্মের এক কোটি দশ লাখ গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে; বিশ্বের ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে বেরিয়ে আসছে সেসব নথিতে।
তাতে দেখা যায়, আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা তিনি গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন (ডানে) ও তার স্ত্রী আনা সিগুরলাগ পালসডোটির। ছবি: আইসল্যান্ড মনিটর আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন (ডানে) ও তার স্ত্রী আনা সিগুরলাগ পালসডোটির। ছবি: আইসল্যান্ড মনিটর বিবিসি বলছে, ফাঁস হয়ে যাওয়া নথির বরাতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন ও তার স্ত্রী ২০০৭ সালে উইনট্রাস নামের কোম্পানিটি ক্রয় করেন।
২০০৯ সালে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাওয়া লভ্যাংশের কথা গোপন করেছিলেন।
২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী গুনলাগসনের স্ত্রী আনা সিগুরলাগ পালসডোটিরের সই করা একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কোম্পানিটির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
ফাঁস হয়ে যাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গুনলাগসনকে উইনট্রাসের সাধারণ আইনি ক্ষমতা দেওয়া আছে। এর মধ্যদিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাকে কোম্পানিটি পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়।
গুনলাগসনের মুখপাত্র দাবি করেছেন, পালসডোটির সবসময় কর কর্তৃপক্ষের কাছে তার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে উইনট্রাসের লাভ জানানোর প্রয়োজন নেই গুনলাগসনের।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ