Home > আন্তর্জাতিক > যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অঙ্গীকারের ওপর নজর থাকবে

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অঙ্গীকারের ওপর নজর থাকবে

শীর্ষ দুই কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কী ধরনের অঙ্গীকার করে, প্যারিস সম্মেলনে তার ওপরই সবার নজর থাকবে। এ মুহূর্তে কার্বন নিঃসরণ ব্যাপক হারে কমানোর জন্য সাহসী সরকারি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এ জন্য করদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে। চীনের এ ক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাজটা সহজ হবে না। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
অন্তত ১৩০টি দেশের সরকার এবং ২৫ হাজার কর্মকর্তা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কীভাবে শিল্পবিপ্লবের আগের মাত্রার দুই ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ নিকোলাস স্টার্ন এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী কয়েক দশকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আরও বেশি পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য কার্বন নিঃসরণের উৎসগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন। পরিবেশ দূষণকারীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করে কার্বনের নতুন বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাপ ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের আরও কার্যকর উপায় বের করতে হবে এবং কম কার্বন নিঃসরণকারী বিভিন্ন প্রযুক্তির জন্য বিনিয়োগ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব অস্বীকার করে ২০০৬ সালে একটি বিতর্কিত প্রতিবেদন লিখেছিলেন স্টার্ন। সাত বছর পর তিনিই স্বীকার করেন, সেই বক্তব্য ভুল ছিল। তিনি গুরুতর বিষয়টার অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নিকোলাস স্টার্ন ২০১৩ সালে বলেন, পৃথিবী এবং বায়ুমণ্ডল তার প্রত্যাশার চেয়ে কম কার্বন শোষণ করছে। আর ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নিঃসরণ বেড়েই চলেছে। তার কয়েকটি প্রভাব অভাবনীয় দ্রুত টের পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ নিয়ে বড় ধরনের উদ্যোগের বিষয়ে সংশয়ের কারণ, যেখানে সরকারি সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। বিশেষ করে যদি তা মোটরগাড়ি শিল্প বা বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং জনবহুল চীন ও জাপানে মাংস খাওয়া এবং বিদ্যুৎ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র, জ্বালানি তেল ইত্যাদির ব্যবহার কমবে—এমনটা আশা করা কঠিন। তবে এসব দেশে কার্বনমুক্ত বা কম কার্বন নিঃসরণকারী উপকরণের ব্যবহার বাড়তে পারে। যেমন: সৌরবিদ্যুৎ। আফ্রিকা ও এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এ কথা প্রযোজ্য। সৌরবিদ্যুতের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকারকে খুব বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে না। আর এমন অনেক প্রযুক্তি রয়েছে, যেগুলো ব্যবহারের সামর্থ্য করদাতাদের এমনিতেই আছে।

-প্রথম আলো

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ