Home > আন্তর্জাতিক > এনআরসি : আত্মহত্যা আসাম-বাংলায়

এনআরসি : আত্মহত্যা আসাম-বাংলায়

বাদ গেছে এনআরসি তালিকা থেকে নাম, সেইসঙ্গে জুড়ে বসেছিল ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে অজানা আতঙ্ক। সেটাই আর সহ্য করতে পারলেন না আসামের হাজোই জেলার রহিম উদ্দিন। নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হয়েছেন।

৪৭ বছরের রহিম উদ্দিনকে নিয়ে আসামের এনআরসি নিয়ে মৃত্যু হলো পঞ্চাশের বেশি মানুষের। তার মৃত্যুর পর এনআরসি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্ত্রী। মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে আফজাল জানিয়েছেন, এনআরসি তালিকা ঘোষণার পর থেকেই বাবা খুব মনমরা হয়ে পড়েছিলেন। এরইমধ্যে বেশ কিছু অফিসার বাবাকে ভয় দেখিয়েছিলেন, মোটা টাকা জরিমানা দিতে হবে, সেইসঙ্গে ভুগতে হবে জেলের সাজাও। এরপরই তিনি হতাশ হয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

আফজাল নিজে কেরালার একটি হোটেলে কাজ করে। বিষয় হলো, ২০১৮ সালে ৩০ জুলাই আসামের যে এনআরসি তালিকার খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে নাম ছিল রহিম উদ্দিনের। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম নেই তার। এই দ্বিচারিতা কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার।

অন্যদিকে, এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে। এবার সেই আতঙ্কেই আত্মঘাতী হল এক যুবক। অন্তত এমনটাই দাবি পরিবারের। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে। মৃতের নাম অন্নদা রায় (৪২)।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাগুড়ির বড়কামাত এলাকার বাসিন্দা অন্নদা সম্প্রতি এনআরসি ইস্যুতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পৈত্রিক জমির কাগজ তার হাতে না থাকায়, তার ভিটেমাটি চলে যাবে, এই নিয়েই অবসাদে ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা এই নিয়ে তাকে একাধিকবার বুঝিয়েওছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই যখন সরকারি দফতরে নথি সংশোধনের জন্য ভিড় হচ্ছে, তখন থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন অন্নদা। বাড়ির কাছে রেল ক্রসিংয়ের গেটে গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে দেখা যায় অন্নদাকে। পরে পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, আত্মহত্যার প্রবণতা আগে থেকেই ছিল অন্নদার। বছর তিনেক আগেও একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেক্ষেত্রে এবার তার আত্মঘাতী হওয়ার পেছনে এনআরসি ইস্যুই রয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। ময়নাগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের দাদা মোক্ষদা রায়। তার অভিযোগ, পৈতৃক কাগজপত্র না-থাকায় এনআরসি নিয়ে অবসাদে ভুগছিলেন অন্নদা। শুক্রবার ভোরে বাড়ির অদূরেই রেলগেটের সামনে নিজের গামছা গলায় বেঁধে ঝুলে পড়েন তিনি। যদিও পুলিশ সুপারের দাবি, ২-৩ বছর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ওই ব্যক্তি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ