Home > আন্তর্জাতিক > মিশরের কারাগারে বন্দিদের আর্তনাদ

মিশরের কারাগারে বন্দিদের আর্তনাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জনতার বাণী,
কায়রো: মিশরের কারাগার এখন
দেশটির গণতন্ত্রপন্থিদের জন্য
নির্যাতনের সেলে পরিণত
হয়েছে। বন্দিদের আর্তনাদে
প্রতিনিয়ত কাঁপছে
কারাসেলগুলো।
এমনই বর্বরতম চিত্র উঠে এসেছে
এক নারী কারাবন্দির চিঠিতে।
গত ৭ জুলাইয়ের লেখা এই চিঠি
গণমাধ্যমে আসে মঙ্গলবার।
ইসরা আল-তাবিল নামের এই
তরুণীকে তুলে নিয়ে যায় কিছু
অপরিচিত লোক। এরপর তাকে
নিরাপত্তা বাহিনীর একটি
ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভবনটি
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য ব্যবহৃত হয়। একই কায়দায় তার
দুই ছেলে বন্ধুকে তুলে নিয়ে
যাওয়া হয়।
সেখানকার নির্যাতনের বর্ণনা
দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি
নিরাপত্তা বাহিনীর ওই ভবনে
১৫ দিন অতিবাহিত করেছি,
জিজ্ঞাসাবাদ মুখোমুখি
হয়েছি। এ সময় আমি নির্যাতনের
শব্দ শুনেছি, বন্দিরা আর্তনাদ
করছিল। ওই ১৫ দিনে সেখানে
আমিই ছিলাম একমাত্র নারী।’
তরুণ ফটোগ্রাফার তাবিলকে ১৬
দিন পর আদালতে নেয়া হয়।
সেখানে প্রায় ১৮ ঘণ্টা তাকে
থাকতে হয়। তার বর্ণনায়,
দাঁড়িয়ে থাকতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল
তার। কারণ ২০১৪ সালের
জানুয়ারির বিক্ষোভে
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে
তার মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে
ঠিকমতো চলাফেরা করতে
পারছেন না তিনি।
এরপর তাবিলকে আল-কানাতির
কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
এই কারাগারের অধিকাংশ বন্দি
নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম
ব্রাদারহুডের। আর তাদের সবার
বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরনও প্রায়
একই।
তাবিলের বিরুদ্ধে মুসলিম
ব্রাদারহুডের সদস্য হওয়া এবং
মনগড়া সংবাদ প্রচারের
অভিযোগ আনা হয়েছে। অবশ্য
দুটি অভিযোগই অস্বীকার
করেছেন তিনি।
বন্দি জীবনের বর্ণনায় তাবিল
আরো বলেন, কারাগারের
পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা,
রয়েছে তেলাপোকার উৎপাত।
অন্য আসামিদেরকেও ভয় পান
তিনি। নানা অপরাধে গ্রেপ্তার
হওয়া বন্দিদের সঙ্গে তাকে
রাখা হয়েছে। এদের কেউ
কেউ পতিতাবৃত্তি, ছিনতাই এবং
চুরির মতো অপরাধে গ্রেপ্তার
হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, যখন
পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে
আসেন, তখন একটু দম ফেলার
ফুসরত মেলে এবং যখন তাকে
মুসলিম ব্রাদারহুডের নারী
বন্দিদের সঙ্গে রাখা হয়।
নিজেকে ব্রাদারহুডের কেউ
নন দাবি করে তাবিল বলেন,
ব্রাদাহুডের বন্দিদের সঙ্গেই
থাকতে পছন্দ করেন তিনি। কারণ,
তাদের কেউ ধুমপান করেন না।
চিঠিতে উঠে এসেছে তরুণী
এই ফটোগ্রাফারের আর্তনাদও।
তিনি বলেন, ‘একটা সময়ের
শেষে জীবন আমাদের আলো
দেয়। এটা আমাদের বড় কষ্টগুলো
ভুলিয়ে দেয়। ওহ আল্লাহ! কখন এই
দুঃস্বপ্নের শেষ হবে।’
সম্প্রতি সাবেক সেনাপ্রধান ও
বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল
ফাত্তাহ আল-সিসি সরকারের
সমালোচনা করেছেন এমন বেশ
কয়েকজন মিশরীয় নাগরিক গুমের
শিকার হয়েছেন। দেশটির
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ
ধরনের অন্তত ৫০টি অভিযোগ
পেয়েছে।
এছাড়া কারাগারে খুন, নিপীড়ন
এবং অবহেলার শিকার হয়ে ১২৪
জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে
জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান
রাইটস ওয়াচ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ