Home > আন্তর্জাতিক > চীনের আরেকটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে?

চীনের আরেকটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে?

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : চীনের আরো একটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।

মাত্র তিন মাসে আগেই চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। এবার চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশনটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় ‘তিয়ানগং-২’ স্টেশনটি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।

‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মাইল ওপরে ভেসে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এটি কক্ষপথের স্বাভাবিক উচ্চতায় ফিরে গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনটি নামিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।

গত এপ্রিলে, চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার মতো বিব্রতকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর আশা করছে চীনা মহাকাশ সংস্থা।

চীনের ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংক্রান্ত নীতির কারণে জনসমক্ষে এ বিষয়গুলো প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে চীনের জন্য। ক্যালিফোর্নিয়ার ভান্ডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেইসে অবস্থিত যৌথ পরিচালনা সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, জুনের ১৩ তারিখে ‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটি নির্ধারিত ২৩৬ মাইল থেকে ২৪০ মাইলের উচ্চতা থেকে ১৮১ থেকে ১৮৫ মাইলে নেমে এসেছিল। মূল উচ্চতায় ফিরে যাওয়ার আগে এটি দশ দিন পর্যন্ত এই নিম্ন উচ্চতায় ছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীন ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় আরো বেশি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ‘তিয়ানগং-২’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ‘তিয়ানগং-১’ বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, ফলে ৯ টন জন ওজনের মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল।

‘তিয়ানগং-২’ এর ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা, মহাকাশ স্টেশনটিকে নিচে নামানো এবং উপরে উঠানোর ঘটনাটি চীনের নিজেদের পছন্দনীয় স্থানে এবং পছন্দনীয় সময়ে নামিয়ে আনার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে, এই স্টেশন মডিউলটি পৃথিবীর কোন স্থানে এবং কখন আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে চীন। এ ধরনের ধ্বংসাবশেষের জন্য মার্কিন এবং রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থাগুলো সাধারণত দক্ষিণ মহাসাগরীয় অঞ্চল ব্যবহার করে থাকে।

স্পেসনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী জোনাথান ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘তিয়ানগং-২ স্টেশনকে কক্ষপথের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভবত এটিকে নিরাপদ ভাবে পৃথিবীতে নামিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে।’

‘তিয়ানগং-২’ চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশন। ২০১৬ সালে ‘তিয়ানগং-১’ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার পর চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, একই বছরের সেপ্টেম্বরে ‘লং মার্চ ২এফ’ রকেটে করে নতুন স্পেস স্টেশন ‘তিয়ানগং-২’ কক্ষপথে পাঠায়। নতুন মডিউলটি ‘সিস্টেম পরীক্ষা এবং মধ্য মেয়াদে মহাকাশে অবস্থান করার প্রক্রিয়া ও জ্বালানী সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের চীনের নভোচারীরা নিজেদের মহাকাশ স্টেশনে ৩০ দিন কাটিয়েছিলেন, যা মহাকাশে চীনা নভোচারীদের সবচেয়ে দীর্ঘ অবস্থান।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় আগুন ধরে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল তিয়ানগং-১।

মহাকাশে ২০২২ সালের মধ্যে নিজেদের নভোচারীদের বসবাসের উপযোগী বিশাল মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন প্রথমবারের মতো নিজেদের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচি হিসেবে স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ প্রেরণ করেছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে এটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিব্রতকর ও বিপজ্জনক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলের ২ তারিখে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রবেশের সময় এটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ বিজ্ঞানীরা আগাম ধারণা দিতে পারেননি যে, কবে এবং কখন ‘তিয়ানগং-১’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়বে।

মহাকাশ স্টেশনের যেকোনো ধ্বংসাবশেষ মানুষের স্পর্শ কিংবা শ্বাস নেওয়ার জন্য ক্ষতিকর। কেননা এতে রকেটের মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত জ্বালানি থাকে। জনবসতিপূর্ণ স্থানে পতিত হওয়া ঠেকাতে কিংবা পতিত হওয়ার সময় পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়ানোর নিশ্চয়তায় কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ