Home > আন্তর্জাতিক > এরদোগানের প্রতিরক্ষা মহাপরিকল্পনা

এরদোগানের প্রতিরক্ষা মহাপরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জনতার বাণী,
আঙ্কারা: অনেক বছর ধরেই ন্যাটোর
বৃহত্তম সেনাবাহিনীর গৌরব বহন
করছে তুরস্ক। এক্ষেত্রে তার একমাত্র
প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট
রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান তার
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছেন।
এরদোগান এখন স্বপ্ন দেথছেন যে,
কয়েক বছরের মধ্যেই তুরস্ক তার
প্রয়োজনীয় সকল সামরিক সরঞ্জাম
নিজেরাই তৈরি করবে। প্রচণ্ড
দাঙ্গাহাঙ্গামাপূর্ণ একটি অঞ্চলে
তার এ উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে
দেশটিকে একটি বৃহত্তর ভূমিকা পালন
করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের
পশ্চিমা জোটের ওপর থেকেও নির্ভরতা
কমিয়ে আনতে হবে।
আগামী মাসে তুরস্কের সংসদীয়
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এ কে পার্টি
কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ার
সম্ভাবনা রয়েছে। তারা এর মাধ্যমে
জাতীয়তাবাদীদের সমর্থন লাভের চেষ্টা
চালাচ্ছেন।
এছাড়াও এরদোগান বারবার বলছেন যে,
তার দেশ রাইফেল থেকে শুরু করে
জঙ্গিবিমানের যাবতীয় সবকিছুর একটি
প্রধান রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে।
তার ঘোষিত লক্ষ্য তুরস্ককে
গৌরবাম্বিত অটোমান সাম্রাজ্যের
দিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। এরদোগান
ইতিমধ্যে ১ হাজারেরও বেশি রুমের
একটি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ নির্মাণ
করেছেন। যদিও তার বিরোধীরা ‘আধুনিক
সুলতান’ হিসেবে তাকে তিরস্কার করে
থাকেন।
চলতি মাসে ইস্তাম্বুলে এক প্রতিরক্ষা
শিল্প সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যতদিন
বিশ্বে আক্রমণকারীরা থাকবে,
আমাদেরও ততদিন প্রতিরক্ষার জন্য
প্রস্তুতি নিতে হবে।’
এরদোগানের দৃষ্টি আধুনিক তুর্কি
প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকীর
উপর। এটিকে সামনে রেখে তিনি বলেন,
‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৩ সালের
মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে আমাদের
বিদেশি নির্ভরতা থেকে সম্পূর্ণভাবে
মুক্তি লাভ করা।’
আঙ্কারা প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিবছর
প্রায় ১৮০০ কোটি ডলার ব্যয় করে
থাকে। এর অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় করা
হয় নিজদেশে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি
করার জন্যে। গত বছর দেশটি ১৬৫
কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
রপ্তানি করে যা এর পূর্বের বছরের
চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।
ব্যাপকভাবে উৎপাদনের জন্য ট্যাংক
এবং পদাতিক রাইফেল প্রায় প্রস্তুত।
রণতরী এবং ফাইটার জেট নির্মাণের
বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
কিন্তু এরদোগান আশা করছেন যে,
২০২৩ সালের মধ্যে তারা উৎপাদন
ব্যবস্থায় যেতে পারবে। ওই সময়ে তিনি
মোট ২৫ বিলিয়ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
রপ্তানি করতে চান।
দেশটির একজন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক
ও কলামিস্ট বোরাক বেকদিল হুরিয়েত
সংবাদপত্রকে বলেন, ‘তুরস্কের
শাসকগোষ্ঠী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে,
একটি বাস্তবিক প্রতিরোধক সামরিক
বাহিনী ছাড়া তুরস্ক আঞ্চলিক
শক্তিতে পরিণত হতে পারে না।’
২০১৪ সালে শক্তিশালী নিরাপত্তা
ব্যবস্থার জন্য আঙ্কারা সিরিয়ার
সঙ্গে তার সীমান্ত বরাবর প্যাট্রিয়ট
মিসাইল স্থাপন করার জন্য ন্যাটোকে
আহ্বান জানিয়েছিল। এই ধরনের
নির্ভরতা তুরস্কের দুর্বলতাই প্রকাশ
করেছিল।
গত মাসে প্রধানমন্ত্রী আহমেত
দাভুতোগলু তুরস্কের একটি বেদনাদায়ক
অভিজ্ঞতার কথা স্বরণ করে বলেন
যে, তার দেশ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়
বিদেশ থেকে অস্ত্র কিনতে বাধ্য
হয়েছিল।
গালিপলি যুদ্ধের শত বার্ষিকীতে তিনি
বলেন, ‘নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ছাড়া
একটি জাতি তার মুক্তির যুদ্ধ করতে
পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০২৩ সালের
মধ্যেই স্থানীয়ভাবে তৈরি যুদ্ধ বিমান
তুর্কি আকাশ উড়বে।’
তুরস্ক যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন
করতে চাচ্ছে তা অনেকের কাছেই
স্পষ্টতই বোধগম্য। কেননা সিরিয়া ও
ইরাকের সঙ্গে দেশটির ১,২০০
কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের
ওই এলাকা জুড়ে আইএস জঙ্গিরা
একটি স্ব-ঘোষিত খিলাফত প্রতিষ্ঠা
করেছে।
নৌবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক
অ্যটিলা স্যানডিক্লি জানান, ১৯৭৪
সালে তুর্কি বাহিনী উত্তর সাইপ্রাসে
আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির
ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এর ফলে আঙ্কারাকে অধীনস্থ করে
রাখা হয়। যদিও কয়েক বছর পরে এ
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
পৃথিবীর ১০০টি বৃহত্তম প্রতিরক্ষা
কোম্পানির মধ্যে দুটিই তুরস্কে
অবস্থিত। কোম্পানি দুটি হচ্ছে
অ্যাসেলসান ও টিইউএসএএস। কিন্তু
এ সেক্টরটি যদি পশ্চিমের প্রতিরক্ষা
জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করতে চায়, তবে ইউরোপের বাইরে তার
রপ্তানিতে বৈচিত্র আনতে হবে।
ইউরোপে বর্তমানে প্রতিরক্ষা বাজেটে
কমিয়ে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে এশিয়া,
মধ্যপাচ্য এবং আফ্রিকায় প্রতিরক্ষা
ব্যয় দিন দিন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
তুরস্কের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা
কোম্পানি অ্যাসেলসানের জেনারেল
ডিরেক্টর ফায়িক এইকেন রয়টার্সকে
বলেন, ‘পশ্চিমের অনেক দেশের চেয়ে
আমরা অনেক ভালমানের পণ্য তৈরি
করছি। আমরা অনেক সস্তায় করছি..।
আমরা প্রযুক্তি শেয়ার করতে প্রস্তুত।
তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প পশ্চিমের
একটি বৈধ বিকল্প হতে পারে।’
টিইউএসএএসের প্রধান নির্বাহী
মোহারেম ডোরকাসলি বলেন, ‘যদিও
আমরা এখনো ছোট আঙ্গিকে রয়েছি।
তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প ধীরে ধীরে বড়
রড় প্রকল্প মোকাবেলা করার ক্ষমতা
অর্জন করছে। এখন আমরা ন্যাটো
জোটের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র। তবে
আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং
ব্রিটেনের পাশাপাশি রাশিয়া এবং চীনের
সাথে একই কাতারে আসতে চাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এমন একটি
দেশ সম্পর্কে বলছি যে দেশটির থাকবে
তার নিজের জাতীয় ট্যাংক, জাতীয়
জাহাজ, জাতীয় হেলিকপ্টার, উপগ্রহ
এবং যুদ্ধবিমান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা
পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের
যেসব সক্ষমতা রয়েছে আমরা তা
অর্জন করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’
সূত্র: রয়টার্স

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ