বেপরোয়া ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বন্ধে জাতিসংঘের প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে ইসরায়েল। ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া ১০টি দেশ এবং ভোটদানে বিরত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বেপরোয়া নেতানিয়াহুর সরকার। ওই প্রস্তাব পাসের জন্য ওবামা প্রশাসনকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তলব করা হয়েছে যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জাপান, মিসর, উরুগুয়ে, স্পেন, ইউক্রেন ও নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকেও। এর আগে প্রস্তাব উত্থাপনকারী সেনেগাল ও নিউজিল্যান্ড থেকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফেরার নির্দেশ দেয় তেল আবিব। খবর আলজাজিরা, বিবিসি ও ফক্স নিউজের।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নীরব ভূমিকায় পাস হয় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বন্ধের প্রস্তাব। এর আগে দেখা গেছে, ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী প্রস্তাবে জাতিসংঘে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভেটো দেওয়া হয়। কিন্তু এবার বিরোধিতা না করে কেবল ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ওপরেই ক্ষুব্ধ হয়েছে। ইসরায়েল বলছে, ওয়াশিংটনই পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে এ কাজ করেছে। তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে প্রস্তাবকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে কোনো শর্ত না মানার হুমকি দেয় ইসরায়েল। পরে তেল আবিব সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের কথা ভাবছে ইসরায়েল। খবরে বলা হয়, এরই মধ্যে জাতিসংঘের ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া সহায়তা তহবিল বাতিল করেছে তেল আবিব। রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওবামা প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। যদিও প্রস্তাব পাসের পর নবনিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আসছে ২০ জানুয়ারি তিনি ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর পরিস্থিতি অন্য রকম হবে। জাতিসংঘ প্রস্তাব বদলে যাবে।

তবে প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনকে অভিযুক্ত করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের কাছে যেসব তথ্য রয়েছে সে অনুযায়ী আমাদের কোনো সন্দেহ নেই_ ওবামা প্রশাসন এ প্রস্তাবের উদ্যোগ নিয়েছে, এর পেছনে দাঁড়িয়েছে, এর ভাষা ঠিক করে দিয়েছে এবং প্রস্তাবটি পাসের জন্য দাবি তুলেছে।

স্থানীয় সময় রোববার বড়দিনের উৎসবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দানিয়েল শাপিরোকে তলব করা হয়। সে সময় নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ বন্ধের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটদানে বিরত থাকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এর আগে ফরাসি, ব্রিটিশ, রুশ, চীনা, স্প্যানিশসহ ১০টি দেশের রাষ্টদূতকে ডেকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়।

নেতানিয়াহু বলেন, ইস্যুটি সমাধানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উপযুক্ত জায়গা নয়। এ প্রস্তাব পাসে জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা-না রাখার ব্যাপারেও ভাবছে ইসরায়েল।

এর আগে শনিবার এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি সহায়তা, ইসরায়েলে থাকা জাতিসংঘ প্রতিনিধিসহ ওই সংস্থার সঙ্গে আমাদের যাবতীয় সম্পর্ক এক মাসের মধ্যে পুনর্বিবেচনা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি। সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের ৫ সংস্থাকে ইসরায়েলের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন বলে আখ্যায়িত করেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, এরই মধ্যে ওই সংস্থাগুলোতে ৭৮ লাখ ডলারের তহবিল বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শতাধিক ইহুদি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল।

%d bloggers like this: