Home > তথ্য ও প্রযুক্তি > মঙ্গলে বিশাল নদী ও জলাশয় ছিল!

মঙ্গলে বিশাল নদী ও জলাশয় ছিল!

নতুন এক তথ্য জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গল গ্রহের লাল ভূ-পৃষ্ঠে এক সময় অনেক নদী আর বিশাল জলাশয় ছিল, স্যাটেলাইটের ছবিতে তেমনটাই প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলপৃষ্ঠে সব গর্ত আর গভীর খাদ তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা আরো বলছেন, মঙ্গলের ভূ-অভ্যন্তরে পানি আছে। আর বেশিরভাগ পানি বরফে জমাট বাঁধা আছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক নতুন এক গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেসব নদী কয়েক সপ্তাহেই বিশাল সব গভীর খাদ তৈরি করেছে। পৃথিবীতে যেখানে হাজার হাজার বছর সময় লেগেছে বড় সব নদীর গভীর খাদ তৈরি করে গতিপথ সৃষ্টিতে, সেখানে মঙ্গলে কয়েক সপ্তাহেই তৈরি হয়েছিল বিশাল সব খাদ ও শত শত গর্ত। বড় সব গর্ত দেখে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হলে বড় সব লেক বা জলাশয়ের পানি উপচে বিশাল খাদ তৈরি করে। সেই ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী হয়েই মঙ্গলের পৃষ্ঠে দেখা যাচ্ছে গভীর সব খাদ। বন্যার কারণে সৃষ্ট এসব গভীর খাদের অস্তিত্ব কয়েকশ কোটি বছর পরও দেখা যাবে, বলছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে এখন মঙ্গলের বেশিরভাগ পানি বরফে জমাট বাঁধা আছে বিজ্ঞানীরা তেমনটাই বলছেন। টেক্সাস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের ভূ-পৃষ্ঠে বন্যা সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রমাণ পেয়েছেন। মূল গবেষক ড. টিম গজ বলেছেন, মঙ্গলের শুকিয়ে যাওয়া বিশাল ওই জলাশয়গুলোর কোনো কোনোটি অনেক বড়, আকারে পৃথিবীর কাস্পিয়ান সাগরের মতো। মঙ্গলে ভয়াবহ বন্যার মতো যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে, তা গ্রহটির উপরিভাগ গড়ে উঠার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলে পাথর তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় স্যাটেলাইট ছবিতে শত শত যেসব গর্ত দেখা গেছে, সেগুলো এক সময় পানিতে পূর্ণ ছিল বলেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

পানিশূন্য দুই শয়ের বেশি প্রাচীন ওইসব জলাশয় থেকে পানি একসঙ্গে হয়ে কয়েক শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ ও কয়েক কিলোমিটার চওড়া গভীর খাদ তৈরি করেছিল বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। আগে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন মঙ্গলের ওইসব গভীর খাদ লাখ লাখ বছর আগে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। নতুন গবেষণায় নাসা’র মার্স রিকোননেইসেন্স অরবিটার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হাই রেজুলেশন ছবি তোলা হয় মঙ্গল পৃষ্ঠের। গবেষকরা ওই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ২৪টি গর্ত ও গভীর খাদের ওপর গবেষণা চালায়। সেসবের মধ্যে জেজেরো ক্রেটার নামের একটি প্রাচীন হ্রদও আছে। মঙ্গলে আগে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা, তা জানার জন্য সেখানে ২০২০ সালে নাসা আবারও মহাকাশযান পাঠাবে। ড. গজ ও নাসা’র বিজ্ঞানী ড. কালেব ফ্যাসেট ওই প্রাচীন লেকের ওপর গবেষণা চালানোর প্রস্তাব দেন। কারণ সেখানে মঙ্গলের অন্য সব এলাকার তুলনায় বেশিদিন পানি ছিল।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ