Home > তথ্য ও প্রযুক্তি > ফুটন্ত পানির রহস্যময় নদীর ভিডিও প্রকাশ

ফুটন্ত পানির রহস্যময় নদীর ভিডিও প্রকাশ

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি : 

আমাজনের গভীর জঙ্গলে ফুটন্ত পানির নদীর অস্তিত্ব অতীতের গল্প হিসেবে প্রচলিত ছিল। কিন্তু ভয়ংকর সেই নদী জঙ্গলের মধ্যখানে আবিষ্কার হয়েছে। এই নদীর পানি এতই গরম যে, ভিকটিমকে সেদ্ধ করে ফেলতে পারে।

ফুটন্ত পানির এই নদীটিকে বিশ্ব নজরে নিয়ে আসেন এমন একজন বিজ্ঞানী, যিনি নিজেই কখনো বিশ্বাস করতেন না যে, এমন নদীর অস্তিত্ব পৃথিবীতে থাকতে পারে। তার দেখা অবিশ্বাস্য উত্তপ্ত নদীটির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ফুটেজ সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

ভূবিজ্ঞানী আন্দ্রে রুজো এই নদীটির সন্ধান পান পেরুর মায়ানতুয়াকু অঞ্চলে এবং শর্ট ফ্লিমটির প্রযোজনা করে গ্রেট বিগ স্টোরি। নদীটির নাম সানায়-তিমপিসকা, স্থাণীয়দের ভাষায় যার অর্থ সূর্যের তাপের সঙ্গে ফুটন্ত।

এই ভূবিজ্ঞানী বলেন, ‘এই নদী থেকে আসা বাতাস এতই গরম যে, আপনার মনে হবে আপনার নাক এবং ফুসফুস পুড়ে যাচ্ছে।’

ভিডিও ফুটেজটিতে রুজো বলেন, নদীটির পানির তাপমাত্রা তিনি পরিমাপ করে দেখেছেন ২৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। দৈনন্দিন উদাহারণ দিয়ে বোঝাতে গেলে বলতে হয়, কফি তৈরির গড় তাপমাত্রা ১৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। তাই এই নদীর পানি কতটা গরম তা শারীরিকভাবে কল্পনা করাটাও কঠিন।

তিনি বলেন, ‘এর পানিতে হাত ডুবালে দেখতে পাবেন আপনার হাত দ্বিতীয় ডিগ্রি বা তৃতীয় ডিগ্রি মাত্রায় পুড়ে গেছে সেকেন্ডের মধ্যেই। আমি নিজের চোখে এই নদীতে পাখি থেকে শুরু করে সরীসৃপ পর্যন্ত বিভিন্ন কিছু পড়ার পর সেদ্ধ হয়ে যেতে দেখেছি।’

নদীটিকে নিয়ে ‘দ্য বয়লিং রিভার’ নামক একটি বই লিখেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সাউদার্ন মেথডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপ্রকৃতিবিদ্যার পিএইচডি ছাত্র হিসেবে, রুজো নিজের গবেষণার জন্যই নদীটির খোঁজ করতে চেয়েছিলেন। অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় থাকা সত্ত্বেও, তিনি ২০১১ সালে তার আন্টির তত্ত্বাবধানে আমাজনের গভীর জঙ্গলে হাইকিং করেন।

রুজো জানান, তিনি মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলেন আমাজনের কথিত উত্তপ্ত নদী দেখার জন্য কিন্তু যা দেখিছিলেন তা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। মায়ানতুয়াকু অঞ্চলের অধিবাসীদের পবিত্র হিলিং এলাকায় তিনি চার মাইল দীর্ঘ গরম পানির নদী আবিষ্কার করেন। নদীটি বহু আগে থেকেই পেরুতে কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত কিন্তু এই ভূবিজ্ঞানী যখন নদীটির ব্যাপারে শুনতে পান, তখন ভেবেছিলেন এ ধরনের নদীর অস্তিত্ব থাকতে পারে না। কারণ ছোট একটির নদীর পানিকেও গরম করতে বিশাল ভূ-তাপের প্রয়োজন। আর আমাজনে এমন নদীটা থাকাটা অসম্ভব, কারণ আমাজন কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে দূরে অবস্থিত।

এরপর ২০১১ সালে ভূ-বিজ্ঞানী হিসেবে ‍রুজো সর্বপ্রথম নিজের চোখে এই নদী দেখেন। নদীটি ৮২ ফুট (২৫ মিটার) লম্বা এবং প্রায় ২০ ফুট (ছয় মিটার) গভীর। এই নদীর পানি ফুটন্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে, ফল্ট-ফেড হট স্প্রিংস।

কিছু কারণে নদীটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার হাত দূরে রয়েছে কিন্তু বিজ্ঞানী রুজো পরিবর্তন আনার জন্য একটি মিশনে কাজ করছেন এবং চেষ্টা করছেন প্রাকৃতিক এই আশ্চর্যটিকে সংরক্ষণ করার। নদীটির আশপাশের বনের গাছ ইতিমধ্যে কেটে ধ্বংস করা হয়েছে এবং যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এক সময় পুরো অঞ্চলটিই হারিয়ে যাবে।

রুজো মায়ানতুয়াকু অঞ্চলের এই নদী সম্পর্কে প্রথম শুনেছিলেন তার পিতামহ এর কাছ থেকে যখন তার পিতামহ একটি গল্প বলছিলেন যে, কিভাবে স্প্যানিশ বাহিনী অতীতে ইনকা সম্রাটকে হত্যা করেছিল। কথিত আছে যে হত্যার পর, স্প্যানিশ বাহিনী স্বর্ণ সন্ধানে আমাজন রেইন ফরেস্টের মধ্যে হুমড়ে পড়েছিল। যখন তারা বাড়ি ফিরে তখন পুরুষেরা একটি ভয়ানক অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করেছিল যে তারা ঐখানে বিষাক্ত জল, মানুষ খেকো সাপ এবং এমন একটি নদী দেখেছে যে এর পানির মধ্যে যেকোনো কিছু পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধ হয়ে যায়।

১২ বছর পরে একটি পারিবারিক ডিনারে রুজো আবার ওই নদীর কথা শুনেন তার আন্টির কাছ থেকে যিনি নদীটি ইতিমধ্যেই দেখে এসেছিলেন।

 

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ