Home > তথ্য ও প্রযুক্তি > পৃথিবীর বাইরে কোথায় লেক রয়েছে?

পৃথিবীর বাইরে কোথায় লেক রয়েছে?

পৃথিবীতে রয়েছে হাজারো বড় ছোট লেক বা হ্রদ। মূলত হ্রদ হল ভূ-বেষ্টিত লবণাক্ত বা মিষ্টি স্থির পানির বড় আকারের জলাশয়।

লেক উপসাগর বা ছোট সাগরের মতো কোনো মহাসমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে না, তাই এতে জোয়ার ভাটা হয় না। সরাসরি বৃষ্টিপাত ও হ্রদে পতিত হওয়া নদী বা অন্য জলধারা লেকের পানির সরবরাহ করে।

তবে বর্তমান পৃথিবীতে শুধু প্রাকৃতিক লেকই দেখতে পাওয়া যায় না, শিল্প শক্তি উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ জল সরবরাহ, কৃষি কার্যক্রম প্রভৃতির সুবিধার্থে নির্মিত কৃত্রিম লেকের দেখাও পাওয়া যায়। কিন্তু নাসার বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরেও বেশকিছু লেকের সন্ধান পেয়েছেন। পৃথিবীর বাইরে খোঁজ পাওয়া কিছু লেক নিয়ে এ প্রতিবেদন।

* ক্রাকেন মারে : ক্রাকেন মারে হল শনির সবচেয়ে বড় চাঁদ টাইটানের বৃহত্তম জলাময় স্থান। এমনকি এটাকে পৃথিবীর কাসপিয়ান সাগরের থেকেও বড় মনে করা হয়। এই ক্রাকেন মারে লেকের নামকরণ করা হয়েছে নরওয়েজিয়ান উপকূলের সমুদ্রদেবতা ক্রাকেন এর নামে। ২০০৮ সালে ক্যাসিনি মহাকাশযান সর্বপ্রথম টাইটানের গায়ে এই বিশাল লেক আবিষ্কার করে। এর আয়তন প্রায় ১,৫৪,৪৪১ বর্গকিলোমিটার। লেকটির গভীরতা ১৭৫ গজ। এছাড়া এতে যে তরল পদার্থ রয়েছে তার ধীর ঢেউয়ের সন্ধানও পাওয়া গিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন এই লেকে যে তরল পদার্থ রয়েছে তার মূল উপাদান হল হাইড্রোকার্বন। নাসা বলছে, লেকটি সম্পর্কে আরো তথ্য সংগ্রহ করতে তারা একটি তদন্ত মিশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই করেছে।

* লিজিয়া মারে : গ্রিক পৌরাণিক কাহিনির একটি চরিত্র লিজিয়ার নামে নামকরণ করা লেক লিজিয়া হল শনির উপগ্রহ টাইটানের দ্বিতীয় ব্রহত্তম লেক। এটি টাইটানের উত্তর মেরুতে অবস্থিত। এই লেকে হাইড্রোকার্বন, মিথেন, নাইট্রোজেন, এবং ইথেন রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। লিজিয়া মারে দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে যথাক্রমে ২৬০ এবং ২১৭ মাইল। এছাড়া লেকটির চারিদিক জুড়ে রয়েছে ১২৪০ মাইল উপকূল। আয়তনে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় লেক ‘লেক সুপিরিওর’ এর থেকেও বড় লিজিয়া মারে। এর সর্বাধিক গভীরতা হল ২১৯ গজ এবং গড় গভীরতা হল ৫৪.৬ গজ। লেকটির মোট তরলের পরিমাণ প্রায় ১৬৭৯ ঘনমাইল।

* লোকি প্যাটেরা : বৃহস্পতির চাঁদ আইওতে অবস্থিত লেক লোকি প্যাটেরার নামকরণ করা হয়েছে নরওয়েজিয়ানদের ঈশ্বর লোকির নামে। লোকি প্যাটেরাকে বলা হয় আইও’র একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির বিষণ্নতা। অর্থাৎ একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি থেকেই এই লেকের উৎপত্তি। যে কারণে এই লেককে লাভার লেক-ও বলা হয়। সৌরজগতের মধ্যে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি লাভা রয়েছে এই লেকে। নাসা বলছে, ভূগর্ভস্থ ম্যাগমাও এই লেকের লাভার সঙ্গে যুক্ত। যে কারণে প্রতিনিয়ত এই লেক থেকে উচ্চতাপ নির্গত হয়।

লোকি প্যাটেরা, লিজিয়া মারে বা ক্রাকেন মারের মতো সৌরজগতের অন্যান্য বিভিন্ন গ্রহ চন্দ্র এবং গ্রহাণুতে লেকের সন্ধান পেয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ এবং গ্রহাণুর বিভিন্ন গঠন ও বৈশিষ্ট্যের কারণে এইসব লেকের জন্ম হয়। তবে সব লেকেই পৃথিবীর মতো সমান পানি নেই। যেসব পদার্থ রয়েছে তাদের অনুপাতও সবখানে সমান নয়। তবে শুধু পৃষ্ঠদেশিয় লেক নয় পৃথিবীর বাইরে ভূগর্ভস্থ লেকেরও সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিছুদিন আগে মঙ্গলে এমন লেকের সন্ধান পাওয়া গেছে। যদিও সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি কিছু জানতে পারেননি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন সৌরজগতের অন্য গ্রহ এবং চাঁদে ভূগর্ভস্থ লেক রয়েছে। আর সেগুলোতে যদি পানির সন্ধান পাওয়া যায় তাহলে সেখানে জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে এর জন্য দরকার আরো নতুন আবিষ্কার, নতুন অভিযান এবং প্রচুর সময়।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ